বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

বর্মিজ সেনার তাণ্ডবেই রাখাইনে ২০০ বাড়ি পুড়ে ছাই, উপগ্রহ চিত্রে হাতে নাতে মিলল প্রমাণ


রাখাইনের লেট কার গ্রামের উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ  করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাতে সংখ্যালঘুদের প্রায় ২০০ বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে রোহিঙ্গা নিপীড়নেরও মিল পাওয়া গেছে।

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কোনওমতেই সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। মানবাধিকার কর্মীদের জন্যও মায়ানমারের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা রাখাইনের দরজা বন্ধ। ভুলত্রুটি,অত্যাচারের বাস্তবতা যাতে বিশ্বের কাছে প্রকাশ না পায় তার ব্যবস্থা ভালোই করে রেখেছে বর্মিজ সরকার। তবে প্রযুক্তির কাছে এসে সকলকেই নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে কখনও কখনও। এবার মায়ানমারেরও অজানা অত্যাচারের ছবি ফাঁস হয়েছে। সবটাই উপগ্রহ চিত্রের দৌলতে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, গত সপ্তাহে পশ্চিম রাখাইনের লেট কারগ্রামে ২০০ বাড়ি ও ভবন পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। নানা সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে সেনারা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক নির্বাহী পিল রবার্টসন বলেন– ‘লেট কার গ্রাম পোড়ানো সাম্প্রতিক বছরগুলো তো মায়ানমারের সেনা দ্বারা রোহিঙ্গা গ্রাম পোড়ানোরই একটি হলমার্ক।এই গ্রামে কী হয়েছে, যারা গ্রামবাসীদের ক্ষতি করেছে ও যারা এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী, তাদের বিচার করতে জরুরি ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে দাবি সংস্থাটির।

গত মাসে সেনাবাহিনীর বন্দি নির্যাতনের এক ভিডিয়ো সোশ্যাল সাইটের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে মায়ানমারের সেনাবাহিনী স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, তারা সংখ্যালঘু রাখাইন বন্দিদের ওপর প্রাক্তন বাসিন্দা বলেন, গত ১৭ মে তার নিজের বাড়ি সহ ১৯৪টি ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি স্কুল। রাখাইনের পার্লামেন্ট সদস্য তুন থার সেইন বলেছেন,সেনাবাহিনী এখানে অভিযান চালিয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয় সরকাকে গ্রামবাসীদের জন্য ত্রাণ সহায়তা দিতে বলেছি।এ দিকে সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, এই অঞ্চলে আরাকান আর্মি হামলা করার পরই সেনাবাহিনী এখানে প্রবেশ করে। তারা দাবি করে আরাকান বিদ্রোহিরা ২০টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে ১৯ মে এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আরাকান আর্মির মুখপাত্র কেইনি থুকা এই হামলার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। মায়ানমার সেনাবাহিনী আরাকান আর্মিকে সন্ত্রাসী দল হিসাবে উল্লেখ করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আরাকান বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধের বাহানায় বর্মিজ সেনাবাহিনী এতদিন ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের উচ্চ আদালত বলেছে, মায়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only