রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

মোদি সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শেষ হয়ে গেছে : রাহুল গান্ধী

 

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে বলেছেন,  মোদি সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শেষ হয়ে গেছে। তিনি আজ রবিবার এক ভিডিও বার্তায় ওই মন্তব্য করেছেন। 

৯ আগস্ট যুব কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা। আজ থেকে যুব কংগ্রেস ‘কর্মসংস্থান দাও’ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। কর্মহীন বেকার যুবকদের জন্য সোচ্চার হওয়া এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই ওই আন্দোলনের উদ্দেশ্য।  

রাহুল গান্ধী আজ বলেন, ‘যখন নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন তিনি দেশের যুবকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি প্রত্যেক বছর ২ কোটি যুবকের কর্মসংস্থান  দেবেন। তিনি অনেক বড় স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সত্য প্রকাশ পেয়েছে। নরেন্দ্র মোদির ভুল নীতির জন্য ১৪ কোটি মানুষকে কর্মহীন বেকার করে তুলেছে। এটা কেন হয়েছে?  ভুল নীতির কারণে এমনটা হয়েছে। এগুলো হল, নোট বাতিল, ভুল পণ্য ও পরিসেবা কর (জিএসটি), এবং লকডাউন। ওই তিন পদক্ষেপে ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শেষ করে দিয়েছে।’

বেকারত্ব ইস্যুতে আজ মালদহ জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও বিধায়ক আসিফ মেহেবুব বলেন, ‘বর্তমান মোদি সরকারের সময়ে ভারতে বেকারত্বের যে পরিমাণ  দাঁড়িয়েছে তাতে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কোনও পথ ও পদ্ধতির বিষয়ে বর্তমান সরকার কোনও চিন্তাভাবনা করছেন না। দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের ইস্যু যা হয়তো এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় নয়, কারণ একদিকে মহামারীতে গোটা পৃথিবী তথা আমাদের ভারতবর্ষের মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে রয়েছে। মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। তার পাশাপাশি এখনাকার যুবক-যুবতী যারা শিক্ষিত জনমানসে রয়েছেন তারা বর্তমানে প্রচন্ডভাবে দিশাহারা হয়ে আছে।’  

আজ যুব কংগ্রেসের প্রধান বি ভি শ্রীনিবাস বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ৩০ কোটির বেশি যুবক কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। বেকারত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে প্রত্যেকদিন কোনও না কোনও যুবক আত্মহত্যা করছেন। আর এটা দুঃখজনক যে,  কেন্দ্রীয় সরকার যুবকদের আওয়াজকে উপেক্ষা করছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার প্রত্যেক বছর দু’কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। সেই হিসেবে গত ৬ বছরে ১২ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এর বিপরীতে করোনার লড়াইয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে কমপক্ষে ১২ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন!

বি ভি শ্রীনিবাসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার রেলওয়ে বেসরকারিকরণ করে এবং সরকারি সংস্থা বিক্রি করে যুবকদের উপার্জনের সুযোগ একনাগাড়ে কেড়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে, আজ বিহারের কিষাণগঞ্জের কংগ্রেস নেতা ডা. মুহাম্মাদ জাভেদ এমপি  বলেন, ‘বড় আশা করে ভারতবাসী মোদিজীকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছিলেন। এবং তিনি যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন- ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার স্বপ্ন, প্রত্যেক বছর ২ কোটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, এসবে যুবকরা খুব আশাবাদী হয়ে এই সরকারকে ক্ষমতাসীন হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা এখন দেখছি, বছরে ২ কোটি চাকরি তো  দূরের কথা, গত ৬ বছরে আমাদের সন্তানদের, ভারতীয় যুবকদের যে ১২ কোটি চাকরি পাওয়া উচিত ছিল তাঁর পরিবর্তে গত কয়েক মাসে করোনা মহামারী সঠিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে ১২ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০ কোটি মানুষ কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে।’ 

যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবি আন্দোলনে দেশবাসীকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সারা ভারত কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক ডা. মুহাম্মাদ জাভেদ এমপি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only