সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

৭বছরে মিশরে কেমন চলেছে আল সিসির শাসন


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের সাত বছর অতিক্রান্ত।  প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছিলেন সেনা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। এরপর থেকেই মিশরের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার দাপটে গণতান্ত্রিক চেহারাটার আমূল পরিবর্ত‌ন ঘটেছে। পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার জোটগুলোর সঙ্গে আঁতাত বেঁধেছে সিসি সরকার।

দেশের অভ্যন্তরে স্বাধীন বাকচর্চার অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে প্রশাসন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, শুধুমাত্র নিজের একাধিপত্য কায়েমে সংবিধানেও পরিবর্তন এনেছেন প্রেসিডেন্ট আল সিসি। আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকবেন বলেই জাতীয় পার্লামামেন্টে বিল পাস করিয়ে আইন বানিয়ে নিয়েছেন নিজের জন্য। সরকারের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সরব হয়েছে বা প্রতিবাদ করেছে তাদের বন্দি বানানো হয়েছে।

 বলা যায়, বিপক্ষ বা বিরোধীদের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে একেবারে পঙ্গু করে দিয়েছে মিশর সরকার। তাই বর্তমান সময়ে মিশরে বিরোধীদের তেমন কোনও প্রভাব নেই, প্রতিযোগীতার অভাবে জাতীয় অগ্রগতিও প্রায় থমকে যেতে বসেছে। বিশ্লেষকমহলের ধারনা, বর্তমান সময়ে মিশরে বা দেশের বাইরে সিসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গডে. তোলার মতো কেউ নেই, তার কারণ অবশ্যই স্বাধীন বাকচর্চায় সিসি সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, কোনও কারণ না দেখিয়ে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের বন্দি বানানোর সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়।

২০১১ সালে মিশরের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হোসনিন মোবারকের শাসনকালেও খণ্ডিত হয়েছিল গণতন্ত্র। সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকর দরুন সমতা, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের স্লোগান তুলে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়েছিল দেশে। তিন দশক ধরে দেশ শাসন করার পর হোসনি মোবারক ২০১১ সালের গণবিদ্রোহে ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য হন।

২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিশরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক ভাবে বৈধ নেতা নির্বাচিত হন মুহাম্মদ মুরসি। মুরসির শাসনকালে মিশেরর ছবিটাই বদলে গিয়েছিল। দেশের জনতা স্বাধীন ভাবে চলাফেরা ও মত প্রকাশ করতে পারতেন, টেলিভিশন চ্যানেল বা মিডিয়ার ওপর কোনও বাধা বা নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল না। যদিও এর পরের বছরই মুরসি বিরোধী প্রতিবাদ দেখা যায়। জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদেল ফাত্তাহ সিসি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈধ নেতা মুরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেন।

বিরোধীদের কণ্ঠরোধ

কেমন ছিল ২০১৩ সালের মুরসি বিরোধী বিক্ষোভ-প্রতিবাদ? মিশরীয় সাংবাদিক ওমর এলফাতাইরির কথায়, ‍‌‌‌‌‌‌’ ২০১৩ সালের ৩০ জুনের সামরিক অভ্যুত্থানটি ২০১১ সালের গর্বময় বিদ্রোহ ও আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা স্বরূপ। তিনি আরও বলেন, ‍‌‌‌‌‌‌’মিশরীয়রা সবসময় সাধারণ মানবিক অধিকার ও ন্যুনতম স্বাধীনতা চেয়েছে। দেশে যখন প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন আয়োজিত হয় তখন আমি প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকেই ভোট দিয়েছিলাম, তিনি জনগণের নেতা ছিলেন যিনি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতেন।’ আল-সিসির শাসনব্যবস্থায় যে এই মিশরীয় সাংবাদিক একেবারেই খুশি নন, তা তার কথা শুনেই স্পষ্ট। বলছেন, ‍‌‌‌‌‌‌’যেকোনও বিদ্রোহ বা কোনও রাজনৈতিক দলকে বেডে. উঠতেই দেননি আল সিসি, সকলেই সরকারের ভয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছে।’

বিশ্ব মঞ্চেও নেই বিরোধিতা

২০১৩ সালের বিদ্রোহের আগে প্রেসিডেন্ট সিসির বিরোধীরা বিদেশের মাটিতে জনমত গঠন করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। মিডিয়া, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংস্থার সাহায্যে বিভিন্ন দেশে প্রচার চালিয়ে তারা আন্তর্জাতিক দুনিয়ার দৃষ্টিকে আকর্ষিতও করেছিল, তবে এর সুদূরপ্রসারী ফল মেলেনি। মিশরে এর কোনও প্রভাব পডে.নি। মিশরীয় মানবাধিকারকর্মী আবদেলরহমান মুহাম্মদের কথায়, ‍‌‌‌‌‌‌’মিশরের বিরোধী দল,গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনেক পরিবর্ত‌ন হয়েছে, তারা বিভক্ত হয়ে পড়েছে।’ ঠিক কেন এরকমটা হল? মানবাধিকারকর্মীর কথায়, ‍‌‌‌‌‌‌’যারাই সরকারের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিকতার ওপর আলোকপাত করেছে তাদেরই রাজনৈতিক বন্দি বানানো হয়েছে। তাদের ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে কোনও অ্যাসাইলামে। ২০১১ সালের বিদ্রোহের পর যারা নায়ক ছিলেন তারাই দেশদ্রোহীর তকমা পেয়েছেন।’ 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only