বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

‘উচ্চবর্ণের শ্মশান’ দলিত মহিলার অন্ত্যেষ্টিতে বাধা


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ফের দলিতের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ। উচ্চবর্ণের লোকজনদের বাধায় অন্ত্যেষ্টি হল না এক দলিত মহিলার। তাদের দাবি, শ্মশানঘাটটি শুধুমাত্র উচ্চবর্ণের লোকদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কোনও দলিতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলবে না। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি সামনে আসতে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বহুজন সমাজ পার্টি তথা দলিত নেত্রী মায়াবতী ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

দলিত মহিলার অন্ত্যেষ্টির জন্য উত্তরপ্রদেশের আগ্রার একটি শ্মশানঘাটে আনা হয়েছিল। অভিযোগ, বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় উচ্চবর্ণের ঠাকুর সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে ছুটে আসে। এই মহিলার অন্ত্যেষ্টিতে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ, তাদের প্রবল আপত্তিতে অন্ত্যেষ্টিস্থল থেকে নামিয়ে নেওয়া হয় মৃতদেহকে। ঘটনাটি কয়েকদিন আগের হলেও মঙ্গলবার বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। শুরু হয় বিতর্ক। ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলিত সম্প্রদায়ের লোকজন। ক্ষোভপ্রকাশ করেন দলিত নেত্রী মায়াবতীও। টু্যইট করে মায়াবতী বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এক দলিত মহিলার মৃতদেহ অন্ত্যেষ্টিস্থল থেকে সরানো হল জাতপাতাবাদী মানসিকতা সম্পন্ন উচ্চবর্ণের লোকজনদের বাধার কারণে।

কারণ, শ্মশানঘাটটি ছিল উচ্চবর্ণের লোকদের জন্য। এটা অত্যন্ত লজ্জার ও নিন্দনীয় ঘটনা।’ পরে আরও একটি টু্যইট করে মায়া লেখেন, ‘এই বর্ণবাদী ও সবথেকে নিকৃষ্ট ঘটনায় এক উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করা উচিত উত্তরপ্রদেশ সরকারের এবং দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। আর এটাই বিএসপির দাবি।’ স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগে ২৬ বছরের এক দলিত যুবতীর দেহ অন্ত্যেষ্টির জন্য আগ্রার ওই শ্মশানে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু উচ্চবর্ণের ঠাকুর সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে ওই যুবতীর অন্ত্যেষ্টিতে বাধা দেয়। তাদের বক্তব্য, শ্মশানঘটি তাদের মতো উচ্চবর্ণের লোকজনদের জন্য নির্মিত। সেখানে দলিতদের অন্ত্যেষ্টি করা যাবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only