মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

বাংলাদেশে আটকে থাকা রাজ্যের ২৬৮০ জনকে ফেরানোর দায় বাংলার ঘাড়ে চাপাল কেন্দ্র

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রুখতে মার্চ মাসের শেষের দিকে ভারতজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করে কেন্দ্র সরকার। আগাম কোনও ঘোষণা বা প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই ওই লকডাউন জারি হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যেমন লক্ষ লক্ষ মানুষ আটকে ছিলেন, তেমনি বিদেশেও। এদের বেশিরভাগকেই চরম দুর্দশায় কাটাতে হয়। পরবর্তী সময়ে বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘বন্দে ভারত মিশন’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র সরকার। 


এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের ফেরত আনতে বিনামূল্যে বিমানের ব্যবস্থা করে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত থেকে যান বাংলাদেশে আটকে থাকা এ রাজ্যের সহস্রাধিক মানুষ। প্রায় পাঁচ মাস পর এখন টনক নড়েছে কেন্দ্র সরকারের। কারণ, বাংলাদেশ সরকার বারংবার ভারত সরকারকে চাপ দিচ্ছে, তাদের দেশে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য। এ ক্ষেত্রেও বাংলার সঙ্গে সেই বঞ্চনার ধারা অব্যাহত রাখল কেন্দ্র সরকার। বাংলাদেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের ফেরানোর দায়ভার নিজের থেকে ঝেড়ে ফেলে রাজ্য সরকারের উপর চাপাতে চাইছে কেন্দ্র।


বন্দে ভারত মিশন নয়, বাংলাদেশে আটকে পড়া ২৬৮০ জন ভারতীয়কে না ফিরিয়ে এদের ফেরানোর দায়িত্ব রাজ্যকে নিতে বলল কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, এই ২৬৮০ জনের মধ্যে সিংহভাগই বাংলার বাসিন্দা। তাদের ফেরানোর দায়িত্ব ও খরচ কেন্দ্র বহন করতে চাইছে না। উলটে রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে তারা দেখাতে চাইছে বাংলার বাসিন্দাদের ফেরাতে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।


গত মার্চ মাসে লকডাউন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন তাঁরা। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই সে দেশ থেকে ঘরে ফেরার পথ বন্ধ। ফলে চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন। 


পরিস্থিতি ক্রমে খারাপ হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এদের ত্রাণশিবিরে রাখা হয়। তবে যেহেতু তাদের খাওয়া-দাওয়া ভরণপোষণের খরচ এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারকে বহন করতে হচ্ছে তাই তাদের তরফ ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানানো হয় এই ভারতীয়দের যেন দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। গোটা বিশ্বে আটকে পড়া ভারতীয়দের ঘরে ফেরানোর জন্য কেন্দ্র উদ্যোগী হয়েছে। অথচ এদের বিমান পথের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে চাইছে না কেন্দ্র। 

 

বরং এই দায় রাজ্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যের ম‍ুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে চিঠি লেখেন কেন্দ্র। এই চিঠিতে বিদেশমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব বিক্রম দুরাইস্বামী লিখেছেন, ‘প্রায় ২৭০০ ভারতীয় নাগরিক আটকে আছেন বাংলাদেশে। এঁদের সিংহভাগ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। দ্রুত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিন। অত্যন্ত দুর্ভোগের মধ্যে ত্রাণশিবিরে দিন কাটাচ্ছেন এরা। পেট্রাপোল আর চাংড়াবন্ধা সীমান্তের ওপারে অপেক্ষারত তাঁরা। এর মধ্যে ২৩৯১ জন বেনাপোল পেট্রাপোল হয়ে ফিরতে চাইছেন।’


উল্লেখ্য, একই ধরনের আবেদন কেন্দ্রের তরফ থেকে আগেও রাজ্য সরকারকে করা হয়েছিল। তখনই রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে বলা হয়েছিল এই মুহূর্তে রাজ্যের স্থল সীমান্ত দিয়ে মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে সেখানে কোয়ারেন্টাইনের কোনও ব্যবস্থা নেই।


বরং এদের বন্দে ভারত মিশনের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। বিমানবন্দরের মাধ্যমে দেশে ফিরলে ওই ভারতীয়রা আদৌ করোনা আক্রান্ত কিনা তার সঠিক পরীক্ষা করে কোয়ারেন্টাইন করা যাবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সেই যুক্তিতে কর্ণপাত করতে চাইনি। উলটে ফের রাজ্যকেই সেইসব বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only