সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০

আলিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েই পড়ুয়া ও শিক্ষকদের জন্য কাজ করবঃ নয়া রেজিস্ট্রার নুরুস সালাম



সৈয়দ নূরুস সালাম আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী রেজিস্ট্রার পদে নিযুক্ত হলেন। যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একগুচ্ছ ভাবনা ও জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন সেূ কুতুবউদ্দিন’কে।

সংখ্যালঘু এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামীতে কীভাবে কাজ করবেন?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে ‘এডুকেশন প্ল্যানিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ এবং পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টের আলাদা ডিগ্রি রয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও এই কোর্সের ভিত্তিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব সামলেছি। এটা একটি সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান। এর আগেও সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদ্রাসাগুলির কাজকর্ম করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে আপনার দায়িত্ব সামলাবেন?

কাজ করতে করতে শিখেছি এবং দেখেছি, মানুষ যদি স্বচ্ছ হয় তাহলে কাজ আরও সহজ হয়ে যায়। আলিয়াতে এসেছি নিজের জন্য নয়–উন্নয়নমূলক কাজকর্মে অংশ নিতে এসেছি। এটাও সহকর্মীদের বোঝাতে হবে। কাজ করার সময় অনেক ক্ষেত্রে মানুষ অবিশ্বাস করবে, তাঁদের বোঝাতে হবে। কোনও কাজ করতে গেলে সব ক্ষেত্রে যে সাফল্য মিলবে,তা একেবারে মনে করলে চলবে না।

পড়ুয়াদের নিয়ে কী ভাবনা রয়েছে?

পড়ুয়াদের সুবিধা-অসুবিধার জন্যই কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকরা। ছাত্ররা সব সময় আবেগপ্রবণ হয়। পড়ুয়াদের বিভিন্ন সমস্যা আসবে। সেই সমস্যা মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে। সেইসঙ্গে ছাত্রদের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে এবং তাদের বোঝাতে হবে। ছাত্রদের কোনও কাজ যদি নাও করে দিতে পারি– তাদের বোঝাতে হবে ‘এটা অন্যায় আবদার করছ। এটা আইনের বাইরে। এটা পারব না।’ ছাত্রদের যদি বোঝাতে পারি, কেন আমি করতে পারছি না। তাহলে সমস্যা অনেকটাই কমবে।

সহকর্মীদের নিয়ে কীভাবে কাজ করবেন? 

কোনও কিছু ব্যক্তিগতভাবে নিলে হবে না। ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে একেবারেই ‘ইগনোর’ করতে হবে। অনেকেরই ‘ইগো’ থাকে। ‘আমি’ রেজিস্ট্রার হয়ে গিয়েছি– সেটা ভাবলে চলবে না। আমার কাজকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নিয়ে কী ভাবনা রয়েছে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কাজ অসম্পূর্ণ হয়ে রয়েছে। সেই কাজগুলি পূরণ করার চেষ্টা করব। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আলিয়াকে যাতে পরিকাঠামোগত আরও উন্নয়নের শিূরে পৌঁছে দিতে পারি,তাহলেই আমার জীবন সার্থক হবে।

নির্ধারিত সময়ে টাকা খরচ না হওয়ায় আলিয়ার বরাদ্দকৃত অর্থ ঘুরে গেছে এর আগে। এই নিয়ে কিছু বলবেন?

কোনও প্রকল্প বাস্তবে পরিণত করার জন্য সকলের সহযোগিতার প্রয়োজন। এককভাবে কিছু হয় না। তবে টাকা ফেরত যাওয়া দুর্ভাগ্যের। যাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ফিরে না যায়, সেই জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করলে তা রোূা সম্ভব হবে। সর্বশিক্ষা অভিযানে হাজার হাজার কোটি টাকা আসত। আমরা আগে থেকে প্ল্যান করে রাূতাম। টাকা ফেরত যেত না। সর্বশিক্ষা অভিযানের টাকা দিয়েই ৬২ হাজার প্যারাটিচার্স, মাদ্রাসায় কিছু শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব হয়েছিল। শুধু বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকর করা এবং অন্যান্য নতুন ভাবনাগুলি কীভাবে বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব হবে, সেই নিয়ে লেগে থাকতে হবে আমাদের। কোনও বিষয়কে এড়িয়ে গেলে চলবে না। 

শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা লাগু করা নিয়ে আলিয়ার শিক্ষকদের অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে কী বলবেন?

