বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

ভারত সরকারের নয়া শিক্ষানীতি, পালটে গেল মন্ত্রকের নাম, কি মত শিক্ষাবিদদের


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আরএসএস-এর দাবি মেনে জাতীয় শিক্ষানীতিতে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। শিক্ষা নীতির পরিবর্তনের সঙ্গে ‘কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক’-এর নাম পাল্টে হচ্ছে ‘কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক’। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা নাম বদলের অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রকের নামের সঙ্গে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতেও সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। আনা হয়েছে একগুচ্ছ রদবদল। 

নয়া শিক্ষানীতির খসড়া প্রস্তুত করেন প্রাক্তন ইসরো প্রধান কে কস্তুরীরঙ্গনের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি। ওই কমিটির সুপারিশ মেনে ৩৪ বছর পর মন্ত্রকের নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষানীতিতে বহু বিষয়ের পরিবর্তন আনা হয়েছে। 
 দেশের উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের এক ছাতার তলা এনে নতুন কমিশন বা পর্ষদ গঠন করার কথাও শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে। কলেজগুলিকে আরও স্বায়ত্বশাসন দেওয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি চালু করার আগে বিশিষ্টদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের। সেই দাবিগুলি পর্যালোচনার মাধ্যমেই চুড়ান্ত খসড়া চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার। 

নতুন এই শিক্ষা নীতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দেশের ভিতর তাদের শাখা খোলার অনুমতিও দেবে কেন্দ্র। উচ্চশিক্ষার উন্নতিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। গতবছর যখন মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক। সেই সময় ইসরোর প্রাক্তন প্রধান কে কস্তুরিরঙ্গনের নেতৃত্বাধীন প্যানেলওই খসড়া জমা দিয়েছিল । তারপর খসড়াটি পাবলিক  ডোমেনে রাখা হয়েছিল, যাতে সবাই তাঁদের মতামত দিতে পারেন। এব্যাপারে প্রায় দু’লক্ষ পরামর্শ এবং মতামত পেয়েছিল মন্ত্রক। বর্তমানের শিক্ষা নীতি ১৯৮৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীবগান্ধির আমলে তৈরি হয়েছিল এবং ১৯৯২ সালে পুনর্গঠিত হয়েছিল। রাজীগান্ধীর আমলেই শিক্ষামন্ত্রকের নাম পরিবর্তন করে করা হয় ‘কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক’। সেই নামকেও পাল্টে দেওয়া হল। 

কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির পরীক্ষার গুরুত্ব থাকছে না। কারণ নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৮টি সেমিস্টারে পরীক্ষা হবে। স্নাতকের অনার্স বিষয়ের পঠনপাঠন ৩ বছরের পরিবর্তে ৪ বছর করা হবে। একইসঙ্গে  কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের তফাৎ দূর করার কথা শিক্ষানীতির প্রস্তাবে বলা হয়েছে।  পদার্থ, রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করলেও সঙ্গীত ও ফ্যাশান নিয়ে পড়াশোনা করতে পারবে পড়ুয়ারা। এমফিল-এর পঠনপাঠন তুলে দেওয়া হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষায় পঠনপাঠনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সকলেই প্রাথমিক শিক্ষা পাবে।

শিক্ষানীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষাবিদদের বক্তব্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিককে মিশিয়ে একটাই ‘সেকেন্ডারি স্টেজ’ তৈরির কথা বলা হয়েছে চুড়ান্ত ূসড়ায়। এর ফলে দশম শ্রেণির পর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে গরীব পরিবারের ছেলে মেয়েরা চাকরির চেষ্টা করত– সেটা আর সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা শিক্ষা শিবিরের। কারণ, একটি স্তর চালু হলে বাড়তি আরও দু বছর পড়ে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হতে হবে পড়ুয়াদের। এতে গরীব পরিবারের পড়ুয়ারাই সমস্যার মধ্যে পড়বেন। বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রথমে যা বলা হয়েছিল, চুড়ান্ত খসড়ায় তার কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। নতুন শিক্ষানীতিতে সংস্টৃñত শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিভাষানীতির কথাও বলা হয়েছে। অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপ্রশন্ন ভট্টাচার্য বলেন, শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ ও গৈরি করণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক দেশে এটা কাম্য নয়। 

কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে ওয়েবকুপার রাজ্য সভাপতি কৃষ্ণকলি বসু জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতা আগেও করেছিলাম। রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা না করেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা অনুমোদন দিয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষাবিদ নৃসিংপ্রসাদ ভাদুরি বলেন, এতে পড়াশোনার মান কমবে। মাধ্যমিকের গুরুত্ব কমিয়ে দিলে খুব একটা ভালো হবে না। আঞ্চলিক পড়ুয়াদের সুবিধা অসুবিধার উপর নজর না দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতিতে আপত্তি জানিয়েছে একাধিক মাদ্রাসার শিক্ষক সংগঠনও।  প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সম্পাদক কালাম মণ্ডল, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল শিক্ষা সেলের রাজ্য সম্পাদক অজিত নায়করা বলেন, কেন্দ্র সরকারের। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only