বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীকে সাহস যোগাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে নতুন করে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে জনমানসে কিছুটা আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। বেলাগাম সংক্রমণে রাশ টানতে সপ্তাহে দু’দিন করে সম্পূর্ণ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে সেই লকডাউন নীতি। তার কয়েক ঘণ্টা আগে নবান্নে দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাহস নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর আর্জি জানিয়ে বললেন, ‘করোনাকে ভয় পাবেন না। লড়াই করার নামই জীবন। সাহসের সঙ্গে লড়াই করুন। রোগের বিরুদ্ধে লড়ুন। রোগীর বিরুদ্ধে নয়।’

করোনার কারণে থমকে গিয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্থবির হয়ে পড়েছে জীবন-জীবিকা। দেশে করোনার আবহে আর লকডাউন পর্বে যেখানে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে, সেখানে রাজ্য সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র। লকডাউন পর্বে বেকারত্ব কমেছে। এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা শুধু যে সামাজিক আর মানসিকভাবে আঘাত হেনেছে, তা নয়। অর্থনীতিতেও আঘাত হেনেছে। তবুও আমরা করোনার আঘাতের মোকাবিলা করতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। তার ফলও পেয়েছি। দেশে বেকারত্ব বাড়লেও রাজ্যে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে আসায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছি।’

করোনা আর আমফানের মতো জোড়া বিপর্যয়ের মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে নয়া দিশা দিতে চাইছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আর সেই কাজ যাতে পরিকল্পিতভাবে করা যায়, তার জন্য এ দিন নবান্ন সভাঘরে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, উদ্যান পালন ও মৎস্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবনের জন্য বেশ কিছু দাওয়াই বাতলেছেন তিনি। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের দিকেও বিশেষ নজর দিতে বলেছেন।

এ দিন নবান্ন সংলগ্ন নতুন প্রশাসনিক ভবন উপান্নেরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিন তলা বিশিষ্ট নয়া প্রশাসনিক ভবনে মূলত মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলের দফতর থাকছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসা অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই গ্রিভান্স সেল গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মাধ্যমেই রাজ্যের সব প্রান্তে সরকারি প্রকল্পের কাজকর্মের উপরে যেমন নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই কোনও অনিয়ম ঘটলে তাও নিমিষে গোচরে চলে আসছে। 

মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মীরা সামনে থেকে কীভাবে লড়াই করছেন, তার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন--- ‘বহু পুলিশ কর্মী সামনে থেকে লড়াই করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৪০০ থেকে ৫০০ পুলিশ কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তবু তাঁরা ভেঙে পড়েননি, মনোবল হারাননি। আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু মনোবল হারাননি। রোগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। সবাই একসঙ্গে লড়াই করলে তাকে হারিয়ে আমরা জয়ী হব।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only