সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

নেপালে নিজেদের রাম মন্দির তৈরির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী ওলির


রুবাইয়া

কিছুদিন আগেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি দাবি করেছেন যে, অযোধ্যা নেপালে অবস্থিত। ভগবান রামচন্দ্র ভারতীয় নন, তিনি নেপালি ছিলেন। একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ‘প্রকৃত অযোধ্যা নেপালের বীরগঞ্জের পশ্চিমে, থোরিতে অবস্থিত। কিন্তু, সেই সত্যের বিকৃতি ঘটিয়েছে ভারত। ভগবান রামচন্দ্র ভারতে জন্মেছেন বলে ভারতীয়রা ভুল দাবি করেন।’ ওলির চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। 

ওলির দাবিকেই আরও জোরালো করে  অযোধ্যা খুঁজতে খননকার্য শুরু করল সে দেশের প্রbতত্ত্ব বিভাগ। এবার সেই নীতিকেই জিইয়ে রেখে ভারতের সঙ্গে লড়াই করতে ভগবান রামকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য একসময় হিন্দু রাষ্ট্রের তকমা থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়া নেপালের জনগণকে ফের ধর্মের বাঁধনে বাঁধতে চাইছেন তিনি। আর সেই কারণেই রামের জন্ম নেপালে হয়েছিল বলে কয়েকদিন আগে যে দাবি জানিয়েছিলেন তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী এক বিশাল রাম মন্দির তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন। 

এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নেপালের জনগণের মধ্যে। অন্যদিকে এই মুহূর্তে নেপালে রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন অলি। এক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ তারিখ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জমিতে রাম মন্দিরের ভূমিপুজো শেষ হতেই তৎপর হয়ে ওঠেন ওলি। শনিবার নেপালের চিতওয়ানের মাডি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই বিষয়ে একটি বৈঠকও করেন। ওই বৈঠকে মাডির নাম বদলে অযোধ্যাপুরী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

পাশাপাশি ওই এলাকায় রাম মন্দির তৈরির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একটি প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন ওলি। এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাডির মেয়র ঠাকুর প্রসাদ ঢাকাল জানান, প্রধানমন্ত্রী ওলি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাডির নাম বদলে অযোধ্যাপুরী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এহেন কার্যকলাপে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। যদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী অযোধ্যাপুরিতে রামের মন্দির তৈরি করতে সক্ষম হন, তাহলে কোনটি আসল রাম মন্দির আর কোনটি বা অযোধ্যা তা নিয়ে হিন্দুদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। 

উল্লেখ করা যেতে পারে,নেপালে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও আরএসএসও প্রভাব বিস্তারের জন্য বহুদিন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা এ বিষয়ে যে তাদেরকে ব্যবহার করবে তা একপ্রকার নিশ্চিত।  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only