রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

অচলাবস্থা কাটল পেট্রাপোলে, বন্দরে ঢুকল আমদানীকৃত পণ্য




এম এ হাকিম, বনগাঁ 

অবশেষে বাংলাদেশ থেকে রফতানির পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশের মধ্যদিয়ে দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত  বাণিজ্য নিয়ে অচলাবস্থা দূর হয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে।

করোনাজনিত কারণে লকডাউনের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় তিনমাস ধরে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। গত ৭ জুন থেকে ভারতের পণ্যবাহী রফতানির ট্রাক বাংলাদেশে গেলেও বাংলাদেশ থেকে তাঁদের  রফতানির ট্রাক ভারতে আসছিল না। জনস্বাস্থ্য ও অন্যান্য কারণে ভারতীয় প্রশাসনিক ছাড়পত্র না মেলায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রফতানির পণ্য পেট্রাপোল বন্দরে পাঠাতে পারছিলেন না। 

এনিয়ে সেদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ১ জুলাই থেকে তারা ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ঢোকা বন্ধ করে দেন। সেদশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সাফ জানান, বাংলাদেশের রফতানির পণ্যবাহী ট্রাক ভারতীয় বন্দরে যেতে না পারলে তাঁরাও ভারতীয় কোনও পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করবেন না। এভাবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেঁকে বসায় দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিন ধরে বিষয়টি প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। বাণিজ্যে অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগ নেন জেলা পরিষদের মেন্টর ও বনগাঁর সাবেক বিধায়ক গোপাল শেঠ ও অন্যরা। অবশেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি মেলায় আজ রোববার বিকেলে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টসের পাঁচটি পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ঢুকতে সমর্থ হয়েছে। এরফলে দু’দেশের ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দরের ল্যান্ড পোর্ট   অথরিটির ডেপুটি ডাইরেক্টর মামুন কবীর তরফদার বলেন, ‘ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট আজকে চালু হল। বিশেষকরে বাংলাদেশি এক্সপোর্ট আজ চালু হল। ২৫ মার্চের পর থেকে আজ পর্যন্ত বন্ধ ছিল। আজ তা চালু হল। ইমপোর্ট চালু হয়েছে গত ৭ জুন থেকে। এটা চালু হওয়ায় দু’দেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষকরে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভারতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ, ভারত সরকার, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার, স্থানীয় পৌরসভা- সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবং এক্সপোর্ট ও ইমপোর্ট যাতে  কোনোভাবে সমস্যার মধ্যে না পড়ে, নির্বিঘ্নে চলতে পারে সেই শুভকামনা করছি।’

বেনাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন,  ‘গত ২১ মার্চ থেকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে গত ৭ জুন ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি শুরু হয়। কিন্তু অনিবার্য  কারণবশত বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি বন্ধ ছিল। এনিয়ে একাধিক বৈঠকের পরে আজ প্রথম বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানি শুরু হয়েছে। রফতানি চালু হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব ভারতীয় ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতারা সহযোগিতা করেছেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

‘পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, ‘আমাদের এক্সপোর্ট হচ্ছিল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ ছিল ইমপোর্টের ট্রাক না নেওয়ার। আজ রাজ্য সরকারের সম্মতি মিলেছে। জেলা প্রশাসনের সম্মতিতে আমাদের ইমপোর্ট (বাংলাদেশ থেকে আমদানি) শুরু হল। এরমধ্যে দিয়ে দু’দেশের আমদানি ও রফতানি স্বাভাবিকের পর্যায়ে গেল। বাংলাদেশ থেকে আজ পাঁচটি পণ্যবাহী ট্রাক  ভারতে ঢুকেছে।’ আগামীকাল সোমবার থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে বলেও কার্ত্তিক বাবু জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only