বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

অসম চুক্তির ৬ নং দফার তীব্র বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকপত্র প্রদান করল অসম খিলঞ্জিয়া কাছাড়ি সমাজ! বিস্তারিত পড়ুন


 জবরুল হক, করিমগঞ্জ:  এনআরসি ও অসম চুক্তির ৬ নং দফা নিয়ে সগরম অসমের রাজনীতি। এনআরসিতে ১৯৫১ ও ১৯৭১ কে ভিত্তিবর্ষ ধরে দ্বিনাগরিকত্ব আইন আনতে চলছে। আর তা নিয়ে বিপদে পড়তে পারে অসমে হিন্দু বাঙালিরা। আবার অন্যদিকে আসুর ফাঁস করা অসম চুক্তির ৬নং দফা রূপায়নের জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে অসম সরকার। অসম চুক্তির প্রতিটি দফা বাস্তবায়নের জন্য অসম সরকার দায়বদ্ধ। তাই চুক্তিটি রূপায়নের মাধ্যমে একটি বিদেশী মুক্ত অসম গড়তে হবে। এক্ষেত্রে সরকার কাজ করে চলছে। ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবসে গুয়াহাটির জজ ফিল্ডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার পর এ কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল।


          এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাষনের তীব্র বিরোধিতা করে অসম চুক্তির ৬ নং দফা সম্পূর্ণরূপে নাকচ করার জন্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকপত্র পাঠিয়েছে সারা আসাম ভূমিপুত্র খিলঞ্জিয়া কাছাড়ি সমাজ। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নীলসিং মুসাহারি, কার্যকরী সভাপতি মানস বরা ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সনোয়াল এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়ে বলেন, অসমে দশ বছরের বেশি বছর ধরে কাছাড়ি রাজারা রাজত্ব করে এসেছেন। কাছাড়িদের ইতিহাসভূমি, রাজভূমি, পিতৃভূমি, কর্মভূমি হচ্ছে এই অসম। অসম কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ফলে অসমে বসবাসকারী যে সকল কাছাড়ি তথা জনজাতিদের উপর দমননীতি হচ্ছে তা আদতে দেশের সংবিধানকে অবমাননা করা। সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে বলে, আসু অসমের অভিভাবক নয়। তার কথায় অসম চলে না। সত্য কথা যে মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব স্বীকৃত অসমিয়ারা আসল অসমিয়া নন। অসমে কাছাড়ি তথা জনজাতিদের উপর দমননীতি চলবে না প্রদীপ সনোয়াল তীব্র ক্ষোভের সুরে বলেন, এভাবে বছরের পর বছর জনজাতিদের বলির পাঠাঁ বানিয়ে এই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র অতি সত্তর বন্ধ করতে হবে আর তা না হলে প্রয়োজনে সমগ্র অসমব্যপিয়া এক বৃহত্তর আন্দোলনে গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


       তিনি আরও বলেন, খিলঞ্জিয়া বলে দাবি করে আসারা প্রকৃতার্থে উগ্র জাতীয়তাবাদী। কারন রাষ্ট্রসংঘের নীতি অমান্য করা, ভারতের সংবিধান বিশ্বাস না করা এবং ইতিহাসবিরোধী আইন অমান্য কারী এরা। কাছাড়ি সমাজ দাবি জানায়, অসম সরকার ও আসু একই মুদ্রার এপিঠ ও পিঠ। তাদের উদ্দেশ্য ভূমিপুত্র কাছাড়িদের গ্রাস করা। আর এজন্য কাছাড়ি সমাজ বসে থাকবে না প্রয়োজনে বিষয়টি বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাবে। তাদের দাবি না মানলে বড়ো কাছাড়িরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং বিজেপিকে আগামী নির্বাচনে গদিচ্যূত করা হবে বলে জানান তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only