বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই রাস্তায় প্রচুর বেসরকারি বাস

পুবের কলম প্রতিবেদক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘টোটকা’ মোক্ষম দাওয়াই হিসেবে কাজ করল। বৃহস্পতিবারই শহর ও শহরতলীর রাস্তায় ৩,৮০০ বেসরকারি বাস নামল। ‘বিপ্লবের’ রাস্তা থেকে সরে এসে সুড়সুড় করে বাস চালাতে শুরু করেছেন অধিকাংশ বাস মালিক। ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কম পোহাতে হয়েছে। আজ শুক্রবার রাস্তায় বেসরকারি বাসের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশাবাদী পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা। রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এদিন রাস্তায় ১,৮০০ সরকারি এবং ৩৮০০ বেসরকারি বাস নেমেছে। যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে রাজাবাজার-হাওড়া ট্রাম রুটও শিগগিরই চালু হচ্ছে। 

লকডাউন শিথিল হওয়ার পর থেকেই মূলত শহরের রাস্তায় বেসরকারি বাসের দেখাই মেলেনি। ‘মওকা’ বুঝে বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলে কার্যত জয়েন্ট কাউন্সিল বাস সিন্ডিকেটের মতো বাস মালিকদের সংগঠনের সদস্যরা রাস্তায় বাস না নামিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলে কিছুটা মজাই নিচ্ছিলেন। লোকাল ট্রেন ও মেট্রো না চলার কারণে মূলত সরকারি ও বেসরকারি বাসের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়া নিত্যযাত্রীরা কর্মস্থলে যেতে গিয়ে নাকানি-চোবানি খাচ্ছিলেন। 

বেসরকারি বাস মালিকদের এমন মনোভাবে যথেষ্টই চটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুরোধ কিংবা নরম ভাষায় কথা বললে যে কোনও ফল হবে না তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবারই নবান্ন থেকে তিনি বেসরকারি বাস মালিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ‘বুধবারের মধ্যে রাস্তায় বাস না নামালে সরকারই বিপর্যয় মোকাবিলা আইন প্রয়োগ করে বেসরকারি বাস চালাবে।’ 

মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারিতেই হুঁশ ফেরে বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনের নেতাদের। বুধবার পরিবহণ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বৃহস্পতিবার থেকে রাস্তায় বেশি সংখ্যক বাস চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি পালিত হয় কিনা তা দেখতে এদিন সকাল থেকেই শহরের রাস্তায় বিশেষ নজরদারি চালিয়েছিলেন পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা। আর তাতেই তফাতটা নজরে পড়ে। শাস্তির খাঁড়া থেকে বাঁচতে সুড়সুড় করে বাস নামান বহু বেসরকারি বাস মালিক। 

এদিনও অবশ্য পরিবহণ দফতরের কাছে আলাদা-আলাদাভাবে একাধিক দাবি দাওয়া জানিয়েছেন বাস মালিক সংগঠনের নেতারা। ডিজেলের সেস প্রত্যাহার, মাসিক কিস্তি পরিশোধ স্থগিত, পুলিশি কেস বন্ধ ও ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানান তাঁরা। দিন কয়েক আগেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যিনি হুংকার ছুঁড়েছিলেন, সেই জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় উল্টো সুর শোনা গিয়েছে। এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে বাস বসিয়ে রাখা হচ্ছে, তা সত্যি নয়। বাস চালানোর জন্য শ্রমিক মিলছে না। গ্রামাঞ্চলে কিংবা ভিন রাজ্যে থাকা শ্রমিকরা আসতে পারছেন না বলেই বহু বাস নামানো যাচ্ছে না।’

বাস-মিনিবাস সংগঠনের নেতা সুদীপ্ত মণ্ডল এদিন বলেন, ‘যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ুন আমরা তা কখনই চাই না। বহু মালিকই রাস্তায় বাস নামিয়েছেন। শ্রমিকদের অভাবে অনেকে বাস নামাতে পারছেন না। সরকার যদি চালক ও কর্মী দিয়ে বাস চালাতে পারেন, তাহলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমরা বাস তুলে দিতে রাজি রয়েছি।’ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only