বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

বিহার নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারে কেল্লা ফতের ভাবনা বিজেপির


পটনা, ২৯ জুলাইঃ লকডাউন চলছে সারাদেশে। বড় জমায়েতের কোনও অনুমতি দিচ্ছে না প্রশাসন। তবে সামনেই দেশের বেশকিছু রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই বছরের শেষের দিকে রয়েছে বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। বিহারে একদিকে করোনা ভাইরাসের জন্য বড় সভার অনুমতি নেই,অন্যদিকে প্রবল বন্যায় রাজ্যটির বেশ কয়েকটি জেলা জলমগ্ন। এই পরিস্থিতিতেও বিজেপি মানুষের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও চেষ্টা চালাচ্ছে নানাভাবে। ভার্চুয়াল জগৎকে ব্যবহার করে মানুষের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন রাজনীতিবিদরা। এই কাজে সবথেকে বেশি এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।কয়েকটি রাজ্যে ৬০টির বেশি ভার্চুয়ালর্ যালি সম্পন্ন করেছে শাসকদল বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টি। এখন তারা আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। বিজেপির রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিহারে তৈরি হয়েছে প্রপাগান্ডামূলক ‘শক্তি কেন্দ্র’। প্রতিটি কেন্দ্রে নিযুক্ত করা হয়েছে আইটি সেলের কর্মীদের। 

কারণ, এখন প্রযুক্তিই মূল হাতিয়ার। সোশ্যাল মিডিয়াই হয়ে উঠেছে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের মূল মাধ্যম। ইতিমধ্যে বিজেপি সমগ্র বিহারে ৯ হাজার ৫০০ ‘আইটি সেল হেড’ নিয়োগ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, বিহারের ভার্চুয়াল নির্বাচনী প্রচারে এই ৯ হাজার ৫০০ জনই হয়ে উঠবে আসল যোদ্ধা। 

৯ হাজার ৫০০ আইটি সেল হেড ছাড়াও চমক রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপেও। বর্তমানে এই মেসেজিং অ্যাপটি খুবই জনপ্রিয়। প্রপাগান্ডা, ভুয়ো খবর ছড়ানোর জন্য এর জুড়ি নেই। ফেক খবর ছড়ায় এমন নেটিজেনদের ব্যঙ্গ করে অনেক সময় বলা হয়, ওরা বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির পড়ুয়া। 

এই ‘হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়’কেই হাতিয়ার করছে বিজেপি। বিহার নির্বাচনকে সামনে রেূে ৭২ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করতে চলেছে তারা। রাজ্যের প্রতিটি বুথের জন্য একটি করে গ্রুপ খোলা হবে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে। সেখানে স্থানীয়দের যুক্ত করে বিজেপির রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা চালানো হবে। গত দু’মাসে বিজেপি এরই মধ্যে ৫০ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে ফেলেছে। জোরকদমে প্রচার চলছে সেগুলিতে। গ্রুপগুলি দলের ইমেজ তৈরি করবে ছাত্র যুবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। এ ছাড়া বিজেপি নেতাদের বক্তব্য প্রচার করা হবে। বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপির বার্তাও তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে জনগণের কাছে। বুথস্তরের কর্মীরা ছাড়াও এই সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলির তত্ত্বাবধানে থাকবে ‘আইটি সেল হেড’রা।

এই ‘আইটি সেল হেড’রা কাজ করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি সেল হেড অমিত মালব্যর অধীনে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপে ২৫৬ জনকে যুক্ত করা যায়। সেই হিসেবে এভাবে প্রায় ২ কোটি বিহারের জনতাকে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করে প্রচার চালাবে বিজেপি। বিহার বিজেপির আইটি সেল হেড মানান কৃষ্ণাণ জানিয়েছেন, একবারে পাঁচজনকে কোনও মেসেজ বা বার্তা হোয়াটসঅ্যাপে ফরওয়ার্ড করা যায়। তাই আমরাও আরও বেশি বেশি গ্রুপ তৈরি করার চেষ্টা করছি, যাতে দ্রুত বার্তা প্রেরণ করা সম্ভব হয়। আমরা এভাবেই ২-৩ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছি এক নিমেষে। টেলিভিশন, সংবাদপত্র এসব মিডিয়ার আমাদের কোনও দরকার নেই। এ ছাড়াও থ্রিডি প্রজেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য শোনানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only