বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার বৈধতা পেলেন পুতিন

মস্কো, ২ জুলাই: গণভোটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষে রায় দিল দেশটির সিংহভাগ ভোটার। ফলাফলে দেখা গেছে, বিপুল ব্যবধানে জিতেছে সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব। ফলে আগামী ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে আর বাধা রইল না পুতিনের। রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে ৭৭ শতাংশের বেশি ভোট সংবিধান সংশোধনের পক্ষে গেছে। 

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব জেতার সব আয়োজন শেষ করার পরই গণভোট আহ্বান করেছিলেন পুতিন। সংবিধান সংশোধনে গণভোট পুতিনের পক্ষে যাওয়ায় আরও দুই মেয়াদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বৈধতা পাচ্ছেন তিনি। এর মানে, ২০২৪ সালের পর আবারও নির্বাচনে জিতলে আরও ১২ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন পুতিন। এক্ষেত্রে, প্রেসিডেন্ট পদে আপাতত পুতিনের থাকা নিয়ে কোনও সংশয় রইল না।  

রাশিয়া করোনা ছড়িয়ে যাওয়ার পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ায় প্রথমবার এক সপ্তাহ ধরে গণভোটের আয়োজন করা হয়। যদিও ক্রেমলিনের সমালোচকদের মতে, ভোটের ফলাফলে কারচুপির জন্য এক সপ্তাহ ধরে ভোটদান প্রক্রিয়া চলেছে। গণভোটকে ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। তা নিয়ে মস্কোতে তুমুল বিক্ষোভও হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মস্কো এবং পশ্চিম রাশিয়ার বিভিন্ন অংশে ভোটদানের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। কোনও কোনও অঞ্চলে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন বলে দাবি নির্বাচনী কর্মকর্তাদের। রাশিয়ার পূর্বদিকে অবস্থিত চাচকি উপদ্বীপে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করে জানানো হয়েছে, ৮০ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে রয়েছেন।

যদিও স্বাধীন ভোট পর্যবেক্ষকরা সেই পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তেমনই একজন গ্রিগরি মেলকোনয়ান্তস জানান, অনিয়মের ছবিটা স্পষ্ট। অনেক জায়গায় ভোটদানের হার বেশি দেখানো হয়েছে।  

গণভোটের আগেই রাশিয়ার সংসদে অনায়াসে পাস হয় সেই সংশোধনী প্রস্তাব। তাতে সমকামী বিবাহকে নিষিদ্ধ ঘোষণা, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর রাশিয়ার আইনের আধিপত্যের মতো বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদে পাস হওয়া সত্ত্বেও দেশে তার সমর্থন অটুট প্রমাণ করতেই করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও গণভোট আয়োজন করেন পুতিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only