সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

যোগী রাজ্যে ৮ পুলিশকর্মী খুনের ঘটনায় ধৃত এক অভিযুক্তের কাছ থেকে উঠে আসলো অবাক করা তথ্য!

কানপুর, ৬ জুলাই:­ যোগী রাজ্যে ৮ পুলিশকর্মী খুনের ঘটনায় ধৃত এক অভিযুক্ত। ধৃত দয়া শঙ্কর অগ্নিহোত্রীকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে সে জানায়, পুলিশের গোপন অভিযানের কথা স্থানীয় থানা থেকে আধঘণ্টা আগেই জানতে পেরে যায় গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। আর সেইমতো নিজের গ্যাংকে বন্দুক আর পাথর দিয়ে বসিয়ে দেয় এলাকার বাড়ির ছাদে। এ দিকে ৮ পুলিশকর্মীর ময়নাতদন্তেও মিলেছে হাড়হিম করা তথ্য। এর পাশাপাশি কানপুরে বিকাশের গ্রামের বাড়ি তল্লাশি করে মিলেছে অস্ত্র মজুদ রাখার একটি বাঙ্কারেরও।

এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত। যে কুখ্যাত ডনকে গ্রেফতার করতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন ৮ পুলিশকর্মী, সেই বিকাশকেই সাহায্য করেছিল খোদ পুলিশই! ওই খবরের জেরে আগেভাগেই সতর্ক হয়ে গিয়েছিল অপরাধ জগতের বেতাজ বাদশা। বিকাশেরই এক সাগরেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

ধৃত দয়া শঙ্কর অগ্নিহোত্রীকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এনকাউন্টারের সময় ওই বাড়িতেই ছিল সে। তবে সে কিছুই দেখতে পায়নি। কারণ তাঁকে ঘরের ভিতর আটকে দেওয়া হয়। ধৃতের আরও দাবি, পুলিশি অভিযানের কথা আগেই জানতে পেরেছিল বিকাশ। পুলিশ আসার ঠিক আধঘণ্টা আগে ফোনটি এসেছিল। তারপর সেইমতো শুরু হয় সাঙ্গোপাঙ্গদের সাজানো। কিন্তু কে খবরটি দিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। 

এ দিকে বিকাশের সঙ্গে চৌবেপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিনয় তিওয়ারির যোগাযোগের খবর আসতেই, গ্রেফতার করা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসারকে। তবে কেবল চৌবেপুর থানার এই অফিসার নয়, বিকাশ দুবের কল রেকর্ড এবং অন্তত ৫০০ মোবাইল ফোন ঘেঁটে দেখা গিয়েছে শিবরাজপুর থানার বেশ কিছু পুলিশকর্মী এবং চৌবেপুর থানার আরও কয়েকজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এই গ্যাংস্টারের। 

তদন্তকারী অফিসাররা আরও জানিয়েছে, কানপুরের গ্রামের বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্রশস্ত্র মজুদ রাখার জন্য বাঙ্কার ছিল। সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান জেলার আইজি মোহিত আগরওয়াল।

এর পাশাপাশি ৮ পুলিশকর্মীকে যে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল, তা উঠে এসেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। বিলহাউরের সার্কল অফিসার দেবেন্দ্র মিশ্রের পায়ের আঙুলসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এতেও শান্তি হয়নি তাদের। এরপর কুড়ুল দিয়ে দেহ থেকে মাথাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আর অন্যান্য পুলিশকর্মীদের একে-৪৭ দিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়।

আপাতত হন্যে হয়ে গ্যাংস্টার বিকাশকে খুঁজছে পুলিশ। সূত্রের খবর, আউরিয়া জেলায় বিকাশের শেষ লোকেশন জানা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের অনুমান, মধ্যপ্রদেশে পালানোর চেষ্টা করতে পারে বিকাশ। বিকাশ কোথায় গা ঢাকা দিয়েছে, তা জানতে গ্যাংস্টারের বাবা এবং বাড়ির পরিচারককে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only