মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

‍‌‌‌‌‌‌’আইন মেনে চললেই শাস্তি দেয় আমেরিকা’ তীব্র সমালোচনা জারিফের

তেহরান, ৩০ জুন: আমেরিকা নিজেই আইন লঙ্ঘনকারী দেশ। নিজে ইচ্ছা করে ভুল করে অন্য দেশকেও সেই ভুলের ভাগিদার বানানোর নীতিতে সিদ্ধহস্ত ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে, তাই অন্য দেশগুলোকেও এই সমঝোতা লঙ্ঘনের আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অনৈতিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী মুহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ। সোমবার রাতে এক ট্যুইট বার্তায় এ সমালোচনা করার পাশাপাশি মার্কিন সরকারের বলদর্পী মনোভাবেরও তীব্র নিন্দা জানান।

জারিফের ট্যুইটে বলা হয়েছে, আমেরিকা শুধু নিজে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায়নি বরং অন্য দেশগুলোকেও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই সমঝোতা লঙ্ঘনে বাধ্য করছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রসংঘের ইতিহাসে আমেরিকা প্রথম কলঙ্কিত দেশ যে কিনা রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব মেনে চলার দায়ে বিভিন্ন দেশকে শাস্তি দিয়েছে। ২০১৫ সালে  আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, চিন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিলে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সই করে। এটি সই করার এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পাস করে সমঝোতাটিকে আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত করা হয়।

 কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের ৮ মে গায়ের জোরে ওই প্রস্তাব লঙ্ঘন করে পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের করে নেন এবং একই বছরের নভেম্বরে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের একতরফা সব নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেন। ট্রাম্প গত দুই বছর ধরে এ সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি দেশগুলোকেও এটি লঙ্ঘনে বাধ্য করে এসেছেন। আমেরিকার চাপের মুখে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি দেশগুলো ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পালন করলেও একইসঙ্গে এসব দেশ মৌখিকভাবে এই সমঝোতা রক্ষা করার কথা বলে আসছে। এখনও পর্যন্ত আমেরিকা ছাড়া অন্য কোনও দেশ এই সমঝোতা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলেনি বরং এই সমঝোতা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে চলেছে ইইউ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only