বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

দেশের দুই প্রান্তে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিকতার দুই নজির, হিন্দু বন্ধুর সৎকারে একা পারভেজ অন্যদিকে দুই হিন্দু দত্তক কন্যার বিয়ে দিলেন পাঠান

প্রদীপ মজুমদার

‘নানা ভাষা নানা মত’---থাকলেও বিবিধের মাঝে মিলনে মহান ভারতভূমি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে বিভেদের রাজনীতি মাথা চাড়া দিলেও মানুষের অন্তরের সংহতির সুরটি ঠিকই বেজে চলেছে। এখনও বেঁচে রয়েছে সম্প্রীতি শব্দটি। ধর্ম ও জাতপাতের তুলনায় মানবিকতা যে ঊর্ধ্বে সে কথা ফের প্রমাণ করলেন উজান অসমের পারভেজ মেহদি। সোমবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাল্যবন্ধু রাজেশ দত্তর মৃত্য‍ু হয়। করোনা সংক্রমণের ভয়ে কোনও নিকটাত্মীয় কিংবা প্রতিবেশীরা কেউ এগিয়ে আসেনি মৃতদেহের সৎকার করতে। 


এমনকী যোরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজেশের মরদেহ আনার লোক পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বাল্যবন্ধুর সৎকারে নিজের মানবিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এলেন পারভেজ মেহদি। সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনে যোরহাট হাসপাতাল থেকে রাজেশের লাশ বের করে আনে পারভেজ। এরপর গরমুর শ্মশানে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ হিন্দু নিয়মে বাল্যবন্ধুর শেষকৃত্যে সব ধরনের সহযোগিতা করেন পারভেজ। পারভেজের সঙ্গে রাজেশের স্ত্রী ও ১৪ বছরের পুত্র ছাড়া কেউ ছিল না। 


দেশের পূর্ব প্রান্তে যখন পারভেজ মেহদি মানবিকতা ও বন্ধুত্বের এক অন্যন্য নজির রাখছেন ঠিক তখনই মানবিকতা ও সংহতির আর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হল দেশের পশ্চিম প্রান্তের রাজ্য মহারাষ্ট্রে। যে রাজ্যে ধর্মে ধর্মে হানাহানির কথা মাঝেমধ্যেই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। সেখানে যে সব মানুষই ধর্মীয় ভেদাভেদে বিশ্বাসী হয়ে যাননি তারই প্রমাণ দিলেন আহমেদ নগরের বাবা ভাই পাঠান নামে এক ব্যক্তি। মুসলমান হয়েও তিনি নিজ খরচে প্রতিবেশী দুই গরিব পরিবারের তরুণীর বিয়ে দিলেন তিনি। এখন তাঁর কথাই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। 


বাবা-ভাই পাঠানের মহানুভবতা মু? করেছে সকলকে। তিনি মহারাষ্ট্রের আহমেদ নগরের বাসিন্দা। তাঁর প্রতিবেশী বিবাহবিচ্ছিন্না এক হিন্দু মহিলা। তাঁর দুই কন্যা গৌরী আর সাভরি। প্রতিবেশী বাবাভাইকে তাঁরা মামা বলে ডাকেন, কারণ তাঁর মা সভিতা ভুসারে প্রতিবছর বাবাভাইকে রাখী পরান। সভিতা মেয়েদের বয়স যখন খ‍ুবই কম তখন তাঁর স্বামী তাঁদের ছেড়ে চলে যান। সামান্য কিছু কাজকর্ম করে নিজেদের সংসার চলে। 


রাখী-ভাই বাবাভাইও মাঝেমধ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু মেয়েদের বিয়ে দেবেন কী করে এই চিন্তায় ঘুম ছুটেছিল সভিতার। মুশকিল আসান হয়ে পাশে এসে দাঁড়ান মুসলিম ভাইটিই। বাবাভাই গৌরী ও সাভারির জন্য পাত্র খ‍ুঁজে আনেন এবং ঘটা করে নিজের খরচে তাদের একসঙ্গে দুই বোনের বিয়েও দিলেন। 


সামাজিক মাধ্যমে বাবাভাই নিজে কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে একই রঙের বেনারসী শাড়িতে দুই বোন। আর তাদের বিদায় জানাতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবাভাই পাঠান।  বাবাভাইয়ের এমন মহানুভবতার জন্য প্রতিবেশী থেকে বন্ধু স্বজনরা তাঁকে বাহবা দিলেও তিনি কিন্তু বলছেন, এ আর এমনকী, নিজের ভাগ্নির মতোই দুই বোনের বিয়ের ব্যবস্থা করলাম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only