মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

‘মহিলা যিশু! মেড ইন চায়না’ বিতর্ক

ইসলাম ধর্ম ও তার অনুসারী মুসলিমদের পর এবার চিনের রোষে পড়ল খ্রিস্টানরাও। জুলাইয়ে বেশকিছু গির্জার ক্র‍ুশ চিহ্ন ভেঙে দেওয়া হয়। তাছাড়া চিনে বসবাসরত খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বাড়িতে যিশুখ্রিস্টের মূর্তি বা ছবি টাঙানো যাবে না। পরিবর্তে প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা মাও সে তুং এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছবি রাখতে হবে। 


এবার যা ঘটল তা অকল্পনীয়। খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা যাঁকে ‘গড’ বলে বিশ্বাস করেন, সেই যিশুর নতুন সংস্করণ নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এই মেড-ইন-চায়না যিশু পুরুষ নন, মহিলা। যা নিয়ে হইচই ও তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্বভাবতই বিতর্কের ঝড় আছড়ে পড়েছে নিকটতম প্রতিবেশি দেশ ভারতেও। ভারতের উত্তর-পূর্বের মনিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশের মতো খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে তীব্র চিনবিরোধী প্রভাব পড়েছে। 


নাগাল্যান্ডের ব্যাপটিস্ট চার্চ কাউন্সিল সেখানকার খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদেরকে সতর্ক করে চিনের মহিলা যিশুর বিরোধিতায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটে চিনা যিশুর বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হয়েছে। ‘চার্চ অব অলমাইটি গড ফ্রম চায়না’ন শিরোনামে এই ক্যাম্পেইন চলছে। তাঁদের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে চিন। 


খ্রিস্টানদেরকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা হচ্ছে। মহিলা যিশু গোষ্ঠীর অনুগামীদের বক্তব্য, প্রভু যিশু ফের নতুন করে জন্মলাভ করেছেন। তবে বেথলেহম নয়, এবার তিনি নারী র‍ূপ ধারন করে জন্মগ্রহণ করেছেন চিনে। এই মহিলা যিশুর নাম দেওয়া হয়েছে ইয়াং ঝিয়াংবিন। লাইটনিং ডেং বলেও তাঁকে ডাকা হচ্ছে। ফেসবুকে বহু পেজ খুলে লক্ষাধিক ফলোয়ার বা অনুগামীও জুটিয়েছে তারা। নাস্তিক চিন শুধু এখানেই থেমে নেই। তারা বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টকেও বদলে ফেলেছে বা বিকৃত করেছে। এমনকী বিভিন্ন পশ্চিমা দেশেও তারা  খ্রিস্টধর্মের সমান্তরাল এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে প্রচার চালাচ্ছে এবং অনুগামীর সংখ্যা বাড়ােেচ্ছ।


যদিও বছর দুয়েক আগে খ্রিস্টধর্মের সর্বোচ্চ পীঠস্থান ভ্যাটিকানের সঙ্গে চিন সরকারের কথাবার্তা হয়েছিল। সেখানে জানা গিয়েছিল, কমিউনিস্ট মতাদর্শ অনুযায়ী চিন সরকার নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী হলেও তাদের দেশের সংবিধান যেহেতু ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে। তাই তারা চিনে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুশীলনের সুবিধার্থে চার্চ বা গির্জা নির্মাণে ছাড়পত্র দেবে। তারপরেও চিন এভাবে গির্জা, বাইবেল থেকে শুরু করে যিশুকে পর্যন্ত কালিমালিপ্ত করায় ক্ষুব্ধ খ্রিস্টানরা। 


উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুসারে যিশুর আসল পরিচয় হল ঈশা আ.। তাঁর পরেই আসেন আখেরী নবী সা.। সুতরাং নবী-রাসূলগণের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ঈশা আ. ইসলাম ধর্মেরই প্রচার করেছিলেন। খ্রিস্টধর্ম নামে পৃথক কোনও ধর্মের প্রচার তিনি করেননি। ঠিক যেমনভাবে আরেক নবী মুসা আ.কে বিকৃত করে ইহুদিরা তাদের আরাধ্য বানিয়েছে। অথচ মুসা আ. কখনোই ইহুদি ধর্মের প্রচারক ছিলেন না। তিনিও ঈশা আ.-এর মতোই নবী ছিলেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only