বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

তেলেঙ্গানা সচিবালয়ে ভেঙে ফেলা দু’টি মসজিদই অবিলম্বে নির্মাণের দাবি জামায়াতের


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামি হিন্দ-এর তেলেঙ্গানা শাখা দাবি করেছে যে, সম্প্রসারণের নামে সচিবালয় চত্বরে ভেঙে দেওয়া মসজিদগুলি পুনরায় নির্মাণ এবং একই জায়গা তা তৈরি করতে হবে।

মসজিদ ভেঙে ফেলার পর তা পুনরুদ্ধারের দাবি ক্রমবর্ধমান। যেহেতু এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকার ধর্মীয় সংগঠন বা  গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি। যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল বলে জামায়াতে ইসলামি হিন্দ মনে করে।

জামায়াতে ইসলামি হিন্দ তেলেঙ্গানার আমির মাওলানা হামিদ মুহাম্মদ খান সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে, রাজ্য সরকারকে সচিবালয় প্রাঙ্গণে হাশমি মসজিদ ও মসজিদ দফতর-এ-মুতমাদির পুনর্গঠন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাওর উচিত এই বিষয়ে নীরবতা ভেঙে এবং অবিলম্বে সচিবালয়ের শহিদ মসজিদগুলির পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রী এই দু’টি মসজিদের শাহাদাত এবং একটি মন্দির ধ্বংসকে দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন এবং ঘটনার গুরুত্ব হÉাস করার জন্য একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক প্রচেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে, মৌখিক প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক বিবৃতি ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এটি মুসলমানদের কাছে কোনও গুরুত্বের নয়।

মাওলানা হামিদ মুহাম্মদ খান বলেছেন যে, নতুন সচিবালয়ের মানচিত্রে এসব মসজিদ ও মন্দিরের কথা বলা হয়নি। সমস্ত মুসলিম সংগঠন এবং উলামায়ে মাশাইখদের দাবি সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এই মর্মান্তিক ঘটনাকে সংশোধন করার জন্য সুস্পষ্ট কোন আশ্বাসও দেয়নি। মুসলমানরা মারাত্মক বেদনার মধ্যে রয়েছে এবং এই ক্ষোভ ও বেদনা সময়ের সঙ্গে আরও গভীরতর হবে। জনাব হামিদ মুহাম্মদ খান বলেন যে, সরকারের কাছে এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত, যে জমির উপর মসজিদটি নির্মিত হয়েছে সেখানেই কায়ামত অবধি মসজিদই থেকে যায়। এটি কোনও জায়গায় স্থানান্তরিত করা যায় না এবং কোনও জমিও এর বিকল্প হতে পারে না। ওয়াকফ বোর্ড বা মুসলমানদের কেউই তা দেওয়ার অধিকার রাখেনি। তিনি দাবি করেন যে, মুসলমানদের অনুভূতি এবং এবং মসজিদের পবিত্রতার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে নিজস্ব ব্যয়ে একই জায়গায় মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিতে হবে এবং জনগণের মধ্যে তাদের আস্থা খ্যাতি ফিরিয়ে আনতে হবে।

একইসঙ্গে নতুন সচিবালয় ভবনের মানচিত্রে এই মসজিদগুলি একই জায়গায় চিহ্নিত করা উচিত। এই সমাধান তেলঙ্গানা রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সরকারের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বেঁচে থাকার প্রতীকও হবে। মাওলানা হামিদ মুহাম্মদ খান বলেছেন, সরকার যদি এই সিদ্ধান্তে ব্যর্থ হয় তবে জনগণের কাছে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতিবাদ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

 


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only