মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০

মুসলিম বাবার ‘হিন্দু’ সন্তানের নামে দেদার সংখ্যালঘু বৃত্তি!


প্রদীপ মজুমদার

কংগ্রেস সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়নি এমনটা নয়, তবে বিজেপি শাসনামলের মতো এত খুল্লাম খুল্লা দুর্নীতি অসমবাসী আগে দেখেনি। অসমের শাসন ক্ষমতায় বিজেপি থাকার সুবাদে মুসলিম অভিভাবকদের হিন্দুসন্তানরাও সংখ্‌ বৃত্তি পেয়েছে। বাস্তবে যে স্কুলই নেই এমন বহু স্কুলের নাম দিয়ে হাজার হাজার ভুয়ো পড়ুয়ার নামে সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ সরকারি কোটি কোটি টাকা লুঠ হয়েছে। সংখ্যালঘু বৃত্তি কেলেঙ্কারিকে অসমের বিজেপি সরকারের নজিরবিহীন দুর্নীতি  আ্খ্যা দিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি তুললেন অসমের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদ। এর আগে অবশ্য একই দাবি তুলেছে অসম সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন এবং কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি। প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক একইসঙ্গে কৃষক মুক্তির আইনি লড়াইকেও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। 
সিদ্দেক আহমেদের দাবি, কংগ্রেস সরকারের আমলে হিন্দুর নামে মুসলমান বা অন্য কোনও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ প্রকাশ লুণ্ঠনের কোনও বদনাম নেই। বিজেপি সরকারের ছত্রছায়ায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে কৃষক মুক্তি সংগ্রামের নেতা জুনেইদ আহমেদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু বৃত্তি কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনার সদিচ্ছা সরকারের থাকলে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এক মন্থর গতিতে হত না। বৃত্তি কেলেঙ্কারিতে শাসক দলের অনেক নেতা-মন্ত্রী বিধায়ক জড়িত বলে সংশয় প্রকাশ করে সিদ্দেক আহমেদের অভিযোগ, ভুয়ো হিতাধিকারীদের ভুয়ো নথি তৈরি করার সুযোগ দিতেই অভিযুক্তদের ধরপাকড়ে বিলম্ব করছে পুলিশ। 
এ দিকে সংখ্যালঘু বৃত্তি নিয়ে যথেচ্ছাচারের একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। বৃত্তি কেলেঙ্কারিতে এবার নাম জড়ালো স্বাধীনতার বছরে তৈরি স্কুলের। নিলাম বাজারের কাছে দুর্লভ ছড়ায় সিভিপি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ৩০ জন ভুয়ো পড়ুয়ার নামে বরাদ্দ হয়েছে ১০ হাজার তিনশো টাকা করে। ওই স্কুলের ৩০ জন পড়ুয়ার নামে পাওয়া তিন লক্ষ নয় হাজার টাকা কার পকেটে ঢুকল কেউ বলতে পারেন না। করিমগঞ্জ জেলার প্রায় ৯৮ শতাংশ সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসার নাম জড়িয়েছে সংখ্যালঘু বৃত্তি কেলেঙ্কারিতে। অথচ ওইসব বিদ্যালয়ের বা মাদ্রাসার কোনও প্রকৃত সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রী বৃত্তির টাকা পায়নি বলে অভিযোগ কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির জেলার মু্খ্য উপদেষ্টা জুনেইদ আলম ও জেলা সভাপতি ফজলে আলম সিদ্দিকীর। তাঁরা প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে সিবিআই তদন্তের দাবিতে গুয়াহাটি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only