সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

মেডিকেলেই হচ্ছে প্লাজমা ব্যাঙ্ক, হবে করোনা চিকিৎসা


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  লকডাউনের পর দেশ জুড়ে আনলক প্রক্রিয়া শুরু হলেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার নাম নেই। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সমখ্যা ৭ লক্ষ পার করে বিশ্বে তৃতীয় সর্বাধিক করোনা আক্রান্তে দেশ হিসাবে উঠে এসেছে ভারতের নাম। এখন সামনে শুধু মাত্র দুই দেশ ব্রাজিল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে খুব স্বস্তিতে নেই আমাদের দেশ। এই অবস্থায় বাংলাতেও সংক্রমণ যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ গত ২৪ ঘন্টার রেকর্ড ভেঙে করোনা আক্রান্তের প্রতিদিন নয়া রেকর্ড গড়ছে বাংলা। এই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে পূর্ব ভারতের প্রথম সরকারি প্লাজমা ব্যাঙ্ক হতে চলেছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। 

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে স্বাস্থ্যভবনে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি দেশজুড়ে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল শুরু হয়েছে। কলকাতাতেই দেশের মধ্যে প্রথম ভেন্টিলেশন সাপোর্টে থাকা করোনা আক্রান্তদের শরীরে ট্রায়াল হিসেবে প্লাজমা প্রয়োগ করা হয়েছে।

জুন মাসের শেষ সপ্তাহে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ইনস্টিটিউট অফ হেমাটলজি অ্যান্ড ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগে প্রথমে করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। তারপর একে একে আরও ৪ জন ব্যক্তির শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। যাঁরা প্রত্যেকেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন এবং যাঁরা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু প্লাজমা ব্যাঙ্ক না থাকার কারনে এই থেরাপির বহুল ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। এবার সেই সমস্যা মিটতে চলেছে। তবে এর জন্য করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষদের মধ্যে সচেতনতার প্রচারও জোর কদমে চালিয়ে যেতে হবে যাতে তাঁরা প্লাজমা দান করতে ইচ্ছুক হন।

কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রসূন ভট্টাচার্য বলেন, কিছুদিন আগেই আমরা প্লাজমা সংগ্রহ করা শুরু করেছি প্লাসমা থেরাপির স্বার্থে। এখন সরকারি নির্দেশে প্লাজমা ব্যাঙ্ক তৈরির কাজ শুরু করতে চলেছি। এর জন্য অনেক বড়সড় পরিকাঠামো দরকার। সেই পরিকাঠামো কীভাবে তৈরি করা হবে, তার-ই পরিকল্পনার কাজ আমরা শুরু করেছি। আগামীর দিকে তাকিয়ে এটি একটি বড়সড় ভাবনা।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর থেকেই এই ভাইরাসকে ঠেকাবার রাস্তা খুঁজছিলেন চিকিৎসক থেকে বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এযাবৎ কাল পর্যন্ত সেই ওষুধ বা টিকা কোনওটাই আমজনতার হাতে আসেনি। তবে প্লাজমা থেরাপিতে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলে দেশের অনেক চিকিৎসকই মনে করছেন। তাঁদের অভিমত, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের রক্তরস বা প্লাজমায় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা কিনা কোভিড ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। তাই করোনা থেকে সেরে ওঠা কোনও রোগীর শরীর থেকে যদি প্লাজমা সংগ্রহ করে তা করোনায় আক্রান্ত কোনও রোগীর শরীরে দেওয়া যায় তবে সেই রোগীর শরীরেও দ্রুত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে তা করোনা থেকে তাঁকে রক্ষা করবে। খালি রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে তা করতে হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only