রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

‘জাদুঘর’কে মসজিদের পুনর্মর্যাদা, প্রবল ক্ষোভ পাশ্চাত্যে

আহমদ হাসান ইমরান
৫০০ বছরেরও পুরনো আয়া সোফিয়া মসজিদকে ইসলাম-বিদ্বেষী কামাল আতাতুর্কের নির্দেশে ‘মিউজিয়াম’ বা জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছিল। ৮৬ বছর ধরে আয়া সোফিয়া মসজিদকে ‘জাদুঘর’ হিসাবে তুর্কি সরকার ব্যবহার করছিল। 

কিন্তু তুর্কিরা এতে মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। বিগত ২৫/৩০ বছর ধরে প্রতি জুম্মাবার তো বটেই, সপ্তাহের চার পাঁচদিন ধর্মভীরু তুর্কিরা নামায পড়ার দাবিতে আয়া সোফিয়ার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিলেন। পরে প্রায় দেড় দশক আগে মামলাটি তুরস্কের এক শীর্ষ আদালতে যায়। আর শুক্রবার রায় বেরনোর পরেই ধর্মবিশ্বাসী প্রেসিডেন্ট এরদোগান এক ডিক্রি জারি করে আয়া সোফিয়ার পুরনো মর্যাদাকে ফিরিয়ে দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ২৪ জুলাই থেকে এই মসজিদে নিয়মিত নামায পাঠ হবে। তিনি তুর্কি সুলতানদের লিখিত দলিল অনুযায়ী একটি ধর্মীয় ট্রাস্টের হাতে আয়া সোফিয়াকে অর্পণ করেন। 

কিন্তু আদালতের রায়ের পরেই পাশ্চাত্য দুনিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, তুর্কি আদালতের রায় ও এরদোগানের আচরণে তিনি হতাশ। শুধু তাই নয়। গ্রিস, রাশিয়া, স্পেনসহ পাশ্চাত্যের বহু দেশ এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পিও যিনি নিজেও খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারে বিশ্বাসী, তিনিও ওই ‘জাদুঘর’ মসজিদ হিসাবে প্রত্যাবর্তন করায় বেজায়  দুঃখ পেয়েছেন এবং এরদোগানকে ‘বৈচিত্র্য বজায় রাখতে’ অনুরোধ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডেমোক্রেটিক দলের প্রতিনিধি জো বিডেন তিনিও ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সবথেকে আশ্চর্য করেছে ইউনেসকোর বিবৃতি। কারণ আয়া সোফিয়াকে ‘মিউজিয়াম’ হিসাবে মেনে নিয়ে ইউনেসকো তাকে ‘ওয়াল্ড হেরিটেজ’ বলে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু আয়া সোফিয়াকে তার পুরনো মর্যাদা অর্থাৎ মসজিদ হিসাবে মেনে নিতে ইউনেসকো ঘোরতর আপত্তি জানিয়ে পরামর্শ বিতরণ করেছে। তবে ৫০০ বছরের মসজিদকে যখন ‘মিউজিয়াম’-এ পরিণত করা হল, তখন বা তারপরে এইসব বিশেষজ্ঞের দল মুখ বুজে থাকাই শ্রেয় মনে করেছিলেন। রাশিয়া, গ্রিস ও স্পেন ‘অর্থডক্স খ্রিস্টানরা’ প্রচুর সংখ্যায় রয়েছেন। তাদের দুঃখের কথাটা না হয় কিছুটা বোঝা যায়। কিন্তু পাশ্চাত্যের অন্যান্য খ্রিস্টান দেশগুলি কেন ক্ষোভে ফেটে পড়ছে তা বোঝা মুশকিল। তাদের আপত্তির পেছনে কতটা ধর্ম রয়েছে, আর কতটা রাজনীতি ও সুবিচার রয়েছে, তার পরিমাপ করা খানিকটা দুরূহ।

এমনকী সউদি আরব, মিশর প্রভৃতি দেশের কর্মকর্তারাও খুব একটা খুশি নন। তাদের ভীতি হচ্ছে, এসব কাজের ফলে এরদোগান আরব দুনিয়াতেও প্রবলভাবে জনপ্রিয় হচ্ছেন। আর এরদোগান হয়তো নিজেকে ভবিষ্যতে মুসলিম দুনিয়ার খলিফা হিসাবে ঘোষণা করতে পারেন। সংবাদমাধ্যমগুলি  বলছে, আয়া সোফিয়াকে এভাবে মসজিদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার পেছনে নাকি রাজনীতি রয়েছে। কেউই ভাবছে না, ইসলাম বিদ্বেষী কামাল আতাতুর্কও যে অন্যায় কাজ করেছিলেন, আয়া সোফিয়াকে ‘জাদুঘর’ থেকে ফের মসজিদের পরিবর্তিত করে শীর্ষ আদালত ও তুর্কির প্রেসিডেন্ট এরদোগান তাঁর প্রতিবিধান করলেন।

এ ছাড়া তাদের একবারও মনে পড়ছে না, খ্রিস্টান দুনিয়ায় স্পেনের কর্ডোভা শহরে যে বিশাল মসজিদ রয়েছে, যার স্থাপত্য, শিল্পকর্ম ও সৌন্দর্য্য আজও তুলনাহীন, তাকে খ্রিস্টানরা মসজিদে পরিণত করেছে। তার ভিতরে এখন খ্রিস্টানদের নানা ধর্মগুরুর মূর্তি শোভা পাচ্ছে। তবে মসজিদের কাঠামো ও অভ্যন্তরে আরবিতে কুরআনের ক্যালিওগ্রাফিকে কট্টর খ্রিস্টানরা এখনও বদল করতে পারেনি। কর্ডোভার মসজিদ ছাড়াও স্পেনে এই ধরনের বহু ইসলামি প্রার্থনা গৃহ ও অন্য কাঠামোকে জবরদখল করে খ্রিস্টানরা চার্চ বা অন্য ধর্মীয় স্থাপত্যে পরিণত করেছে। কিন্তু খ্রিস্টান জগৎ মিউজিয়ামকে তার পুরনো মসজিদে ফিরিয়ে দেওয়ায় ক্ষেপে লাল! পবিত্র শহর জেরুসালেমে আলআকসা মসজিদকে দখল করার জন্য ইহুদিরা বহু বছর ধরে পাঁয়তারা চালাচ্ছে। অবশ্য তার বেলা কারও কোনও মাথাব্যথা নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only