এই সমস্যা মোকাবিলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে সকলের সহযোগিতায়। তবে এই নিয়ে বেশি কিছু জানি না। আলোচনা করে তা বাস্তবে পরিণত করার চেষ্টা হবে। 
শিক্ষা দফতরের থেকে ‘লিয়েন’ নিয়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেছি। আলিয়ার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও প্রকল্পগুলি বাস্তবে পরিণত করব। আমার সঙ্গে কারও ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ হবে না আশা করছি। পরামর্শ হিসেবে বলা যেতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্পৃক্ত হলেই মানুষ বিশ্বাস করবে। আর শুধু আশ্বাস দিয়ে তা কাজে রূপান্তরিত না হলে মানুষের প্রতি আস্থা হারাবে। 

আপনার পরিবার নিয়ে যদি কিছু বলেন?

আমার এক ছেলে– এক মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। ছেলে জামিয়া মিল্লিয়ায় এমএসসির পড়ুয়া। মেয়ে আইসিএসই থেকে ৯৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে এ বছর উত্তীর্ণ হয়েছে। বাঁকুড়ার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে কলকাতায় দীর্ঘদিন কাটিয়েছি। তবে কলকাতায় নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। সল্টলেকের সরকারি আবাসনেই কাটছে আমাদের জীবন। 
    
আপনার অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন

এমএসসি পাশ করার পর প্রথমে বাঁকুড়া জেলার একশো বছর |র্ধ্ব পাঁচাল হাই স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞানের শিক্ষকতার সঙ্গে নিযুক্ত হন ১৯৮৬ সালে। প্রায় ছ’বছর শিক্ষকতার পর ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মুরারই-২ ব্লকে জয়েন্ট বিডিও হিসেবে নিযুক্ত হই। সেূান থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ একডুকেশন সার্ভিস’ পরীক্ষায় বসি। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৫ সালে বর্ধমানের জেলা স্কুল পরিদর্শক (ডিআই) হিসেবে নিযুক্ত হই। তার পর বিভিন্ন জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ডিআই পদে প্রায় ১০ বছর কাজকর্ম করি। 

এর পর পদন্নোতি হয়ে সর্বশিক্ষা অভিযানের ‘ডেপুটি স্টেট প্রোজেক্ট ডায়রেক্টর’ পদে নিযুক্ত হই। এই পদে থাকতে থাকতেই ‘পশ্চিমবঙ্গ এডুকেশন সার্ভিস’ থেকে ‘সিনিয়র এডুকেশন সার্ভিস পদে  ২০০৮ সালে নিযুক্ত হই। ২০১০ সালে  আমাকে মাদ্রাসা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে নিয়ে আসা হয়। মাদ্রাসা পর্ষদে থাকাকালীন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএড চালু হয়। বিনাপারিশ্রমিকে দু’টি ‘ব্যাচ’ও পড়িয়েছি। মাদ্রাসা বোর্ডে প্রায় ছ’বছর কাজ করার পর ডেপুটি ডিরেক্টর পদে ফের স্কুল এডুকেশন দফতরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বেসিক ট্রেনিং কলেজ, গভর্নমেন্ট, গভর্নমেন্ট এডেড কলেজগুলির দেূাশোনার দায়িত্বে ছিলাম। এমনকী সমস্ত স্কলারশিপের বিষয়ে রাজ্যের নোডাল অফিসারের দায়িত্বও সামলেছি। একাধিক বিষয়ে ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল গবেষণামূলক পেপারও রয়েছে।

গতবছর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সেই বিজ্ঞপ্তির আবেদনের ভিত্তিতে আলিয়ার এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে আমাকে রেজিস্ট্রার পদে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার থেকে আলিয়ায় রেজিস্ট্রার পদে নিযুক্ত হয়েছি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only