বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

করোনার আবহে কেমন চলছে ঈদ-উল-আযহার প্রস্তুতি



দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূমই:

রামপুরহাট সহ বীরভূমের বিভিন্ন জায়গায় কনটেইনমেন্ট জোন। কেউ কেউ আছেন কোয়ারিন্টিন সেন্টারে।  বাজার দোকান পাট বেলা ১২ টার আগে পর্যন্ত খোলা। তার পর লক ডাউন। রামপুরহাটের কথা ধরা যাক, হাটতলা পুরোটা কনটেইনমেন্ট জোনের মধ্যে। ঈদের বাজারে সবকে ছাপিয়ে ভিড় দেখা যেত এখানেই। সিমাই, লাচ্চার সারি সারি দোকানে মানুষের ভিড় ছিল নজর কাড়ার। এবার শুধু বাঁশ দিয়ে ঘেরার ছবি। রাস্তার ধারে ইতিউতি ছড়ানো সিমাইয়ের দোকান। ভাঁড়শালা মোড়, ডাকবাংলো, দেশবন্ধু ও ব্যাঙ্ক রোডে দু-একটি দোকান। সেখানেই সেরে নিতে হচ্ছে বাজার। এবার খোলা সিমাই আমদানি খুব একটা হয়নি। যা দেখা গেল তার দর ৭০ থেকে ১০০। হলদি রামের সিমাই প্যাকেট ১০০টাকা কেজি। ফলের দামও আকাশ ছোঁয়া। আপেল ১৫০ থেকে ২০০টাকা কেজি। 

বাড়িতে সিমাই হবে। তবে এবার হবে না ভিড়। অথচ সাবেক রীতি ছিল  রান্না ঘরের সুঘ্রাণের মোহে পাড়া প্রতিবেশী মিলে মিশে একাকার হওয়া। এবার সেটি হওয়ার জো নেই। তাই উৎসবের ধার্মিক অনুষঙ্গ ছাড়া সবটাই মন খারাপের।
 
পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের উৎসব এই ঈদ উল আজহা। কিন্তু এবার লকডাউনের গেরোয় রামপুরহাটের গরুর হাট বুধবারে বন্ধ। অন্যান্য হাটের অবস্থা একই। আন্তঃজেলা সীমান্ত থেকে আর্ন্তরাজ্য সীমান্ত বন্ধ থাকায় পশু কারবার বন্ধ।  অন্য বছর সার বেঁধে লোহাপুর ও মুরারইয়ে উটের যাওয়া নজরে পড়তো। এবার সেটা নেই। গ্রামের মধ্যে যে পশু আছে তার দামও চড়া। মানুষের হাতে পয়সা নেই। তার উপর শুরু বর্ষার চাষ। তাই কুলিয়ে উঠতে পারছে না মানুষ। 

মারগ্রামের গোদাম পাড়ার পেশ ইমাম কাজি গোলাম মুরসেলিন জানান, করোনা সঙ্ক্রমণ এড়াতে এবার ছোট ছোট করে জামাতের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তাই প্রতি মসজিদে ভিড় হবে না। মাস্ক পরে, সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রেখে অনেকেই বাড়ির ছাদে বা নিজের বাড়িতে ছোট আকারে ঈদের নামাজ পড়বেন। জেলার বিভিন্ন মসজিদে সকাল ৭ টা থেকে ৭-৩০ এর মধ্যে নামাজ শুরু হবে। কোন কোন মসজিদে শুরু হবে সকাল ৮ টায়, বলে জানান রামপুরহাটের চামড়া গুদাম পাড়া মসজিদের ইমাম সফিকুল ইসলাম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only