রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

লাদাখ সীমান্তে শহিদ ল্যান্স নায়েক সেলিম খান, শোকবিহ্বল পঞ্জাবের গ্রাম

পুবের কলম,  চণ্ডীগড়: লাদাখ সীমান্তে তিনি ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী৷ শত্রুর হাত থেকে প্রিয় দেশকে রক্ষা করবার জন্যই নিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর চাকরি৷ সেই কাজেই চিনা-ভারত সীমান্তে এক সেনা অভিযান চলাকালীন শুক্রবার শহিদ হলেন ল্যান্স নায়েক সেলিম খান৷ শনিবার পঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার মারদাহারি গ্রামের নিজ ভূমিতে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়৷ শোকগ্রস্ত গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজনরা এই মহান সেনাকে বিদায় জানাতে জানাযায় হাজির ছিলেন৷ মাত্র ২৪ বছর বয়সেই দেশের জন্য জীবন দিলেন এই সাহসী সেনা৷

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় সেনাতে কাজে যোগ দেন সেলিম খান৷ বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ার গ্রুপে তার নিয়োগ হয়৷ বেশ কিছুদিন থেকে চিনা সীমান্ত সরগরম৷ ২০ জন সেনার মৃত্যুর পর থেকেই এলএসিতে বাড়ছে সেনাবাহিনীর ভারি বুটের আওয়াজ৷ গত ২৫ জুন লাদাখ সেক্টরে শিয়ক নদীর কাছেই কাজ করছিলেন তিনি৷ সেখানেই উদ্ধার কাজের সময় তার নৌকা ডুবে যায়৷ পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং জানান, সেলিম খানের মৃত্যুতে গভীর শোকগ্রস্ত৷ তার পরিবারের প্রতি আমার একান্ত সমবেদনা৷ জাতি এই সাহসী সেনাকে স্যালুট জানাচ্ছে৷ জয় হিন্দ!  মুখ্যমন্ত্রী সিং এদিন শহিদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেবার কথা ঘোষণা করেন৷ খানের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরিরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি৷

ল্যান্স নায়েক সেলিম খানের বাবা মঙ্গল দিনও সেনাবাহিনীতে কাজের মাধ্যমে দেশের সেবা করেছেন৷ বাবার কাছ থেকেই দেশকে ভালোবাসার মন্ত্র পেয়েছিলেন সেলিম খান৷ শনিবার দেশের জাতীয় পতাকায় মোড়া লাশ গ্রামে পৌঁছাতেই সবাই 'সেলিম খান অমর রহে', 'ভারত মাতা কি জয়' ইত্যাদি স্লোগানের মাধ্যমে তাকে সম্মান জানাতে থাকে৷ গ্রামবাসীরা তাকে বহন করে আনা গাড়িতে ফুল ছুড়ে শ্রদ্ধা জানায়৷ পাতিয়ালার গ্রামে জানাযার আগে সেনবাহিনীর পক্ষ থেকে সেলিম খানের মায়ের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only