শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

নির্বাচনবিধিতেও করোনার থাবা

ইকবাল আলমঃ করোনা বদলে দিয়েছে জীবনযাত্রা। তার থেকে বাদ গেল না নির্বাচনবিধিও। মহামারির রোষে সংশোধিত হল ৫৯ বছরের পুরনো বিধি। 

চলতি বছরে অক্টোবর-নভেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা বিহারে। সেই ভোটের কথা মাথায় রেখে নির্বাচন বিধিতে বেশকিছু পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্র। আগামী বছরে বাংলাতেও বিধানসভা ভোট রয়েছে। সেখানেও এই নয়া নিয়ম কার্যকরী হবে। কেন্দ্রের আইন ও ন্যায় মন্ত্রক বৃহস্পতিবার ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা (সংশোধনী) বিধি-২০২০’ শীর্ষক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ ভোটাররা বাড়িতে বসেই ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। তাঁদের বুথে গিয়ে ভোট দিতে হবে না। একইভাবে করোনা আক্রান্তরাও বাড়িতে থেকে ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। যাঁরা হোম কোয়ারেন্টাইনের পাশাপাশি অন্য কোনও স্থানে বা কোনও সরকারি কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থায় রয়েছেন সেখান থেকেও তাঁরা ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। 

তাছাড়াও যাঁদের শরীরে মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছে তাঁরাও বাড়ি থেকে ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এমনকী করোনা সংক্রমিত হতে পারেন এমন আশঙ্কায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভোটাররাও ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে হাসপাতালে ভর্তি থাকা করোনা রোগীরা এই সুবিধা পাবেন না। এতদিন শুধুমাত্র ৮০ বছরের বেশি বয়স্করাই বাড়িতে বসে ব্যালটে ভোট দিতে পারতেন। 

পাশাপাশি, যাঁরা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এবং পেশার প্রয়োজনে ভিনরাজ্যে পোস্টিং এমন ভোটাররাই শুধুমাত্র ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে ৬৫ বছরের বেশি বয়স্করা ও করোনা আক্রান্তরা বাড়িতে থেকেই ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। আর এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে করোনা সংক্রমণ। যেভাবে করোনা প্রকোপ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে তাতে ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অন্তর্গত নির্বাচন পরিচালনা আইন-১৯৬১’র এই সংশোধনী এনেছে কেন্দ্র। দেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পরই এই পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রের আইন মন্ত্রক। 

কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে--- ১৯৬১ সালের এই আইনের ২৭-এ অনুচ্ছেদে ‘অক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি’ লেখাটির পাশে নতুন করে ‘কোভিড-১৯ সন্দেহভাজন অথবা সংক্রামিত’ শব্দগুলি যোগ করা হয়েছে। একইভাবে এই আইনের ই-অনুচ্ছেদে ‘৮০ বছর’-এর পরিবর্তে ‘৬৫ বছর’--- এই পরিসংখ্যান ও শ· যোগ করা হয়েছে। মূলত বিহার বিধানসভা নির্বাচনের কথা ভেবে নির্বাচন বিধিতে এই পরিবর্তন আনা হলেও আগামী বছরের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের সময়ও এই নিয়ম কার্যকরী থাকবে। এই নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, এক একটি বুথে এক হাজারের বেশি ভোটার রাখা হবে না। 

সেক্ষেত্রে বাংলার ৩০ হাজার বুথ নতুন করে ভাঙা হতে পারে বা তার পুনর্বিন্যাস হতে পারে। বিহারের ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার সময় বুথগুলিতে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়, সেজন্য জনসমাগম এড়াতে পোলিং স্টেশনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৭ জুন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক সুনীল অরোরা জানিয়েছিলেন, বিহারের বিধানসভা ভোট পিছিয়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং ৯৭ হাজার ভোট কেন্দ্রে সাত কোটির বেশি ভোটার যাতে ভোটদান করতে পারেন, তার যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। 

উল্লেখ্য, ভোটের সময় ভোটকর্মী ও ভোটারদের সুরক্ষার কথা ভেবে একাধিক প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। গ্লাভস, কাঠি দিয়ে ইভিএমের বোতাম চাপার কথাও ভাবা হচ্ছে। যাতে ইভিএম না ছুঁয়ে ভোট দেওয়া যায়। তাছাড়া ভোটদানের পর ভোটারদের আঙুলে যে কালি লাগানো হয়, তা এবার ডিসপোজেবেল সিরিঞ্জের সাহায্যে দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়াও পোলিং অফিসারের টেবিলের চারধার কাচ দিয়ে ঘিরে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যাতে মাস্ক খুলে ভোটারের মুখ দেখার সময় সংক্রমণ না ছড়ায়। 

এ দিকে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। রাজ্যপাল টু্ইটে লেখেন, ‘৬৫ বছরের বেশি বয়সি ও করোনা আক্রান্তদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান সুসিদ্ধান্ত। স্বচ্ছ নির্বাচন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।’ পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনে ছাপ্পা ও সন্ত্রাস এড়িয়ে চলতে হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only