বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

'রাজ্য পাল গো ব্যাক' পোস্টারের বিঁধল হলকর্ষণ উৎসব

 



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন: আশ্রমের হলকর্ষণ উৎসব এবার বিঁধল রাজ্য পাল গো ব্যাক পোস্টারে। রাজ্যপাল হলকর্ষণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবার পরেই  বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দেখা গেল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিরোধী দেওয়াল লিখন-পোস্টার । বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দেখা গেল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিরোধী দেওয়াল লিখন-পোস্টার । সরাসরি রাজ্যপালকে উদ্দেশ্য করে 'গো ব্যাক' লেখাই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে । ফি বৃদ্ধির চক্রান্তকারী বলেও ধনকড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে ।কোরোনা পরিস্থিতিতে ফি মকুবের দাবি তুলেছিলেন শিক্ষার্থীদের একাংশ । বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও কর্মসচিবকে চিঠিও দেন পড়ুয়ারা । আজ রাজ্যপাল যখন শ্রীনিকেতনে হলকর্ষণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দেওয়ালে পড়ল পোস্টার ।

তারপর শান্তি নিকেতনকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে একের পর এক বিষোদগার করেন সাংবাদিক সম্মেলনে। তিনি বলেন, "ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্যে রাজ্যের কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী কৃষান সন্মান নিধি যোজনার সুফল পাচ্ছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বাদ দিয়ে। রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় তথ্য টুকু কেন্দ্র কে দেয় নি। এভাবে কৃষকের পেটে লাথি মারা বেদনাদায়ক।"  এভাবেই বুধবার বীরভূম সফরে এসে বিশ্বভারতীকে  রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করলেন  রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়, বলে অভিমত রাজ্য নৈতিক মহলের। 

শ্রীনিকেতনে এই হলকর্ষণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর প্রধান তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় । প্রথা অনুসারে এই হলকর্ষণ উৎসবে হালচালনা করেন একজন কৃতী কৃষক। করোনা ভাইরাস এর সংক্রমনের কথা মাথায় রেখেই সামাজিক দূরত্ব ও বিধি নিষেধ মেনে হলকর্ষণ উৎসব উদযাপন হয়।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপাল প্রধানমন্ত্রী কৃষান সন্মান নিধি যোজনা নিয়ে রাজ্য সরকার কে আক্রমন করে বলেন, "এইরাজ্যে কোন ইকোনমিক্স অফ গভর্ন্যান্স চলছে ? যেখানে কেন্দ্র থেকে এইরাজ্যের কৃষক কে দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৪০০ ক্রোড় টাকা। অথচ কেন্দ্রীয় সরকারের এই টাকা এ রাজ্যের কৃষক দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হচ্ছে না। কেন? 

রাজ্যপাল আরও বলেন," কোন সাধারণ ব্যক্তি যার একটু বুদ্ধি আছে। কিছু রাজনীতি জানে, নরম হৃদয়ের, সামান্যতম গভর্ন্যান্স জানে, জহ্লাদের মত কাজ করে না, সে বুঝতে পারবে এই প্রকল্প টা কত ভালো । সেই এই প্রকল্প লাগু করত।এই ক্ষেত্রে দেশের অন্য রাজ্য থেকে বাংলা আলাদা কেন? কেন্দ্রের যে টাকা সোজা কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে  ঢুকবে। তাতেই কি সমস্যা! কোন কমিশন নেই। কোন মিডল ম্যান নেই। আপনাকে তো শুধু মাত্র কাগজ পাঠাতে হতো। তা না পাঠিযে কৃষকের পেটে লাথি মারা বেদনাদায়ক।"

এই প্রসঙ্গেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যপাল বিধান সভায় যে ভাষন দেন তার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন," আমার মুখ দিয়ে বিধানসভায় যে ভাষন বলানো হয়েছিল, তা দুধ কে দুধ, জলকে জল হওয়া দরকার। আমার প্রশ্ন, রাজ্য সরকার  কৃষকের জন্য কী করেছে ?রাজ্য সরকার যা রাজ্যপালের মুখ দিয়ে বলিয়েছিল,শুনে আশ্চর্য হবেন, দুঃখ পাবেন, পশ্চিম বঙ্গ সরকার ৭০০ ক্রোড়ের কম টাকা কৃষক দের জন্য বরাদ্দ করেছেন। আমি মুখ্যসচিবকে ডেকে  জিজ্ঞেস করি।সেও সদ উত্তর দেয় নি। ৭০০ ক্রোড়ের সাথে বীমা যোগ করলে ৭৩০ ক্রোড়ের কাছাকাছি।"


 রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কৃষান সন্মান নিধি যোজনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন," "রাজ্য সরকার যেখানে মাত্র ৭৩০ কোটি টাকা খরচ করছে এখানে এই রাজ্যের ৭০ লক্ষ্য কৃষকের জন্য  কেন্দ্র সরকার এক কিস্তিতে পশ্চিম বঙ্গের ভাগ ১৪০০ ক্রোড়। এক বছরে কিষানের হিসসা ৪ হাজার ২০০ ক্রোড়। ৬ কিস্তিতে ৮ হাজার ৪০০ ক্রোড়।এখান থেকেই বুঝতে পারছেন এই রাজ্যের কৃষকরা কতটা বঞ্চিত হচ্ছে। "




এদিন রাজ্যপাল বীরভূম সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘর বলেও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, "সাহিত্য সংস্কৃতি গান সব ক্ষেত্রেই বীরভূমের সুনাম ছিল এখন সেই বীরভূম বললেই কানে আসে বোমার কারখানা। মাফিয়া রাজ। শান্তিনিকেতন থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার দুরে বোমা তৈরি হচ্ছে। এটা বীরভূমের পরিচয় হতে পারে না।" 


    এদিন এই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন কে ও কাঠগোডায তুলেছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন," পুলিশ প্রশাসন বেপরোয়া ভাবে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের মত আচরন করছে।। এই অবস্থায় ভারতের গনতন্ত্র কে রক্ষা করতে হলে এই ঘটনা কে আটকানো প্রয়োজন। যদি পুলিশ প্রশাসন মনে করে তাদের এই ধরনের কাজ দেখবার কেউ নেই তা হলে তারা ভূল ভাবছেন। এই রাজ্যের প্রধান সেবক হিসাবে আমি কিন্ত আছি। "

    রাজ্যপাল বলেন," রাজ্য সরকার ২০১৬ থেকে বেঙ্গল বিসনেস মিট করে বহু সোনালী স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কিন্ত কত জনের চাকরি হযেছে। কেন চাকরি না পেযে এইরাজ্যের শ্রমিক দের অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে। শুধু বুলি আওডে উন্নতি হয না। উন্নতি জমিতে দেখাতে হয়। "



   ফি বৃদ্ধির চক্রান্তকারী বলেও ধনকড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে ।কোরোনা পরিস্থিতিতে ফি মকুবের দাবি তুলেছিলেন শিক্ষার্থীদের একাংশ । বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও কর্মসচিবকে চিঠিও দেন পড়ুয়ারা । আজ রাজ্যপাল যখন শ্রীনিকেতনে হলকর্ষণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দেওয়ালে পড়ল পোস্টার ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only