রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

৪০০ টাকায় টেস্ট কিট!


সেখ জামাল, খড়গপুর

সুলভ মূল্যে ও কমসময়ে করোনা পরীক্ষার যন্ত্র আবিষ্কার খড়গপুর আইআইটি-র। বাজারে চলতি বিপুল দামের করোনা পরীক্ষার মেশিনকে চ্যালেঞ্জ করেই এই মেশিন কাজ করতে সক্ষম। যেখানে বর্তমানে করোনা পরীক্ষা করতে বেসরকারি ল্যাবে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ, সেখানে এই মেশিনের দামই পড়বে দু’হাজার টাকা। 

পরীক্ষার মূল্য মাত্র চারশো টাকার মতো। বর্তমানের করোনা পরীক্ষার আরটিপিসিআর মেশিন যেখানে নমুনা পরীক্ষা করতে ৫ ঘন্টার বেশি সময় নেয়, সেখানে এক ঘন্টাতে ফলাফল দেবে। আরও গুরুত্বপুর্ণ আইআইটির দাবি,কোনও বিশাল অভিজ্ঞ চিকিৎসক নয়, একজন মাধ্যমিকের পড়ুয়াও ফলাফল বের করে নিতে পারবে। মেশিনের পরিচর্যার জন্য লাগবে না এসি রুমও। ব্যাটারি কিংবা সৌর বিদ্যুতেও যে কোনও স্থানে যে কেউ চালিয়ে ছোটো যন্ত্রটিতে করোনা সহ যে কোনও ভাইরাস পরীক্ষা করে নিতে পারবে বলে দাবি খড়গপুর আইআইটি-র। 

অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি বলে দাবি করেছেন আইআইটি খড়গপুরের গবেষকরা। শনিবার আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর অধ্যাপক বীরেন্দ্র কুমার তেওয়ারীর উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ‘ওয়েবনার’ বা অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই দাবি করলেন আইআইটির দুই গবেষক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এবং অধ্যাপক অরিন্দম মন্ডল। তাঁরা দাবি করেছেন,মাত্র এক বর্গফুট আকারের যন্ত্রটি তৈরি হয়ে গেছে এবং বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত যা কিনা করোনা পরীক্ষা বিশ্ব স্বীকৃত পদ্ধতি, আরটিপিসিআর মেশিনের ফলাফল আর এই মেশিনের ফলাফল ১০০ শতাংশ  মিলে গিয়েছে।

আইআইটির স্কুল অফ বায়োসায়েন্সের অধ্যাপক ও জীবানু গবেষক অরিন্দম মন্ডল দাবি করেছেন, ‘আমরা ৫০০টি সিনথেটিক নমুনা একই সঙ্গে আরটিপিসিআর ও আমাদের এই পোর্টেবল মেশিনে পরীক্ষা করে দেখেছি দু’পক্ষেই সমান ফলাফল এসেছে।’ মন্ডল জানান, ‘যেহেতু সরাসরি মানব দেহের নমুনা পরীক্ষা করার আধিকার আমরা বহন করি না, তাই আমরা সিনথেটিক নমুনা ব্যবহার করেছি। আমরা স্থির প্রত্যয়ী যে আইসিএমআর মানবদেহের নমুনা এই মেশিনে প্রয়োগ করলে একই ফল পাবে।’

অন্যদিকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক গবেষক সুমন চক্রবর্তী জানান, ‘কেন এই মেশিন যথার্থ তার উত্তরে বলতে হয় যে, এখানে একটি উন্নত মেশিনকে রক্ষণাবেক্ষনের খরচ নেই,তাঁকে সংরক্ষন ও সুরক্ষিত রাখার জন্য এসি ঘরের প্রয়োজন নেই, উন্নত মেকানিক বা টেকনিশিয়ান রাখার প্রয়োজন নেই, স্কিল বা দক্ষ লোকের দরকার নেই। একজন সাধারণ মানুষ শুধু এটি প্রয়োগ কৌশল শিখে নিয়েই কাজ করতে পারবেন। সেই কৌশল বাংলা,হিন্দিতে আমরা লিখে জানিয়ে দেব, আমরা একটি ভিডিও দেব যেখানে নমুনা সংগরহ করা থেকে তাকে মেশিনে ফেলে ফলাফল পাওয়া অবধি বিষয়টি হাতে কলমে শিখিয়ে দেবে। আমাদের সাধারন স্বাস্থ্য কর্মীরাই এটা করতে পারবেন। শুধু নমুনা সংগ্রহের সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেহেতু এই গোটা প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোনও খরচ নেই তাই পরীক্ষার খরচ কমে যাচ্ছে।’

চক্রবর্তী জানাচ্ছেন,এই মেশিনটির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘নভেল টেকনলজি ফর কোভিড-১৯র্ যাপিড টেস্ট’ সেখানে আগে থেকেই একটি রাসায়নিক যুক্ত কিটস থাকবে যার দাম কমাতে আমরা কাগজের কিটস বানাতে পারি তার ওপর নমুনা ফেললেই রং পরিবর্তিত হবে। সেই রং পরিবর্তিত কিটস বিশ্লেষণ করবে একটি স্মার্ট ফোন আ্যপ যে অ্যাপটি আমারই তৈরি করেছি। সেই অ্যাপই বলে দেবে নমুনা পজিটিভ না নেগেটিভ। সুতরাং কোনও এক্সপার্ট লাগছেনা। অথচ ফলাফল পাওয়া যাবে একশ শতাংশ ঠিক। যেহেতু এই গোটা প্রক্রিয়াতে কোথাও কোনও ব্যয়বহুল পদ্ধতি নেই, সবটাই আমাদের আগে থেকেই প্যাকেজিং করা তাই খরচও অত্যন্ত কম।

আইআইটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধুই করোনা নয়, ভবিষ্যতের দুনিয়ায় আসা যে কোনও ভাইরাস ঘটিত অতিমারির পরীক্ষায় কাজ করতে সক্ষম হবে এই মেশিন। খালি তার আগে কিছু প্রোগ্রামিং পরিবর্তন করে দিতে হবে।এই যন্ত্রটি পুরোপুরি বাজারের জন্য তৈরি হয়ে আছে বলে দাবি করেছে আইআইটির। এবার প্রচুর পরিমানে উৎপাদনক্ষম এমন উদ্যোগপতি এবং সরকার এগিয়ে এলেই এই যন্ত্র বাজারে চলে আসতে পারে জানানো হয়েছে আইআইটির তরফে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only