সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

হিন্দি না জানার ' অপরাধ', প্রশ্ন কানিমোজির ভারতীয়ত্ব নিয়ে


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রবিবার তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেত্রী কানিমোজি ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি ট্যুইট করেন। আর তাঁর পরেই বিষয়টি এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়ে। ভারতের নয়া শিক্ষানীতি ঘোষণার পরই দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিকরা বলেছিলেন তারা ত্রিভাষা নীতি মানতে রাজি নন। অর্থাৎ তামিলনাড়ু তামিল সঙ্গে ইংরেজিকে মেনে নেবে কিন্তু হিন্দিকে তারা গ্রহণ করবে না। ভাষা নিয়ে এই দ্বন্দকে আরও জোরালো করেছে রবিবারû তামিলনাড়ু থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডিএমকে নেত্রী কানিমোজির একটি টু্যইট।

টু্যইটে কানিমোজি বলেন, বিমান বন্দরে একজন নিরাপত্তা অফিসার তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, কানিমোজি কি একজন ভারতীয়? কারণ কানিমোজি তাঁকে বলেছিলেন, তিনি হিন্দি জানেন না। ওই অফিসার যেন ইংরেজি কিংবা তামিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। 

দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এই কথা শোনার পরেই তিনি আদৌও ভারতীয় নাগরিক কিনা জানতে চান। ক্ষোভ প্রকাশ করে এদিন কোনিমোজি টুইটারে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কবে থেকে হিন্দিতে কথা বলা আর ভারতীয় হওয়া সমান? কানিমোজি টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করে  লিখেছেন, আজ বিমানবন্দরে একজন সিআইএসএফ কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন– আমি একজন ভারতীয় কিনা? তাঁর প্রশ্নের কারণ,তাকে আমি হিন্দি না জানার ফলে আমার সাথে তামিল বা ইংরেজিতে কথা বলতে বলেছিলাম। তাঁকে আমি বলি কবে থেকে ভারতীয় হওয়ার জন্য হিন্দি জানা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে? তিনি তাঁর এই অভিজ্ঞতা টু্যইটারের মাধ্যমে সবার সামনে এনেছেন।

ডিএমকের ৫২ বছর বয়সী কানিমোজি ২০১৯ সালে একটি সাধারণ নির্বাচনে প্রথম জয়লাভ করেন। তিনি তার বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৩.৪৭৪৭ লক্ষের বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন। 

উল্লেখ্য, ভারতে নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী সব স্কুলে হিন্দিকে ‘তিনটি ভাষার একটি’ হিসেবে চালু করতে সুপারিশ করার পরেই এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ভারতে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বিশেষ করে তামিলনাডুতে প্রায় সব রাজনৈতিক দল বলছে তারা সর্বশক্তিতে এই প্রস্তাব যেকোনো উপায়ে রুখবে। পাশাপাশি সেখানে সোশ্যাল মিডিয়াতেও দারুণভাবে ট্রেন্ড করছে ‘হ্যাশট্যাগ স্টপ হিন্দি ইম্পোজিশন’, অর্থাৎ ‘হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া ঠেকাও’। এই বাধার মুখে কেন্দ্রীয় সরকার এখন সাফাই দিচ্ছে যে মানুষের মতামত না নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

 বস্তুত হিন্দি ভাষাকে কেন্দ্র করে ভারতে প্রতিবাদের ইতিহাস অনেক পুরনো, এখন সেই বিতর্কই আবার নতুন আকারে মাথাচাড়া দিচ্ছে। ভারতে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার ঠিক পরদিনই সরকারের কাছে জমা পড়ে নতুন একটি শিক্ষানীতির খসড়া। এটি প্রস্তুত করেছে দেশের নামী মহাকাশ বিজ্ঞানী কস্তুরীরঙ্গনের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল।

ওই ‘খসড়া জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১৯’-এ বলা হয়,বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে ভারতের স্কুলগুলোতে যে ‘তিন ভাষা ফর্মুলা’ চালু আছে সেটা শুধু বহাল রাখাই যথেষ্ঠ নয় তা এখন বাচ্চাদের জন্য আরও অনেক কম বয়সে চালু করা দরকার। যেহেতু এই তিনটে ভাষার একটা অবশ্যই হিন্দি হতে হবে তাই দক্ষিণ ভারতে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়ে যায়। হিন্দির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাস আছে তামিলনাড়ুর দল ডিএমকের। আর এবার সেই বিতর্ককের আগুনেই যেন ঘি ঢালল রবিবারের ঘটনাটি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only