বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

আমির খানের সঙ্গে তুরস্কের ফার্স্টলেডির সখ্যতাতেই জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে সংঘ পরিবার

দেশপ্রেমের মাপকাঠি কি আরএসএস ঠিক করে দেবে? সংঘ পরিবার যদি বলে তবেই কি কেউ দেশপ্রেমী? বর্তমানে দেশে কারা দেশপ্রেমিক আর কারা শত্র‍ুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে,  তা ঠিক করে দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এই পরিবারের বিনায়ক দামোদর সাভারকার একসময় ব্রিটিশদের কাছে মুচলেকা দিয়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন।

 

সাভারকার ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন এবং জনগণকে গান্ধীজীর ডাকে সাড়া দিতে নিষেধ করেছিলেন। আরএসএসের মুখপাত্রে এবার আক্রমণ করা হল দেশের জনপ্রিয় বলিউড তারকা আমির খানকে। দেশের শাসক দল বিজেপির আদর্শগুরু আরএসএস  ফার্স্ট লেডি এরদোগানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকে নিয়ে তাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে। একটি স্বাধীন দেশের বিশ্ব বিখ্যাত তারকা অপর একটি স্বাধীন দেশের (ভারতের শত্র‍ু নয়) ফার্স্ট লেডির সঙ্গে দেখা করলে বিতর্ক হতে পারে আমির খান তা বােধহয় জানতেন না।  না হলে তিনি নিশ্চয়ই আরএসএসের হেডকোয়ার্টার নাগপুর থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে যেতেন। 


আমির খান চিনা দ্রব্য এন্ডোর্স করছেন বলেও আরএসএস তার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছে।  আরএসএসের মুখপত্রে ‘ড্রাগনস ফেভারিট খান’ শীর্ষক একটি নিবন্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে এবং পরে দেশ প্রেমিক সিনেমাগুলিকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে এবং এর সঙ্গে গত পাঁচ-ছয় বছরের তৈরি ‘উরি দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, ‘মণিকর্ণিকা’ ইত্যাদি মুভির ঙ্গে তুলনা করেছে।  এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে আমির খান বেশ কিছু জাতীয়তাবাদী ও দেশাত্মবোধক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।  এর মধ্যে ‘মঙ্গল পান্ডে’, ‘রং দে বাসন্তী’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 


তার ভূমিকাকে কটাক্ষ করার চেষ্টা করে সেখানে লেখা হচ্ছে যে দেশে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছে যারা নিজেদের দেশের থেকে প্রতিদ্বন্দী চীন ও তুরস্ককে বেশি পছন্দ করে। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বলিউডে রাজত্ব করে চলেছেন আমির খান।  মিস্টার পারফেকশনিস্ট নামে খ্যাত এই অভিনেতা বহু ব্লকবাস্টার সিনেমা এবং সমালোচকদের দৃষ্টিতে প্রশংসার েযাগ্য সিনেমা দর্শককে উপহার দিয়েছেন।  বিদেশেও ছড়িয়েছে তার খ্যাতি।  


কিছুদিন আগে তিনি তুরস্কে গিয়ে সেখানে এমিনে এরদোগানের (প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের স্ত্রী) সঙ্গে দেখা করেন। এমিনে এরদোগান আমির খানের সঙ্গে তার ছবি সােশ্যাল মিডিয়ায় পােস্ট করেন এবং সেখানে জানান, বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় অভিনেতা, ফিল্মমেকার, পরিচালক আমির খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমি এটা জেনে খুশি যে আমির খান তার সাম্প্রতিক মুভি ‘লাল সিং চাড্ডা’র শুটিং তুরস্কের বিভিন্ন জায়গায় করবেন। 


আমির খানের সঙ্গে তুরস্কের ফার্স্টলেডির এই সখ্যতাতেই জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে সংঘ পরিবার।  অক্ষয় কুমার কানাডার নাগরিক হলে তাদের কােনো অসুবিধা নেই।  কিন্তু আমির খানের ভারতীয়ত্ব নিয়ে তাদের প্রবল জিজ্ঞাস্য। আরএসএস কটাক্ষ করে লিখেছে, তুরস্কের ফার্স্ট লেডির সঙ্গে ছবি তুলে সে দেশটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে চায়।  আমির খান তার আগামী মুভি লাল সিং চাড্ডা তুর্কিতে শুটিং করবেন এটা নিয়েও আরএসএস তার মুখপত্রে প্রশ্ন তুলেছে।’ 


যদি আমির খান নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবেন তবে কেন তিনি তুরস্কে শুটিং করবেন। মানুষ এখনো ভােলেনি তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে দেশ এত অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে যে আমার স্ত্রী ভীত। তিনি কেন সেই দেশের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছেন যেখানে সাংবাদিকরা স্বাধীনতাহীন, মানবাধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয় এবং সােশ্যাল মিডিয়াকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়।’ আরএসএস এই কথাগুলো লেখার সময় হয়তো ভুলে গিয়েছে কয়েকদিন আগেই কংগ্রেস কিভাবে ফেসবুক ও বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলে জুকারবার্গকে চিঠি লিখেছে।  তারা হয়তো ভুলে গেছে কিভাবে বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সুপ্রিম কাের্টে একের পর এক কেস ঝুলছে।  


সালমান খানের মুভি ’সুলতান’ চিনে ভালো ব্যবসা করতে পারেনি।  কিন্তু আমির খানের ‘দঙ্গল’ সিনেমাটি সেখানে ভাল ব্যবসা করেছে। এ নিয়েও দহন আরএসএসের মনে।  তাদের সন্দেহ আমির খান বিভিন্ন চিনা দ্রব্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর  বলেই সেখানে তার সিনেমা হিট হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের ডিরেক্টর, প্রােডিউসার, অভিনেতা, গায়ক, গীতিকার, মিউজিসিয়ান বহুদিন ধরে বলিউডের সিনেমায় অবদান রেখে চলেছেন। বর্তমানে উগ্র জাতীয়তাবাদের এ সময়ে বারবার তাদের দেশপ্রেম ও ভারতীয়ত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।  আরএসএসের মুখপাত্র সেই ট্রাডিশন সমানে বজায় রেখে চলেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only