মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

গর্ভেই খুন ভ্রূণ! উইঘুরদের ওপর অত্যাচারের নয়া রিপোর্ট প্রকাশ্যে

ভয়ে প্রতিদিন গর্ভপাত করাচ্ছেন হাজারো মহিলা 

বেজিং, ৩০ জুন: সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী উইঘুরদের জন্মহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে অমানবিক পদক্ষেপ নিয়েছে চিন। নতুন তদন্তে দেখা গেছে, মুসলমান জনসংখ্যা সীমিত রাখতেই উইঘুর নারীদের বিস্তৃত ও কাঠামোগতভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকী গর্ভপাতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার মহিলা। সরকারি পরিসংখ্যান, রাষ্ট্রীয় নথি, প্রাক্তন বন্দি, পরিবারের সদস্য এবং আটক শিবিরের প্রাক্তন পরামর্শকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। তবে একে ‘ফেইক নিউজ’ বা ভুয়ো খবর বলে উডি.য়ে দিয়েছে চিনের বিদেশমন্ত্রক। চিনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর অত্যাচারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বহুবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা চিনা মুসলিমদের উপর নিদারুণ অত্যাচারের বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। এই বিষয়ে চিনকে সতর্কও করেছে বিট্রেন ও আমেরিকা। তবে ফের উইঘুর সম্প্রদায়ের মহিলাদের উপর চিনা সরকারের অত্যাচারের কাহিনী প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে দুনিয়া জুড়ে। যদিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্যকে অসত্য বলে দাবি করেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী। এই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গোটা বিষয়টিকে ভুয়ো বলে এড়িয়ে যান তিনি। যদিও মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চিনের 'এক সন্তান' নীতির ফলে উইঘুর মুসলিম মহিলাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কেউ একের বেশি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে বিভিন্ন রকম হুমকি,জরিমানা এবং সারাজীবন হাজতবাসের ভয় দেখানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, চিন দেশে এক সন্তান নীতি কার্যকর করতে উইঘুরসহ সংখ্যালঘু মুসলিম নারীদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। এমনকি তাঁরা অন্তঃসত্ত্বা কিনা? তা জানতে টেস্টও করা হচ্ছে। আর কেউ গর্ভস্থ অবস্থায় ধরা পড়ে গেলে তাঁর ভ্রুণ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে গর্ভেই।  

আর চিনের বর্বরতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে সব মহলেই। চিনা সরকারের এমন অমানবিক কাজকে বিশেষজ্ঞরা 'পরিকল্পিত গণহত্যা' বলে দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, গোটা চিন দেশে এক সন্তান নীতি পুরোদমে কার্যকর করতে প্রতিদিন অন্তত এক হাজার মহিলার ভ্রূণ হত্যা করা হচ্ছে। এমনকি বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে কারও এক বা দুইয়ের বেশি সন্তান রয়েছে কিনা, এছাড়াও কেউ দুইয়ের বেশি সন্তান লুকিয়ে রেখেছে কিনা। আর কেউ যদি ধরা পড়ে যায় তাহলে তাকে দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা অথবা খাটতে হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

চিনের পশ্চিমাঞ্চল শিংজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী এই উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিমদের জীবনে গত তিন চার বছর ধরে অত্যাচার নিপীড.ন বেডে.ছে পাল্লা দিয়ে। চিনের নিয়ম অমান্য করলে বা ধরা পড়লে রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। চিন সরকারের এই নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলগুলিও। তবু পিছু হটতে নারাজ চিন। চিনা বংশোদ্ভূত উইঘুর মুসলিম ওমির যখ জানিয়েছেন, তাঁর তৃতীয় সন্তান জন্মানোর আগে তার স্ত্রীকে ভ্রূণ হত্যা করানোর নিদান দেওয়া হয়েছিল এছাড়াও একের বেশি সন্তান নেওয়ার অপরাধে তাঁকে তিন বছর জেলে থাকতে হয়েছিল। আর গত বছর জেল থেকে পালিয়ে আসার পর সরকার তাঁকে ২.৬৮৫ডলার জরিমানা করে। শুধু তাই নয়, সরকারের অত্যাচারের ভয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মহিলা শিংজিয়াং প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গর্ভপাত করাতে যান বলে জানা গিয়েছে। আর এই চিত্রটা শুধু উইঘুরদের জন্য নয়, চিনা প্রেসিডেন্ট এক সন্তান নীতি সকল চিনা নাগরিকদের জন্য জারি করেছেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only