বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

বিনামূল্যের চাল তুলে বাইরের বাজারে ১৭-১৮ কিলো দরে বিক্রি করার অভিযোগ! বিস্তারিত পড়ুন


আবদুল ওদুদ

‘রেশনের চাল বিক্রি করবেন, ন্যায্য মূল্যে রেশনের চাল ক্রয় করা হচ্ছে।’ শুনতে অবাক লাগলেও এটাই এখন গ্রাম বাংলার চিত্র। মু্যূমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক ডাউনে রাজ্যের সাধারণ দুস্থ মানুষগুলিকে যাতে অনাহারে না মরতে হয় তার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেশনে চাল দেওয়ার কাজ করে চলেছেন। আর এই সমস্ত চাল ডিলারদের কাছ থেকে তুলে খোলা বাজারে বা হকারদের কাছে বিক্রি করছেন অনেকে। আর হকাররা প্রতিদিনই গ্রামে গ্রামে ঘুরে চাল ক্রয় করছেন। এই সমস্ত চাল হকাররা ক্রয় করে কি করছে, এই তথ্য জানতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, গ্রামে গ্রামে রেশনের চাল কিনে সেগুলির মানভালো যেগুলি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন চালের আড়তে। বিনামূল্যে পাওয়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৭-১৮ টাকায়। এর পর হকারের হাতঘুরে সোজা চালের আড়তে ২১-২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়ত থেকে সেই সমস্ত চাল আবার কোথায় যাচ্ছে? এ প্রসঙ্গে ওই ক্রেতা জানান, আড়ত থেকে চাল নতুন প্যাকিং করে আবার কোথায় যাচ্ছে তা তিনি জানেন না। তবে তিনি বলেন, কয়েক হাত ঘুরে হয়ত চাল মিল হয়ে আবার রেশন ডিলারের ঘরেই পৌঁচাচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হকার আরও বলেন, যে সমস্ত চালের গুনগত মান একটু নিম্নমানের সেগুলি, মুরগী, গরু, ছাগলের খাওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও কিছু চাল মুড়ি তৈরি করার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। মুড়ি তৈরি করার জন্যও রেশনের চাল ক্রয় করছে অনেক হকার বলে জানা গেছে। এর ফলে মুড়ির কারূানাগুলিতেও বিক্রি কমেছে। রেশনের চাল কি সকলেই বিক্রি করছেন? এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রামবাংলায় অধিকাংশ পরিবারই রেশনে বিনামূল্যে চাল পাচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমানে । নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সকলেই বর্ধিত চাল বিক্রি করছে। 

নিম্নবিত্তরা যে পরিমান চাল পাচ্ছে, তা শেষ না হওয়ায় চাল বিক্রি করে, তেল, ডাল, আলু অন্যান্য সবজি কিনছে। তবে এও জানা গেছে, এূন মধ্যবিত্তরা সমস্ত চালই হকারের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলার রামনগর গ্রামের জুবেদা খাতুন জানান, পরিবারের সদস্য ৫ জন। ২৫ কেজি চাল এবং ১০ কেজি গম রেশন থেকে পাই। সমস্ত চাল লাগে না, কিছু চাল হকারের কাছে বিক্রি করে সবজি কিনি। জুবেদা খাতুন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামবাংলার মানুষদের বিনামূল্যে চাল, গম বিতরণ করছেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। কিন্তু কিছু মানুষ চাল বিক্রি করছে এটা খুবই অনৈতিক কাজ হলেও আমাদের মত গরিব পরিবার গুলো বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত চাল বিক্রি করে দিচ্ছে। 

সমাজকর্মী এবং প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মু্খ্যমন্ত্রী খাদ্যসাথী প্রকল্পে সকলের জন্য ২ বেলা খাবারের সংস্থান করেছেন। কিন্তু কিছু মানুষ খোলা বাজারে এই চাল বিক্রি করছে। এতে খাদ্যসাথী প্রকল্পের অবমাননা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা খাদ্য দফতরের এক কর্তা জানান, এই বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। খাদ্যসাথী প্রকল্পের চাল রেশন ডিলারদের থেকে গ্রাহকরা তুলে বাজারে বিক্রি করছে, প্রশাসনের নজরে এলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only