বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

ক্ষমা চাইলে নিজের বিবেকের কাছে ও আদালতের চোখে অপরাধী হয়ে যাব‌: প্রশান্ত ভ‍ূষণ

আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণকে ফের একবার আদালত অবমাননার জন্য ক্ষমা চাইতে বলল শীর্ষকোর্ট। বিচারপতি অরুণ মিশ্র এ দিন বলেন, যদি আপনি কাউকে আঘাত করে থাকেন, তাহলে ক্ষমা চাইতে দোষ কী? আর কতদিন ধরে সিস্টেম এভাবে ভুগবে? আর কিছুদিনের মধ্যেই আমি অবসর নিতে যাচ্ছি। এটা কি ঠিক হবে তুমি বা অন্য কেউ আমাকে আক্রমণ করেই যাবে? এর আগে ১০০ পৃষ্ঠার একটি বিবৃতিতে প্রশান্ত জানিয়েছেন যে তিনি ক্ষমা চাইবেন না। 


ক্ষমা চাইলে তিনি নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে যাবেন এবং আদালতের চোখেও অপরাধী হবেন। অন্যদিকে, তার বিবৃতির জন্য আদালত বিনা শর্তে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছে এই ৬৩ বছর বয়সি আইনজীবীকে। মঙ্গলবার ফের আদালত ভূষণকে বিবৃতি প্রত্যাহার করার জন্য ভেবে দেখতে বলে।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে আদালত অবমাননার দায়ে ফৌজদারি মামলা হয়েছিল প্রশান্তের বিরুদ্ধে। তারই শুনানিতে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চ মঙ্গলবার মামলাটি অন্য বেঞ্চে পাঠানোর সুপারিশ করেন প্রধান বিচারপতির কাছে। প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠনের পর আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে আদালতে দু’টি মামলা চলছে। ২০০৯ সালে একটি সাক্ষাৎকারে জনৈক বিচারপতিকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে তিনি আদালত অবমাননার মামলায় জড়িয়ে পড়েন। 


সম্প্রতি বর্তমান প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে নাগপুরে হারলে ডেভিডশন মোটরবাইকে চেপে ছবি প্রকাশ করলে প্রশান্ত ভূষণ উচ্চ আদালতের কাজকর্ম ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, কাজের দিকে নজর না দিয়ে প্রধান বিচারপতি মোটরবাইকে চড়ে বেড়াচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ নিয়েও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁকে পুনর্বিবেচনা ও ক্ষমা প্রার্থনার জন্য ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশান্ত ভূষণ জানিয়ে দেন, তিনি সাভারকার নন যে ক্ষমা চাইবেন। ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের আজ কথা বলতে হবে বলে তিনি দৃঢ় মত ব্যক্ত করেন। তাঁর এই সাহসিকতা দেশের মানুষের মনজয় করেছে ইতিমধ্যে। 


এ দিন প্রশান্ত ভূষণের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান জানান, প্রতিষ্ঠান অবশ্যই সমালোচনা সহ্য করবে। শুধুমাত্র হালকা সমালোচনা নয়, কড়া সমালোচনাও। বিচারপতিদের কাঁধ অবশ্যই চওড়া হতে হবে। রাজীব ধাওয়ান আরও বলেন, ক্ষমা প্রার্থনা কূনও এভাবে চাপ দিয়ে নেওয়া যায় না। তার মতে, কোনওরকম সর্তকতা ছাড়াই ভূষণকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। আদালত এ দিন জানায় যে নিজের বক্তব্যকে মান্যতা দিতে তিনি যেভাবে জবাব দিয়েছেন তা খ‍ুবই দ‍ুঃখজনক। 


প্রশান্ত ভূষণের মতো একজন আইনজীবী তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পেশায় রয়েছেন, তার কাছে এই আচরণ আশা করা যায় না। অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল এ দিন বলেন, প্রাক্তন এবং বর্তমান বেশ কয়েকজন বিচারকই বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি নিয়ে ম‍ুখ খ‍ুলেছেন। এর জবাবে বিচারপতি মিশ্র বলেন, কিন্তু প্রশান্ত ভূষণ মনে করেন না যে তিনি যা করেছেন তা ভুল। তিনি ক্ষমা চাইছেন না। 


বেণুগোপাল তখন কোর্টে আবেদন করেন, যেন প্রশান্তের বিবৃতিকে ধর্তব্যে না নেয় আদালত। কিন্তু বিচারপতি মিশ্র বলেন, কেমন করে আমরা তা পারি? প্রত্যেকেই আমাদের সমালোচনা করছে। এটা যদি আমরা এখন দূর না করতে পারি তাহলে আমরাই পরে দোষী হয়ে উঠব সবার চোখে। আইনজীবী ভূষণের মতো কেউ কোনও মন্তব্য করলে তার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি মিশ্র।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only