রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

মসজিদের সামনে অযোধ্যা নিয়ে উৎসব!

লখনউ: সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অস্থিরতা ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর অঞ্চলের হনুমানগঞ্জে। ঘটনাটি ঘটেছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভূমিপুজোর দিন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ। একদল হিন্দু একটি মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে মিষ্টি বিতরণ করতে শুরু করে। বাজিয়ে পুড়িয়ে তারা উল্লাসে ফেটে পড়ে। মসজিদের ঠিক বাইরে এমন হুলস্থ$ল করলে স্থানীয় মুসলিমরা প্রতিবাদ করে। তারপরই শুরু হয় প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমণ। এই হিন্দুত্ববাদী দল মুসলিমদের বাড়িতে ঢুকেও মারধর করে। আক্রান্ত হয় মহিলা ও শিশুরাও। 

এই এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ আহমদের কথায়, মুসলিমরা পুলিশে কাছে যায় কিন্তু ফল হয় উলটো। উর্দিধারী পুলিশ রক্ষা করার বদলে মুসলিমদের বাড়ির গেট ভেঙে বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মারধোর করে। এক অভিযোগকারী জানিয়েছেন, এক মহিলা ও তাঁর ৬ ও ১২ বছরের দুই কন্যাকেও বাদ দেয়নি উন্মত্ত জনতা। মুহাম্মদ আসলাম, মুহাম্মদ আনাস, মুহাম্মদ জাফর, মুহাম্মদ শাকিল, কওসর আলি ও মুহাম্মদ ওয়াকিল এই ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এঁদের অনেকের স্ত্রী ও শিশুকেও হেনস্থা করেছে তারা। অভিযুক্তরা হলেন সন্দীপ কুলদীপ– অরবিন্দ আকাশ– সত্যেন্দ্র উপাধ্যায়, চঞ্চল, সুমিত, রঞ্জন, অনিল, সুরজ সিং, রাজেশ, রবি ও শুভম। স্থানীয় এক বিজেপি নেতাও অভিযুক্ত হয়েছেন এই ঘটনায়। এই অভিযুক্ত নেতা বলেছেন, অযোধ্যা নিয়ে হিন্দুরা যখন উৎসবে মেতেছিল তখন মুহাম্মদ আকরাম নামে এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। তারপর তারা চড়াও হয়। দুই পক্ষই অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ মুসলিমদের ধরপাকড় শুরু করে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

 তবে যে অ-মুসলিমরা মারধর করেছে– তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। আহমদ বলেছেন, মামলায় পুলিশ সাত জন মুসলিমের নাম দিয়েছে এবং ৫ জনকে গ্রেফতারও করেছে। পুলিশ ও জনতার আক্রমণের ভয়ে বহু মুসলিম নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেছে। মুসলিম বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর সমর্থনে সুলতানপুরের এসপি শিব হরি মীনা বলেছেন, ‘এইভাবে আমরা লোকদের ধরি।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only