সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

সংখ্যালঘু চিহ্নিত হবে রাজ্য ভিত্তিতে? কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কাশ্মীর মুসলিম অধ্যুষিত হয়েও সেখানে মুসলিমরা কেন সংখ্যালঘুর মর্যাদা পাবে? এই প্রশ্নকে সামনে রেখে আগেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। আর এবার দেশে প্রতিটি রাজ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু চিহ্নিত করার আবেদন জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে। তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার কেন্দ্রকে নোটিশ দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করেছেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। যদিও সেইসময় সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। এবারও সেই একই ইস্যুতে মামলা করলেন উপাধ্যায়। তবে একটু ঘুরপথে।

২০০৪ সালের ‘সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয় কমিশন’ (ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনোরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস অ্যাক্ট) আইনের ২ (এফ) ধারার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি নেতঅ অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়। 

উল্লেখ্য, এই ধারায় মুসলিম,খ্রিস্টান,শিখ, বৌদ্ধ ও পার্সি এই পাঁচ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিশেষ ‘সুবিধা’ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রের হাতে। পিটিশনে জানানো হয়েছে, জনসংখ্যা অনুযায়ী রাজ্যভিত্তিক সংখ্যালঘু নির্ধারণ করা হোক। যাতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অপ্রভাবশালী এবং জনসংখ্যার নিরিখেও কম এমন সম্প্রদায়ের মানুষরা শুধুমাত্র ধর্মীয়, ভাষাগতভাবে নিজেদের পছন্দ মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা করতে পারেন। 

উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরেও এই একই আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতর দ্বারস্থ হয়েছিলেন উপাধ্যায়। সেক্ষেত্রে তিনি ১৯৯২ সালের ‘ন্যাশনাল কমিশন অব মাইনোরিটিজ অ্যাক্ট’-এর ২(সি) ধারাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ১৯৯২ সালে ২৩ অক্টোবর সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল,তার উপর ভিত্তি করে আর্জি জানানো হয়েছিল। 

ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোটা দেশে জনসংখ্যার ভিত্তিতে খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও পার্সিদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও বিজেপি নেতার আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য ছিল,‘ভাষাগত ভিত্তিতে রাজ্যগুলি তৈরি হয়েছে। কিন্তু ধর্ম হল দেশব্যাপী।’ নয়া পিটিশনেও এই একই বি¡য় তুলে ধরেছেন উপাধ্যায়। তবে কিছুটা ঘুরপথে। ‘ন্যাশনাল কমিশন অব মাইনোরিটিজ অ্যাক্ট’কে চ্যালেঞ্জ না করে ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনোরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস অ্যাক্ট’-এর আওতায় সংখ্যালঘু নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 পিটিশনে ফের ঘুরপথে সেই জম্মু-কাশ্মীরের প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন তিনি। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন লাক্ষাদ্বীপের বিষয়টি। পিটিশনে তিনি জানিয়েছেন– লাক্ষাদ্বীপ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে মুসলিম, চণ্ডীগড় ও পঞ্জাবে শিখ, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে খ্রিস্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তা সত্ত্বেও এই রাজ্যগুলিতে এই সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষরাই সংখ্যালঘু সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। 

কিন্তু সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে হিন্দুদের জনসংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেদের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পরিচালনা করতে পারে না। পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপাধ্যায় জানিয়েছেন, লাদাখে ৪৬ শতাংশ, লাক্ষাদ্বীপ ৯৬.৫৮ শতাংশ এবং জম্মু  ও কাশ্মীরে ৯৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম। সম্প্রদায়ের মানুষ আছেন। কিন্তু সেখানে তাঁরা সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হন। একইভাবে পঞ্জাবে ৫৭.৬৯ শতাংশ শিখ এবং লাদাখে ৫০ শতাংশ বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ থাকা সত্ত্বেও তারা নিজের ইচ্ছামতো সেখানে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পরিচালনা করার সুযোগ পায়। একইসঙ্গে পিটিশনে ২০০২ সালে টিএমও পাই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ১১ সদস্যের বেঞ্চেরও একটি রায়ও তুলে ধরা হয়েছে। সেই রায়ে রাজ্যভিত্তিক সংখ্যালঘু নির্ধারণের উপর জোর দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। 

উপাধ্যায়ের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায় লঙ্ঘন করেছে ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনোরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন অ্যাক্ট’। এই মামলায় জবাব তলব করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, আইনমন্ত্রক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রককে নোটিশ পাঠিয়েছে বিচারপতি এস কে কৌলের নেতৃৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। ছ’সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন স্থির হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only