শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০

গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের ১১টি অঞ্চলে গণহারে অ্যান্টিবডি টেস্টের সিদ্ধান্ত রাজ্যের

পুবের কলম প্রতিবেদক­­: ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজ্যে ‘বেলাগাম’ হয়ে উঠেছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। সংক্রমণ কতটা ছড়াতে পারে তার আভাস পেতে এবার রাজ্যের ১১টি অঞ্চল জুড়ে গণহারে অ্যান্টিবডি টেস্টের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। 

মূলত কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু জায়গা বাছাইও করা হয়েছে অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য। ইতিমধ্যেই গণহারে অ্যান্টিবডি টেস্টের বিষয়টি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চকে (আইসিএমআর) জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে। 

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যেভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে তা যথেষ্টই উদ্বেগজনক। ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যের মাত্র তিন জায়গায় দ্রুত ছড়াচ্ছিল সংক্রমণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তা প্রায় বেশ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। কতটা সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তা জানতেই আইসিএমআরকে অ্যান্টিবডি টেস্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুরসভার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ওই সব জায়গা থেকে লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। 

উল্লেখ্য, মারণ ভাইরাসের প্রকোপ চূড়ায় ওঠার মুখে প্রায় দেড় মাস আগেই কলকাতা পুরসভার তিনটি ওয়ার্ডে নাইসেড ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর একযোগে করোনার প্রভাব বুঝতে অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করেছিল। তখন ধরা পড়েছিল, মহানগরের প্রায় ১৭ শতাংশ নাগরিকের মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রভাব স্পষ্ট। কলকাতা সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় সংক্ষিপ্ত আকারে সেরো সার্ভে করা হয়েছিল। ওই সেরো সার্ভেতে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে।

রাজ্যে যে সমস্ত এলাকায় করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেই সব জায়গায় অ্যান্টিবডি টেস্ট বা সেরো সার্ভের জন্য আইসিএমআরের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। কেন-না, রাজ্যে গণহারে অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে হলে আইসিএমআরের নোডাল এজেন্সি নাইসেডের সহযোগিতা একান্ত জরুরি। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা রাজ্যে করোনা সংক্রমণের চিত্র বিশ্লেষণ করে মনে করছেন কলকাতার মানিকতলা, গোবিন্দপুর রেল বস্তি, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, নিমতা, হাওড়ার ঘিঞ্জি বস্তি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে মারণ ভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত সোমবারই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণের কথা জানিয়েছিলেন। গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সপ্তাহে দু’দিন করে সম্পূর্ণ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও আগামী শনিবার সম্পূর্ণ লকডাউনের কথা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু শুধুমাত্র কড়া লকডাউন করে আদৌ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only