মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

উইঘুর মুসলিম মেয়েদের সঙ্গে হানদের বিয়ের বিজ্ঞাপন

শিনজিয়াং, ১১ আগস্টঃ শিনজিয়াং প্রদেশ থেকে উইঘুর মুসলিমদের ইসলামি সংস্কৃতির নিশানা চিরতরে মুছে দিতে নানারকম পাঁয়তারা করে চলছে চিন। এবার ফাঁস হল আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াংয়ের জনবিন্যাসের খোলনলচে পুরোপুরি বদলে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছ কমিউনিস্ট শাসিত চিন। সরকারি বিজ্ঞাপন দিয়ে হান সম্প্রদায়ের পুরুষদেরকে লোভনীয় সব অফার দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা নিজেদের অঞ্চল ছেড়ে শিনজিয়াং প্রদেশে গিয়ে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করে। 


বিজ্ঞাপনী অফারের মধ্যে রয়েছে সুন্দরী উইঘুর তরুণী ও যুবতীদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া ছাড়াও বাড়ি, চাকরি ইত্যাদি সব জোগাবে চিন। এক্ষেত্রে উইঘুর মুসলিম তরুণীদের বাধ্যতামূলক বিয়েতে সম্মত হতে হবে। তাদের ‘না’ বলার কোনও উপায় থাকবে না। হান যুবক বা পুরুষরা যাকে পছন্দ করবে, তার সম্মতি না নিয়েই জোর করে বিয়ে করা যাবে। 

সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে শিহরণ জাগানো এই খবরে জানা গিয়েছে, উইঘুর মুসলিমদের পরিবারের চিরাচরিত বন্ধন ও পারিবারিক সংস্কৃতি ভেঙে ফেলতেই এই নতুন ছক কষেছে চিন। এভাবে ধীরে ধীরে উইঘুর পরিবারগুলোতে অ-উইঘুরদের অনুপ্রবেশ ঘটবে। যার পরিণামে দীর্ঘ সময় পর দেখা যাবে, শিনজিয়াং বা পূর্ব তুর্কিস্থানে উইঘুর মুসলিমরা সংখ্যায় খুব কমে যাবে। তখন শিনজিয়াং প্রদেশ আর উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত থাকবে না। স্বভাবতই স্বশাসিত প্রদেশটির জনবিন্যাস পুরোপুরি বদলে যাবে।


এ প্রসঙ্গে উইঘুরদের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেত্রী রৌশন আব্বাস বলেন, চিনের এই পদক্ষেপ ‘সরকার পোষিত গণধর্ষণ’। তাঁর কথায়, হানদের সঙ্গে উইঘুরদের জোর করে বিয়ে দিয়ে মিশ্র পরিবার তৈরি করে ইসলামি সংস্কৃতি-ঐতিহ্য নিষ্ট করাই চিনের উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, হানরা মূলত কমিউনিস্ট পার্টির অনুগত। কিন্তু উইঘুর মুসলিমরা ইসলাম অনুগত। তাই তাদেরকে জোর করে কমিউনিজমে বিশ্বাসী বলে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয়, এ খবরও মিডিয়ার অন্তর্তদন্তে উঠে এসেছে অনেক আগেই। সর্বশেষ খবরে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ লক্ষ হান সম্প্রদায়ের পুরুষ ও মহিলা চিনের এই বিজ্ঞাপনী অফারে সাড়া দিয়েছে।

রৌশন আব্বাস আরও বলেন, উইঘুর মুসলিম পুরুষদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রেখে মহিলাদেরকে একরকম স্বামীহারা করে রেখেছে চিন। সেখানে আটকদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করা হয়। গৃহকর্তারা বছরের পর ক্যাম্পে আটকে রেখে তাদের বিবাহযোগ্যা কন্যাদেরকে জোর করে ভিন সম্প্রদায়ে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার বিক্রিও করে দেওয়া হচ্ছে। অনেকের বিবাহের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। অনেককে আবার জোরপূর্বক দেহব্যবসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এককথায় বলতে গেলে, নারী, পুরুষ উইঘুর মুসলিমদের সবরকমের স্বাধীনতা ও অধিকার কেড়ে নিয়েছে চিনের কমিউনিস্ট সরকার। 


ব্যক্তিগত জীবনেও তাদের কোনও পছন্দ-অপছন্দ করার অধিকার পর্যন্ত নেই। অর্থাৎ তাদের সামনে কোনও বিকল্প নেই। রাষ্ট্রযন্ত্র যেটা চাপিয়ে দেবে, তাকেই মুখ বুজে মেনে নিতে হবে। অ-উইঘুর বা হানদেরকে শিনজিয়াংয়ে টানার জন্য বিয়ে ছাড়াও বাড়ি, চাকরি সব রকমই অফার দেয় চিন। এককথায় বললে, হানদেরকে জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করছে চিন।  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only