বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

কুরবানির মতো ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা নিয়ে যোগী প্রশাসনকে কি হুঁশিয়ারি দিল মুসলিম সংগঠনগুলি


আবদুল বারি মাসুদ, দিল্লি

উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ কুরবানির পশু আটক করছে বলে সে রাজ্যের বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন অভিযোগ করেছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নেতৃস্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলি সে রাজ্যের বিজেপি সরকারকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দা করার পাশাপাশি তারা এটিকে ভারতের সংবিধান দ্বারা গ্যারান্টিযুক্ত ও প্রদত্ত মৌলিক এবং ধর্মীয় অধিকারের উপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এ ব্যাপারে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। জমিয়তের সভাপতি মাওলানা ক্বারী মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরী বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনক যে, জেলা প্রশাসন দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিশেষত উত্তরপ্রদেশে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে পশুর (মহিষ) কুরবানি নিষিদ্ধ করার আদেশ জারি করেছে। তিনি এটিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। 

তিনি বলেন যে, কুরবানি ইসলামের অপরিহার্য অঙ্গ।জমিয়ত রাজ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছে যে, ইউপির পুলিশ কর্মীরা বলপ্রয়োগ করে কুরবানির পশু কেড়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে গাজিপুর জেলা, গাজিয়াবাদ ও বাহরাইচ এবং অন্যান্য জেলা প্রশাসকরা এই উপলক্ষ্যে পশু কুরবানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন।

মাওলানা মনসুরপুরীর জিজ্ঞাস্য, পুলিশ কোন ভিত্তিতে এবং কোন আইন অনুসারে গরু,মহিষ কুরবানি নিষিদ্ধ করছে?

তিনি জানান– স্থানীয় প্রশাসনের এই অত্যাচারী কাজের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি পুলিশি বর্বরতার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন– জমিয়ত এই আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি করছে। সেইসঙ্গে মুসলমানরা যাতে কোনও ঝামেলা ছাড়াই তাদের ধর্মীয় নিয়ম ও অনুষ্ঠান সম্পাদন করতে পারে– তা দেখতে হবে সরকারকেই।

হিন্দু সন্ন্যাসী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন ইউপি সরকার মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে বলে ভারতের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এসডিপিআই) অভিযোগ করেছে। এসডিপিআইয়ের সহ-সভাপতি এবং প্রখ্যাত আইনজীবী শরফুদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, ভারতের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত মানুষের ধর্মীয় অধিকারের উপর বর্বর হামলা হল। রাজ্য পুলিশ মুসলিম জনগণকে কুরবানি সম্পাদন থেকে বিরত রাখতে শক্ত অস্ত্র প্রয়োগ করছে।
একদিকে কোভিড-১৯’এর কারণ দেখিয়ে রাজ্য সরকার ঈদ-উল-আযহার দিন মসজিদ এবং ঈদগাহে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাতে নামায পড়ার অনুমতি দিচ্ছে না,অথচ কোভিড-১৯’এর সমস্ত বিধিনিষেধকে উড়িয়ে দিয়ে, রাম মন্দিরের ভূমিপুজো  অনুষ্ঠানে ধ্বংস করে দেওয়া বাবরি মসজিদের স্থানে পাঁচ আগস্ট বড় আকারের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর আগেও, কঠোর লকডাউনের মাঝে, মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ অযোধ্যাতে একটি বড় ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
শরফুদ্দিন আহমদের অভিযোগ, গাজিয়াবাদের লোনি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক নন্দ কিশোর গুজার এই পদক্ষেপে নতুন মাত্রা যোগ করে বলেছেন,কুরবানি পশুর পরিবর্তে মুসলমানরা তাদের সন্তানদের বলিদান করুক। এইভাবে বিজেপি মুসলমানদের অনুভূতিকে ক্ষুন্ন করে চলেছে। ওই বিজেপি নেতা আরও দাবি করেছেন যে,মাংস করোনা ভাইরাস ছড়ায়। তাই নির্দোষ পশু কুরবানি দেওয়া চলবে না।তিনি বলেন, বিজেপি নেতৃত্বকে এমন দায়িত্বহীন দলীয় সদস্যদের লাগাম লাগাতে হবে। 

এসডিপিআই নেতা বলেন, মুসলমানরা ঈদ-উল-আযহা ও কুরবানির জন্য জারি করা সমস্ত গাইডলাইন অনুসরণ করবে তবে পশু কুরবানি দেওয়ার বিষয়ে কোনও বক্তব্য সহ্য করবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

জমিয়তের প্রধান মাওলানা মনসুরপুরি  জানিয়েছেন যে, ঈদ-উল-আযহা ও কুরবানির বিষয়ে সরকার যে নির্দেশিকা জারি করেছে– তা মুসলিম সম্প্রদায় অনুসরণ করছে। মুসলিম নেতারাও এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে 

প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত অনিয়ন্ত্রিত আদেশগুলি তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পথে বাধা হয়ে উঠেছে।মাওলানা মনসুরপুরী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে দেশে অরাজকতা বিরাজ করতে পারে। যা আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং এজন্য রাজ্য সরকারই দায়ী হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only