শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

আজ বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস ৭ কোটি ৯৫ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত

অস্ত্রধারীরা তাদের দেশ থেকে ৭৯.৫ মিলিয়ন  সাধারণ মানুষকে তাডি.য়ে দিয়েছে।  আঞ্চলিক শক্তিধররা যেন নীরব দর্শক। জাতীয়তাবাদী  আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা চলছে।-নরওয়ের উদবাস্তু পরিষদের মহাসচিব জান ইগল্যান্ড

অসলো, ১৯ জুন: বিশ্বের ধনী দেশগুলো উদ্বাস্তুদের দেখে সীমান্তে দেওয়াল তোলা বন্ধ করুক। এই মুহূর্তে মধ্যবিত্ত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি উদ্বাস্তুদের আশ্রয় প্রদান করেছে। বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবসে এমনই মন্তব্য করলেন নরওয়ের উদবাস্তু পরিষদের মহাসচিব জান ইগল্যান্ড। এরপর তিনি রাষ্ট্রসংঘ প্রকাশিত উদ্বাস্তু রিপোর্ট নিয়ে কথা বলেন। জান মনে করিয়ে দেন যে, মধ্যবিত্ত হওয়া সত্ত্বেও উদারতার পরিচয় দিয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক উদ্বাস্তুকে নিজ দেশে আশ্রয় দিয়েছে তুরস্ক।   

রাষ্ট্রসংঘের উদ্বাস্‌তু সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বৈশ্বিক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সাল শেষে সারাবিশ্বে ৭ কোটি ৯৫ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিল। ইতিহাসে এর আগে এত মানুষ কখনও গৃহহারা ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এর আগের বছর ৭ কোটি ৮ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত দেখানো হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বের এক শতাংশেরও বেশি মানুষ– প্রতি ৯৭ জনে ১ জন বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। আর স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের সুযোগও দিনদিন কমে আসছে। 

বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবসের দুইদিন আগে প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের বার্ষিক গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের শেষে সারা পৃথিবীতে ৭ কোটি ৯৫ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন। রাষ্ট্রসংঘ উদ্বেগের সহিত জানাচ্ছে, শরণার্থীদের দুর্দশার দ্রুত সমাপ্তির আশাও দিনদিন কমে আসছে। ৯০-এর দশকে, প্রতি বছর গড়ে ১৫ লক্ষ মানুষ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরতে পারতেন। 

গত দশকে এই সংখ্যা কমে ৩ লক্ষ ৯০ হাজারে পৌঁছেছে। গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৭ কোটি ৯৫ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৫৭ লক্ষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন নিজ দেশের ভেতরে। বাকিরা বাধ্য হয়েছেন দেশ ছাড়তে, যার মধ্যে ২ কোটি ৯৬ লক্ষ উদ্বাস্তু, আর ৪২ লক্ষ মানুষ অন্য কোনও দেশে আশ্রয়ের আবেদন করে ফলাফলের অপেক্ষা করছেন। রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘পরিবর্তিত বাস্তবতায় আজ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতির পরিমাণই যে শুধু বেড়েছে তা নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদী। নিজ দেশে প্রত্যাবাসন কিংবা নতুন কোথাও ভবিষ্যত গড়ে তোলার কোনও আশা ছাড়া এসব মানুষ বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছে অনিশ্চয়তায়, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

শরণার্থীদের জন্য প্রয়োজন একেবারে নতুন ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি। এর সঙ্গে সঙ্গে তাদের দুর্ভোগের মূলে থাকা বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা সংঘাতগুলোর সমাধানে চাই দৃঢ় প্রত্যয়।’ উদ্বাস্তু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাটি ক্রমান্বয়ে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দুইটি বিষয়কে উল্লেখ করে। অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক ও মঙ্গোলিয়ার মোট জনসংখ্যার যোগফলের চেয়েও বেশি সংখ্যক শিশু আজ বাস্তুচ্যুত। তাদের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৪০ লক্ষ, যার মধ্যে লক্ষ লক্ষ শিশু অভিভাবকহীন।  তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি উদ্বাস্তু (৭৭ শতাংশ) দীর্ঘমেয়াদী সংকটে আটকে আছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আফগানিস্তান সংকটের এখন পঞ্চম দশক চলছে। সেদেশের প্রতি ১০ জনে গড়ে আট জনেরও বেশি (৮৫ শতাংশ) উদ্বাস্তু এখন আছে উন্নয়নশীল দেশে। সাধারণত প্রতিবেশী দেশেই তারা আশ্রয় নেন। প্রকাশিত রিপোর্টে, বিশ্বের সব দেশকে সংঘাত, নিপীড়ন বা অন্য হুমকির কারণে উদ্বাস্তুদের নিরাপদ আশ্রয় ফিরে পেতে সাহায্য করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only