শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

বিশ্ব ভারতী থেকে প্রাক্তন উপাচার্য সহ তিন আধিকারিক বরখাস্ত, কিন্তু কেন? জানতে বিস্তারিত পড়ুন



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন

প্রাক্তন উপাচার্য সহ তিন আধিকারিক বরখাস্ত করলো বিশ্ব ভারতী কর্তৃপক্ষ। এই মর্মে ওই তিন আধিকারিকের কাছে বিশ্বভারতীর তরফে একটি ওর্ডার কপি যায়। 

জানা গেছে, এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে একটি জবাবী চিঠি চেয়ে তাঁদের দোষ কবুল করতে বলা হয় এবং বিচারবিভাগীয় তদন্তে যে তাঁরা তিনজন দোষী সাব্যস্ত সে কথা উল্লেখ করা হয়। 

বিশ্বভারতী সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন "কর্মসমিতি"র বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্ত বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে প্রাক্তন উপাচার্য সহ তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে।এরা হলেন বিশ্বভারতী প্রাক্তন উপাচার্য সবুজকলি সেন, কর্ম সচিব সৌগত চট্টোপাধ্যায়, তৎকালীন বিত্ত আধিকারিক শমিত রায় । 

অভিযুক্ত দের দাবি, অত্যন্ত বেআইনি ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুবিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন তিন জন। শিক্ষক সংগঠনের একাংশের দাবি, আর্থিক দূর্নীতি ছাড়া এভাবে কাউকে বরখাস্ত করা যায় না। প্রাক্তন উপাচার্যের অবসর গ্রহণ ছিল ৩১ অগাস্ট। কিন্তু তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য ছিল বর্তমান উপাচার্যের। যার জন্য তাঁকে এই শাস্তি পেতে হলো। 

কর্ম সমিতি সিদ্ধান্ত বিকৃত করার অভিযোগে আগেই দোষী সাব্যস্ত হয় তিন আধিকারিক । এই নিয়েই শুক্রবার রাতে জরুরী ভিত্তিতে কর্ম সমিতির বৈঠক ডাকেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। শান্তিনিকেতনের রথীন্দ্র অতিথি নিবাসে রুদ্ধদার বৈঠক বসে। প্রায় রাত দশটা পর্যন্ত বৈঠক চলে। বৈঠকে দোষী সাব্যস্ত তিন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বরখাস্ত করার  সিদ্ধান্ত নেয়।কর্ম সমিতি সবুজ সংকেত মিলতেই শুক্রবার রাত দশটার পর বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে ইমেল মারফত ঐ তিন কর্তা কে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্বভারতীর অভিযোগ, ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কর্ম সমিতির বৈঠকের রেজুলেশনের পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ মন্ত্রক কে (ভূল তথ্য দিয়ে) মিস লিড করে উপাচার্য পদে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হযেছে। এমনই চাঞ্চল্য কর অভিযোগ ওঠে তিন আধিকারিককে বিরুদ্ধে। বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী দায়িত্বভার গ্রহণের পরেই প্রথম কর্ম সমিতির  সিংহভাগ সদস্যরা এই নিয়ে সোচ্চার হয়। ঘটনায় কর্ম সমিতি সদস্য দুলাল চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন উপাচার্য। সেই কমিটির রিপোর্টে গাফিলতি প্রমানিত হওয়ায়  ১২ জুন সাসপেন্ড করা হয় অভিযুক্ত তিন আধিকারিকে। 

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রাক্তন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে  এক সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত দের দোষী সাব্যস্ত করে ১৩ আগস্ট  রিপোর্ট জমা দেয়।

এদিকে আগামী ৩১ আগস্ট অর্থাৎ মাঝে একদিন পরেই অবসর নেবেন প্রাক্তন উপাচার্য তথা বর্তমানে দর্শন বিভাগের বরিষঠ অধ্যাপিকা সবুজকলি সেন।তার আগের দিন তাকে বরখাস্ত করা হল । বরখাস্ত করার চিঠি হাতে পেয়ে এক আধিকারিকের বলেন, "এটাই প্রত্যাশিত ছিল। এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তি গত প্রতিশোধের প্রকাশ। তদন্তে গাফিলতি থাকায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছি।"

একই ভাবে আগামী ১৫ মাস পরে অবসর নেবেন বিশ্বভারতীর তৎকালীন বিত্ত আধিকারিক বর্তমানে বোটানির বরিষ্ঠ অধ্যাপক শমিত রায়। তিনি বলেন, আমাদের কে বরখাস্ত করা হয়েছে সেই চিঠি শুক্রবার বেশ রাতে পেয়েছি। তিনি বলেন," এই সিদ্ধান্ত বেআইনি। কোন যুক্তি গ্রাহ্য কারন নেই। অত্যন্ত বেআইনি ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা আদালতের যাচ্ছি।"

অপর আধিকারিক সৌগত চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে রবীন্দ্র ভবনে কর্মরত। তাকেও বরখাস্ত চিঠি ধরানো হয়েছে। তবে এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেন নি তিনি।

তদন্ত কমিটি রিপোর্টের ভিত্তিতে তিন আধিকারিককে বরখাস্ত করার বিষয়ে চিঠি সংবাদ মাধ্যমের কাছে এলেও,  বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকারের কাছে এরকম কোনো খবর নেই বলে তিনি জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only