রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

দুই দেশের মধ্যে রেল কন্টেইনারে পণ্য পরিবহণ শুরু, পেট্রাপোল বন্দরে কাজ হারানোর আশঙ্কা


এম এ হাকিম, বনগাঁ 

ভারত-বাংলাদেশের পেট্রাপোল-বেনাপোলের  মধ্যে রেল কন্টেইনারের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ শুরু হওয়ায় কাজ হারানোর আশঙ্কা করছেন পেট্রাপোল স্থল বন্দরের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষজন। 

কলকাতার মাঝেরহাট রেল ষ্টেশন থেকে আসা ৫০ টি কন্টেইনার সমন্বিত পণ্যবাহী বিশেষ ট্রেন রবিবার পেট্রাপোল স্টেশনে এসে পৌঁছায়। সেখানে শুল্ক দফতরের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিলে সেটি বাংলাদেশের বেনাপোল রেল স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

কন্টেইনার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’র (কনকর) পক্ষ থেকে কন্টেইনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং শুল্ক দফতরের সহযোগিতায় রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণের সূচনা হয়েছে। মাঝেরহাট থেকে মাত্র তিন ঘণ্টায় পেট্রাপোল স্টেশনে পৌঁছেছে পণ্যবাহী ট্রেন। এরপরেই বেনাপোল রেল ষ্টেশন। একদিনের মধ্যেই খুব সহজেই তা বাংলাদেশের বেনাপোল স্টেশনে পৌঁছে যাবে।

পরবর্তীতে খুব শিগগিরি এধরণের পণ্যবাহী কন্টেইনার ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশের যশোর এবং কমলাপুর ষ্টেশন পর্যন্ত যাবে বলে জানা গেছে। পচনশীল পণ্য পরিবহণের জন্য বিশেষ রেফ্রিজারেটর সমন্বিত কন্টেইনারের ব্যবস্থা করা হবে বলে এমজিএইচ গ্রুপ কলকাতার সেলস ও অপারেশন ম্যানেজার অনীশ কর জানিয়েছেন। ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণে সাধারণ অবস্থায় ২৫ থেকে ৩০ দিন লেগে যেতো। এবং করোনা পরিস্থিতিতে একশো দিনও ডিটেনশনের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও অনীশ কর মন্তব্য করেন। 

এদিকে,  ‘পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী রেলের কন্টেইনারে পণ্য পরিবহণের ঘটনাকে পেট্রাপোল স্থল বন্দরের মাধ্যমে ব্যবসার ‘শেষের শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পেট্রাপোল স্থল বন্দরে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট থেকে শুরু করে ট্রাক পরিবহণ সংস্থা, ড্রাইভার, ট্রাক পার্কিং ব্যবস্থা, মালপত্র ওঠানো-নামানো শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক লাখের বেশি মানুষ নির্ভরশীল। সেজন্য রেলের কন্টেইনারের মাধ্যমে সরাসরি দু’দেশের মধ্যে পণ্য যাতায়াত শুরু হলে পেট্রাপোল স্থল বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই কাজ হারাবেন বলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।’

কার্ত্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘আজ প্রথম পঞ্চাশটি রেল কন্টেইনারের মাধ্যমে পণ্যবাহী ট্রেন ভারতের পেট্রাপোল ষ্টেশন হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল স্টেশনের উদ্দেশ্য গেছে। অনেকদিন ধরে রেলে পণ্য পরিবহণের প্রক্রিয়া চলছিল। সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির কারণে ভিন রাজ্যের ট্রাকে করে পণ্য পরিবহণে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। রফতানিতে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ করে চাকদা ও যশোর রোডে পুলিশি হয়রানি চলছিল। এই রেল রুটে যে সফলতা ওরা পেয়েছে তাতে আগামীদিনে পেট্রাপোলের ‘শেষের শুরু’ বলাই যেতে পারে। আমাদের এখানে লক্ষাধিক মানুষ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। ট্রান্সপোর্টার, ক্লিয়ারিং এজেন্ট, এক্সপোর্টার, ট্রাক ড্রাইভার ও অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন রয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অধিকাংশ গাড়ি এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে এক্সপোর্ট ভিত্তিক অনেক ট্রাক বাণিজ্যের পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক লোকের রুটি-রুজি আগামীদিনে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

তিনি বলেন, ‘রেলের মাধ্যমে একদিনের মধ্যেই রফতানির পণ্য সামগ্রী বাংলাদেশের বেনাপোল রেল স্টেশনে পৌঁছবে এবং ট্রাকের মাধ্যমে যেতে গেলে নানা বাধাবিপত্তি কাটিয়ে তা যেতে ১২ থেকে ১৩ দিন ডিটেনশন শেষে তা পৌঁছাত।’  সরকারের উচিত ট্রাকের মাধ্যমে রফতানির পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা সরলীকরণ করা বলেও ‘পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী মন্তব্য করেন।পেট্রাপোল আইসিপি কাস্টমসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার মিহির কুমার চন্দ বলেন, রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণের যে সূচনা হয়েছে তাতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও উন্নত হবে।

গত জুন মাসে রেলের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি সহজ করতে পার্শ্ব দরজা বিশিষ্ট কন্টেইনার ট্রেন চালুর অনুমতি দেয় বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ড। আপাতত করোনা পরিস্থিতি চলাকালীন রেল কন্টেইনারের মাধ্যমে বাংলাদেশে রফতানির পণ্য পরিবহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only