মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

পুজোয় হবে কি কেনাকাটা, আশায় দিন গুনছেন মেটিয়াবুরুজের পোশাক ব্যবসায়ীরা

 আবদুল ওদুদ

নোটবন্দি ও জিএসটির ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল মেটিয়াবুরুজ-এর পোশাক ব্যবসায়ীরা। আশা ছিল কয়েকবছর লোকসান সামলে হয়তো এ বছর কিছুটা হলেও লাভের ম‍ুখ দেখবে পোশাক শিল্প। কিন্তু লকডাউনে সবকিছুই ভেস্তে গিয়েছে। কোভিড-১৯’এর জন্য ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। সমস্ত ব্যবসা লাটে উঠেছে। ২৪ মার্চ প্রথম শুরু হয় লকডাউন। বস্ত্র ব্যবসায়ীরা প্রথমেই ধাক্কা খায় চৈত্র সেলে। এই চৈত্র সেলের দিকে তাকিয়ে থাকে বছর ভোর বস্ত্র ব্যবসায়ীরা। চৈত্র সেলের পর মুসলিমদের দু’টি বড় উৎসব।


ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা। তাতেও বেচাকেনা লাটে উঠেছে। হাতগুটিয়ে বসে থেকেছেন ব্যবসায়ীরা। চৈত্র সেল, দুই ঈদের পর তাঁরা আশা করেছিলেন হয়তো এবার দুর্গাপুজোয় কিছুটা হলেও বেচাকেনা হবে। কিন্তু বর্তমানে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে এ বছরও পুজোয় বেচাকেনাতেও কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। ফলে পুরো একটি বছর পোশাক শিল্পে সর্বনাশ নেমে এসেছে। 


মেটিয়াবুরুজ পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষ। তাঁরা আশা করেছিলেন পুজোর আগে কিছুটা হলেও কাজের অর্ডার মিলবে। কিন্তু না, জুলাই-আগস্ট মাসে কোনও অর্ডার আসেনি। ফলে পুজোর বাজারে যে ভালো কিছু হবে না, তা এখনও স্পষ্ট হয়েছে। মেটিয়াবুরুজে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা বলে জানান, ড্রিম গারমেন্টস-এর মালিক জাকির হোসেন। 


তিনি বলেন, মেটিয়াবুরুজে বড় বড় হাট রয়েছে। এই সমস্ত হাটে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের ঘর ভাড়া নেওয়া আছে। প্রত্যেক হাট মালিককের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। ব্যবসা না হওয়ার ফলে পুরো লিজের টাকাটা নষ্ট। ফলে গোটা একটা বছর চরম ক্ষতির ম‍ুখে ব্যবসায়ীরা। প্রত্যেক হাটে পজিশন অনুযায়ী লিজ নিতে হয়। তাদের ভাবনা থাকে লিজের টাকা বাদ দিয়ে কিছুটা হলেও লাভের ম‍ুখ দেখবে। কিন্তু এ বছর পুরো স্বপ্নই ভেঙে চুরমার। পুজোতেও নিরাশ হতে হবে। 


আকাশ ড্রেসের কর্ণধার গিয়াসউদ্দিন ভুঁইঞা বলেন, মেটিয়াবুরুজের কাপড় কেবলমাত্র বাংলায় নয়, গোটা দেশের চাহিদা পূরণ করে। চৈত্র সেল, দুই ঈদ, দুর্গাপুজো ছাড়াও কেরলের ওনাম উৎসব, ওড়িশার রথযাত্রা, মহারাষ্ট্রের গণেশ পুজো উপলক্ষ্যে বেচাকেনা হয়। কিন্তু এবার লকডাউনের কারণে রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে কোথাও পোশাক সরবরাহ হয়নি। ফলে বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শিল্প। তিনি আরও বলেন, হোলি উৎসব, ছাড়াও মার্চ এপ্রিল মাসে বিয়ের বাজার থাকে। সেই বাজার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে মেটিয়াবুরুজের ব্যবসায়ীরা। 


গোরা গারমেন্টস-এর কর্ণধার নজরুল ইসলাম বলেন, টানা লকডাউনে বন্ধ ব্যবসা। অনেকেই ব্যাঙ্কের ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। কিন্তু টানা ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ফলে ব্যাঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে নাজেহাল হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, লকডাউন উঠে গেলেও দূর-দূরান্তে ট্রেন চলছে না, ফলে মাল পাঠাতে পারছেন না। কবে ট্রেন চলবে এই প্রতীক্ষায় রয়েছেন পোশাক শিল্পের ওস্তাগার থেকে সমস্ত কারিগর ও শ্রমিক। অ্যানি ড্রেসের কর্ণধার আসিফ হোসেন বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীরা হোয়াটসঅ্যাপে ডিজাইন পাঠিয়ে ব্যবসা করছেন। কিন্তু ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। উপায় নেই গাড়ি ভাড়া করে দোকানদারদের বাড়িতে মাল পৌঁছনোর। ফলে দিনের পরদিন আরও ক্ষতির মুখে চলে যাচ্ছে পোশাক শিল্প।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only