বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

বাবরি মামলা‌: ফিরে দেখা-২, ম‍ুসলিমদের প্রতি অন্যায় হয়েছে, বলেছিল শীর্ষকোর্ট


আহমদ হাসান ইমরান
বাবরি মসজিদ মামলার রায় বেরনোর পর দ্য হিন্দু পত্রিকা এ সম্পর্কে একটি ছোট অথচ উল্লেখযোগ্য রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। এই রিপোর্টটির শিরোনাম ছিল, ‘সুপ্রিম কোর্ট স্বীকার করেছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অন্যায় হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত দিয়েছে হিন্দুরাই ওই স্থানে রাম মন্দির তৈরি করবে।’

শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের মূল কথা ছিল, মুসলিম সম্প্রদায়কে অন্যায়ভাবে তাদের ৪৫০ বছর পুরনো মসজিদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের দাবি যে, ওই স্থানের মালিকানা এবং অধিকার মুসলিমদেরই--- তা খারিজ করে দিয়েছে!

অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তাতে মুসলিম পক্ষ যেসব যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিল যে বাবরি মসজিদের জমিনের মালিকানা তাদেরই, তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে।

কিন্তু প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বাধীন সংবিধান বেঞ্চ শেষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, ওই জমিতে একটি রাম মন্দির নির্মাণ করা উচিত। ওই রায়ে বাবরি জমির উপর হিন্দুদের মালিকানা দাবিকেই বারবার প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আদালত কোনও যুক্তি দেখায়নি। শীর্ষ আদালত এই সিদ্ধান্তে এসেছে, মুসলিম সম্প্রদায়কে অন্যায়ভাবে তাদের ৪৫০ বছরের পুরনো মসজিদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু ওই মসজিদের ভূমির উপর তাদের মালিকানা এবং অধিকার দাবিকে খারিজ করে দেয়। আর মসজিদ হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে মুসলিম পক্ষকে ৫ একর জমি অন্যত্র দেওয়া হবে।

প্রশ্ন উঠেছে, মুসলিম পক্ষের যদি বাবরি মসজিদের জমির উপর দাবি না থাকে, তাহলে তাদেরকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে? আদালত স্বীকার করেছে, বাবরি মসজিদ ইসলাম ধর্মের নিয়ম-নীতি অনুসারে চলছিল। আর এখানে নিয়মিতভাবে নামায পাঠ হত। শীর্ষ আদালত আরও বলে, ১৯৪৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে মুসলিমরা নামায পাঠ করেছেন। আর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরের ২২ তারিখ রাতে মসজিদটির অভ্যন্তরে মূর্তি স্থাপন করে তাকে অপবিত্র করা হয়। শীর্ষ আদালত হিন্দুদের এই দাবিকেও খারিজ করে দেয় যে, মুসলিমরা বহুদিন আগেই নাকি মসজিদটিকে পরিত্যাগ করেছিল। শীর্ষ আদালত বলে, ১৯৩৪ সালে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। ১৯৪৯ সালে মূর্তি স্থাপন করে অপবিত্র করা হয়। আর ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর করসেবকরা যে একে ধ্বংস করে তার প্রত্যেকটি ছিল আইনের চরম লঙ্ঘন।

ওই রায়ে আরও বলা হয় যে, মসজিদে মূর্তি রেখে অপবিত্র করা ছিল তাদেরকে নামায পড়া থেকে বঞ্চিত করার জন্য উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্র। ওই রায়ে আরও বলা হয়েছে যে, মামলা চলাকালীন অবস্থায় কীভাবে মসজিদটিকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

এক পর্যায়ে শীর্ষ আদালতের সংবিধান বেঞ্চ আরও বলে, ‘যদি আদালত এই সত্যকে উপেক্ষা করে যে, ওই জমির উপর মুসলিমদের মালিকানা রয়েছে এবং তাদেরকে ওই মসজিদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে--- এমন সব পদ্ধতির মাধ্যমে যা আইনের শাসনের প্রতি অনুগত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কখনোই প্রয়োগ করা উচিত ছিল না।’

কিন্তু এত সব বলার পরও সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং আইনের শাসনের পক্ষে কতটা যুক্তিযুক্ত তা হয়তো মাননীয় বিচারপতিরাই বলতে পারবেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only