বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

পরিযায়ী শ্রমিকদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগের দাবি নাগরিক সমাজের

আসিফ রেজা আনসারী
সার্বিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পরিযায়ী শ্রমিকদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের অধিকার দেওয়া হোক। এমনই দাবিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে কাছে আর্জি পেশ করল বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ সহ সমমনস্ক আরও কয়েকটি সামাজিক সংগঠন। ওই সংগঠনগুলির তরফে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে পরিযায়ী বা অভিবাসী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৫ কোটি। সংসারের বোঝা টানতে গিয়ে তাঁদের সারাবছর বাড়ির বাইরে কাজ করতে হয়। এমনকী নির্বাচনের সময়েও তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারেন না। 

এ প্রসঙ্গে কতকগুলি তথ্যও তুলে ধরেছে ওই সংগঠনগুলি। তাতে উল্লিখিত হয়েছে, ২০১২ সালের একটি সমীক্ষা বলছে দেশের প্রায় ৭৮ শতাংশ পরিযায়ী শ্রমিকের ভোটার কার্ড ও তালিকায় নাম রয়েছে। কিন্তু খরচের কথা ভেবে তাঁরা ভোট দিতে বাড়ি ফিরতে পারেন না। ফলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু সার্বিক ভোটদান না হলে সব নাগরিকের মতামত কী প্রতিফলিত হয়? এমনও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নাগরিক সমাজের তরফে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার এতদিন ধরে অভিবাসী শ্রমিকদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকারের কথা ভাবেনি, ফলতঃ তাঁরা গুরুত্বহীন এবং অবহেলিত হয়ে বিবিধ আর্থ-সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মানবাধিকার কর্মী  ও জাষ্টিস অ্যান্ড পিস-এর নেত্রী তিস্তা শীতলবাদ বলেন, শ্রমিকরা যদি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পান, তবে তাঁদের আর্থ-সামাজিক সমস্যাগুলি কোনদিনই সরকারিভাবে স্বীকৃত হবে না। রাজনীতিক দলগুলিও তাঁদের গুরুত্ব দেবে না। 

অন্যদিকে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম বলেন, দেশের একটা বড় অংশের মানুষ তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, ফলে তাঁদের দুঃখ-কষ্টের কথা প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। করোনা পরিস্থিতিতে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের দূর্দশা গোটাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে কিন্তু সরকারের মনোভাব কোনও অংশেই আশাপ্রদ ছিল না। ফলে অধিকার প্রতিষ্টিত হলে তাঁদের প্রতি রাজনৈতিক দল ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাবে। 

উল্লেখ্য, যে সংগঠনগুলি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরবার করেছে সেগুলি হল সংস্কৃতি মঞ্চ, জাষ্টিস অ্যান্ড পিস, লোকশক্তি অভিযান, অল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অব ফরেষ্ট ওয়ার্কিং পিপ্ল ও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চ। ওই সংগঠনগুলির তরফে আরও বলা হয়েছে, কমিশনের বিবেচনা ও সদুত্তরের জন্য তাঁরা আগামী একমাস অপেক্ষা করবেন, না হলে পরবর্তী পর্যায়ে এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলার পথেও পা বাড়াবেন।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সুপারিশে সেনাকর্মী ও তাদের পরিবারের লোকেরা পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুবিধা পান। সম্প্রতি ৬৫ বা তার বেশি বয়স্ক নাগরিকদের জন্য এই সুবিধার কথা বলেছিল কমিশন কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আপত্তিতে তা প্রত্যাহার করা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only