রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬৫ আসন বাদ দিয়েই বিধানসভা ভোটের রণকৌশল বিজেপির



পুবের কলম প্রতিবেদক­‌: সংখ্যালঘুদের ভোট ছাড়া যে বাংলার ‘কুর্সি’ দখল অসম্ভব তা ভালোই জানেন রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতারা। তাই সংখ্যালঘুদের কাছে টানতে একটা মরিয়া চেষ্টা চলছে। তৃণমূল থেকে আসা মুকুল রায় নিজেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে বিশিষ্টদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগও চালাচ্ছেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই মিশন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকায় আপাতত একুশের বিধানসভা ভোটে ‘বাজিমাত’ করতে নয়া রণকৌশল তৈরি করছে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষনেতারা। 


সূত্রের খবর, রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে যে ৬৫টি আসনে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুরা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়, সেই আসনগুলিকে বাদ দিয়েই ১৫০ আসনকে জয়ের ‘টার্গেট’ করা হয়েছে। কিন্তু ২২৯ আসনের মধ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য ১৪৮ আসন জেতা মিরাকেল বাদে সম্ভব নয়। যে ৬৫ আসনকে বাদ দিয়ে ঝাঁপানো হচ্ছে তার মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি, উত্তর দিনাজপুরের ৩টি, মালদার ৮টি, মুর্শিদাবাদের ১৬টি, নদিয়ার ৪টি, উত্তর ২৪ পরগনার ৮টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৮টি, হাওড়ার ৪টি, হুগলির ৪টি, পূর্ব মেদিনীপুরের ২টি, পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি, পূর্ব বর্ধমানের ২, পশ্চিম বর্ধমানের ২, বীরভূমের ২টি আসন রয়েছে। 


গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ফল করলেও ওই ৬৫টি বিধানসভা আসনে শুধু বিজেপি পিছিয়েই ছিল না, বেশ ব্যাপক ভোটে পিছিয়ে ছিল। ওই বিধানসভা আসনগুলিতে দলীয় সংগঠন এখনও এতটা দুর্বল যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বুথে বুথ কমিটিই গঠন করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া সর্বশক্তি নিয়ে কোমর কষে ঝাঁপালেও সংগঠনকে খুব একটা শক্ত ভিতের উপরে দাঁড় করানো যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী নন ভােটের রণকৌশল রচনার দায়িত্বে থাকা বঙ্গ বিজেপির নেতারা। তাই ওই ৬৫ আসনে শক্তি নিয়োগ করার চেয়ে অন্য আসনে সেই শক্তি নিয়োগ করলে কাজে আসবে অর্থাৎ সুফল মিলবে বলে মনে করছেন তাঁরা।


রাজ্য বিজেপির এক সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ‘নিচুতলায় কিছু সংখ্যালঘু মানুষ বিজেপিতে আসছেন বটে, কিন্তু তাঁদের তেমন নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা যেমন নেই, তেমনই সম্প্রদায়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাও নেই। ফলে সংখ্যালঘু এলাকায় খাতা-কলমে সদস্য সংখ্যা বাড়লেও সংগঠন শক্তিশালী ততটা শক্তিশালী হয়নি। বরং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন অনেক বেশি চাঙা। মুসলিমদের কাছে টানতে গিয়ে হিন্দুদের সরিয়ে দেওয়াটা ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে।’


রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখকে দলে টানার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাদের দলে টানলে যেহেতু প্রার্থী করতে হবে, তাই পদ্ম শিবিরের শীর্ষনেতৃত্ব এ বিষয়ে আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত প্রচারকদের কাছ থেকে সবুজসংকেত না পাওয়া পর্যন্ত ধীরে চলো নীতি নিয়েছে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only