শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

চীনা দ্রব্য বয়কটের দাবি, বাস্তবতা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ বিভিন্ন মহল

এস জে আব্বাস, শক্তিগড়: করোনা নিয়ে যখন গোটা দেশ আতংকে দিশেহারা,তখন আবার শুরু হল চিন আতঙ্ক। চিনের সাথে বিরোধের জেরে  চীনা দ্রব্য বয়কটের আওয়াজ উঠেছে গোটা দেশ জুড়ে। শুরু হয়ে গেছে জায়গায় জায়গায় চীনা দ্রব্য পুড়িয়ে প্রতিবাদ । রাজনৈতিক দল গুলির পাশাপাশি ব্যবসায়িক সংগঠনের পক্ষ থেকেও ভারতের ওপর চীনা হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও  এই বয়কট বাস্তবে কতটা  সম্ভব তা নিয়ে রীতিমত বিতর্ক দেখা দিয়েছে। 

বর্ধমান জেলা ব্যবসায়ী সুরক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বেশ্বর চৌধুরী জানান, 'তাঁরা গোটা জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন রেখেছেন চীনা দ্রব্য বিক্রি না করার জন্য। তাঁরা ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন, নতুন করে কোনো ব্যবসায়ী যাতে চীনা দ্রব্য না কেনেন।' তবে, ইতিমধ্যেই বহু ব্যবসায়ী মোটা পুঁজি লাগিয়ে বিভিন্ন চীনা দ্রব্যকে মজুদ করেছেন, সেগুলি কি করবেন তা নিয়ে বিরাট দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। এদিকে, খোদ ব্যবসায়ী মহলের দাবী, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় কমবেশি প্রতিটি বাড়িতেই ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশেরও বেশি চীনা দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। 

প্রতিদিন যে ওষুধের প্রয়োজন হয় তারও কাঁচামালের ৬০ – ৭০ শতাংশ আসে চীন থেকে। ফলে ওষুধ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও সেই একই চিন্তা দেখা দিয়েছে। ওষুধের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে বা বিশেষতই মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে চীনা প্রভাব ৮০ শতাংশেরও বেশি। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই বয়কটের প্রসঙ্গে কার্যত দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী মহল।এদিকে, পূর্ব বর্ধমান চেম্বার অব ট্রেডার্সের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রবিজয় যাদব জানিয়েছেন, বর্ধমানের ব্যবসায়ীদের কাছে চীনা সামগ্রী বয়কট করার আবেদন করেছেন তাঁরাও। 

প্রসঙ্গত শুধু ওষুধ শিল্পেই নয়, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স জগতে, খেলনা সহ গৃহস্থালী সরঞ্জাম, গৃহসজ্জাতেও আজ রীতিমত সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে চিনা দ্রব্য। কাপ-ডিস থেকে হাতের মোবাইল ফোন, এমনকি শিশুদের খেলনাও এখন চীন থেকে আমদানী করা হয়। ফলে এগুলিকে বয়কট করতে গেলে রীতিমত অর্থনীতিতে ধ্বস নামতে বাধ্য। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অর্থনীতির অধ্যাপক ভাস্কর গোস্বামী জনিয়েছেন, ভারতবর্ষে জিএসটি, নোটবন্দি প্রভৃতির মধ্যে দিয়ে অর্থনীতিতে ধ্বস অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এখন করোনা আবহে সেই ধ্বস আরও চওড়া করেছে। চলতি সময়ে করোনা নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল আর আতংকে দিশেহারা। কেন্দ্র বা রাজ্য কোনো সরকারই কার্যত করোনার চিকিৎসা নিয়ে সদুত্তর দিতে পারছেন না, সেই সময়  চীনা দ্রব্য বয়কটের মত পদক্ষেপ নেওয়া মূর্খামি ছাড়া কিছু নয়।

তিনি আরও জানিয়েছেন, একদিকে যখন বিশ্বায়নের কথা বলা হচ্ছে, সেইসময় কোনো একটি দেশের মালকে বয়কট করাটা কোনো সুচিন্তিত পদক্ষেপ নয়। সব থেকে বড় যেটা বিষয় বিছিন্নভাবে বয়কটের আগে কোনো বিদেশী পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের উচিত সেটা  বন্ধ করা। কিন্তু এখনও সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, ফলে চীনা দ্রব্য বয়কটের মধ্যে দিয়ে এখনই নতুন করে অর্থনীতিতে ধ্বস নামার কিছু নেই। কারণ ভারতীয় অর্থনীতিতে ধ্বস আগেই নেমে গেছে। 

তবে, চীনা দ্রব্য বয়কটের যে হুজুগ দেখা দিয়েছে সে বিষয়ে এখনও জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো নির্দেশ না আসলেও  খুব শীঘ্রই হয়ত এই ধরণের নির্দেশ চলে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only