শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

কুরবানি বা হজের অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার শরিয়ত-সম্মত নয়ঃ উলামা ও বুদ্ধিজীবীরা

আবদুল ওদুদ
কুরবানির অর্থ কেবলমাত্র কুরবানির কাজেই ব্যবহার করতে হবে। কুরবানির অর্থ কোনও সমাজসেবা বা চ্যারিটেবল ট্রাস্টকে দিয়ে বিতরণ করা যায় না, কিংবা কুরবানি না করে তার অর্থ গরিব-দুস্থকে বিলি করা ইসলামি শরিয়ত মতে জায়েয নয়। কেউ যদি সমাজসেবা করতে চান, তাহলে কুরবানির অর্থ দিয়ে নয়, নিজের অন্য তহবিল থেকে দান করুন। শুক্রবার এ কথা জানান, কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমি। রাজ্যের কথিত কয়েকজন মুসলিম বুদ্ধিজীবী সংবাদপত্রে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এবং আমফানে দুর্গতদের মধ্যে কুরবানির অর্থ দান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
মাওলানা শফিক কাসেমী জানান, ‘কুরবানির অর্থ অন্য কাজে জায়েয নয়, কুরবানি ওয়াজিব। কাজেই কুরবানির অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, কুরবানি বন্ধ করে কেউ যদি সেই অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করতে চান, তাহলে তা ওই ব্যক্তির কুরবানি হিসেবে আল্লাহর দরবারে গ্রহণ হবে না। ওই ব্যক্তি যদি দান করতেই চান, অন্য অর্থ দিয়ে সমাজসেবা করুন। যাঁরা এই ধরনের বিবৃতি দিয়েছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে ইমাম সাহেব বলেন, কুরবানি কী আগে জেনে বিবৃতি দিন, এমন কোনও বিবৃতি দেবেন না যাতে কুরবানি সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রখ্যাত আলেম এবং ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ইসহাক মাদানী বলেন, কুরবানি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত। হযরত ইব্রাহিম (আ.), হযরত ইসমাইল (আ.)-এর জামানা থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামানাতেও পর্যন্ত প্রচলিত বিধান। কাজেই কেউ এ নিয়ে নিজের মতো বিবৃতি দিয়ে ইসলামি বিধানকে কখনও বদলাতে পারেন না। মাওলানা ইসহাক মাদানী বলেন, এই ধরনের বার্তা সম্পূর্ণ ভুল। কুরবানি একটি সুন্নতি কাজ। কেউ যদি কুরবানি না করেন, তাহলে কিছু যায় আসে না। নজির আছে হযরত ওমর (রা.) কয়েকবার কুরবানি করেননি। 

কাজেই কুরবানি না করলে গুনাহ্ হয়ে যাবে এমনটা নয়। মাওলানা ইসহাক মাদানী আরও বলেন, ‘আমি যখন কুরবানি সম্পর্কে কোনও ফতোয়া প্রদান করব, তখন আমি নিয়মদাতা। কাজেই আমি যে নিয়ম তৈরি করছি, ইসলাম অনুযায়ী সেই নিয়ম তৈরি করার ক্ষমতা আমাদের কারও নেই। মনে রাখতে হবে এটা একটি সুন্নতি আমল। আমাদের যদি দান করতেই হয়, তাহলে কুরবানির অর্থ নয়, অন্য অর্থ দান করব। কুরবানি ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত, যেহেতু সুন্নতি কাজ, কাজেই কেউ সুন্নত পালন না করে তাহলে বড় গুনাহ্গার হবেন না। ফলে কুরবানির পরিবর্তে কোনও সংস্থাকে অর্থ দান করা শরিয়ত সম্মত নয়, বরং শরিয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত।
মুসলিম বুদ্ধিজীবী এবং দৈনিক পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক জনাব আহমদ হাসান ইমরান বলেন, ইসলামে গরিব-দুর্গত এবং অভাবীকে সাহায্য করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকী লজ্জা বা সম্মানের খাতিরে যাঁরা কারও কাছে হাত পাতেন না কিন্তু অভাব রয়েছে, তাঁদেরকেও সাহায্য করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কাজেই কেউ যদি নিজের অর্থ গরিব-দুঃখী ও বিপন্ন মানুষের প্রয়োজনে দান করেন, তা শরিয়ত মতে খুবই পুণ্য বা সওয়াবের কাজ। কিন্তু এজন্য নিয়ত করা কুরবানির অর্থ দান, সাহায্য ও অন্য মহৎ কাজে ব্যয় করা কখনোই শরিয়ত সম্মত নয়। এমনকী মসজিদ তৈরিতেও কুরবানির অর্থ ব্যবহার করার অনুমতি নেই।

জনাব আহমদ হাসান ইমরান আরও বলেন--- অনেককে বলতে শোনা যায়, হজ না করে, হজের অর্থ যদি গরিব-দুঃখীকে দান করা যায়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ খুশি হবেন। এটাও সম্পূর্ণ শরিয়ত বিরোধী কথা। হজ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। যখনই কোনও ব্যক্তির (তা সে পুরুষ হোক বা নারী) হজের সামর্থ্য হবে, তখনই ফরয হজ আদায় করা উচিত। হজের সঞ্চিত অর্থ যদি তা ঋণশোধ বা অন্য কোনও প্রতিবন্ধকতা না থাকে, আদায় করে নেওয়াই সঠিক কাজ। আর তা না করে হঠাৎ যদি তাঁর মৃত্যু ঘটে, তাহলে তিনি একটি ফরয কাজ থেকে বঞ্চিত রইল। অবশ্য অনেকে ফরয হজ করার পরও বারবার হজ করেন। সেই হজ না করলেও কোনও ক্ষতি নেই।

কাজেই কুরবানি কিংবা হজ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো উচিত নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only