শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

দিল্লি হত্যাকাণ্ড পুলিশও দাঙ্গাকারীদের পক্ষে ছিল! চাঞ্চল্য দাবি মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে, বিস্তারিত পড়ুন



পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ফেব্রুয়ারিতে  ভারত সফরে আসেন, ঠিক সেই সময়েই দিল্লিতে ভয়াবহ একতরফা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। রাজধানী দিল্লির প্রাকেন্দ্রে এমন সংগঠিত ও পরিকল্পনা মাফিক হত্যাকাণ্ড স্বাীনতার পর খুব একটা দেখা যায়নি। ট্রাম্প-মোদি জুটির ঠাসা কর্মসূচি নিয়ে যখন মিডিয়া শশব্যস্ত, ঠিক তখনই ঘটানো হয় কয়েকদিন ব্যাপী মুসলিম হত্যাকাণ্ড এবং ধ্বংসযজ্ঞ। স্বভাবতই দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এতবড় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ওপর মিডিয়ার আলো সেভাবে পড়েনি। 

৬ মাসের মাথায় সেই একতরফা হত্যাকাণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে শুক্রবার বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করল আন্তর্জাতিক মানবাকিার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। যার প্রতিটি ছত্রে রয়েছে রোমহর্ষক ঘটনা। বিশেষ করে পুলিশের পক্ষপাত,উসকানি ও ইন্ধন নিয়ে কঠোর সমালোচনায় ভরা এই রিপোর্ট পড়লে যে কোনও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ও বিবেকবান মানুষ স্তম্ভিত ও হতভম্ব হয়ে যাবেন। কারণ অ্যামনেস্টির রিপোর্ট বলছে, ২৩ ফেব্রুয়ারিতে সেই দাঙ্গায় সরাসরি শামিল ছিল পুলিশ। হত্যাকারী জল্লাদবাহিনীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল তারা। উল্লেখ্য, দিল্লি পুলিশ হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন। তাই দিল্লি পুলিশকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে অমিত শাহের মন্ত্রক।

অ্যামনেস্টি তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও বলেছে, অন্তত ৫৩ জন নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষের নির্যাতনে দাঙ্গাকারীদের পক্ষে ভূমিকা নেওয়ায় দিল্লি পুলিশকে মানধিবার হরকারী বলাই শ্রেয়। নিহতদের ৯৯ শতাংশই মুসলিম। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে অসমর্থিত সূত্রে বলা হয়, নিহতের সংখ্যা ৫৩-র অনেক বেশি। বহু লাশ গুম করে দেওয়া হয়েছিল। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন সিএএ-র প্রতিবাদে শান্তির্পূভাবে অনশন ও বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল মুসলিমরা। তাঁদের সঙ্গে সামিল ছিলেন বেশ কিছু অ-মুসলিমও। ওই সংগঠিত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি উসকানি দিয়েছিলেন কিছু বিজেপি নেতা। তাদেরকে আদালত নানান অজুহাতে রেহাই দিয়েছে। 

অ্যামনেস্টির রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পুলিশের ন্যক্করজনক সহিংস ভূমিকা সত্ত্বেও দিল্লি সরকার কিংবা কেন্দ্র সরকার পুলিশ কিংবা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত সাজা দিতে মোদি সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থার ভারতের কার্যনির্বাহী অকির্তা অভিনাশ কুমার বলেছেন,দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টÉ মন্ত্রকের কাছে দায়বদ্ধ। অথচ এতবড় হত্যাকাণ্ডে পুলিশকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হয়নি। এর থেকে ন্যক্করজনক ও লজ্জার কী হতে পারে।

রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, দাঙ্গা বা হত্যাকাণ্ড বন্ধে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি, উলটে পুলিশ নিজেই হত্যাযজ্ঞে শামিল হয়েছে,দাঙ্গাকারীদের উসকানি দিয়েছে। আবার দাঙ্গাপীড়িতরা বাঁচার জন্য আহাজারি করে ফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ তাতে কর্ণপাত করেনি। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব ভিডিয়ো পোস্ট বা শেয়ার হয়েছিল, সেগুলো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই তার কিছু এই রিপোর্ট তৈরিতে ব্যবহার করেছে অ্যামনেস্টি। পাশাপাশি তারা বহু ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাহত পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথাও বলেছে। 

অন্যদিকে অ্যামনেস্টির আইনি উপদেষ্টা মৃাল শর্মা বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ১১ মার্চ লোকসভায় দাঁড়িয়ে পুলিশের ভূমিকাকে সার্টিফিকেট দিয়ে দাবি করেন, দিল্লি দাঙ্গা থামাতে পুলিশ নাকি খুবই ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু অ্যামনেস্টির অন্তর্তদন্তে সম্পূর্ণ উলটো ছবি উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো হামলাটি চালানো হয়েছিল ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার মডেলে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only