সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০

ফটো তুলতে গিয়ে নিগৃহীত চিত্র সাংবাদিক! উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন 

উপাসনার আগে ছবি তুলতে গিয়ে চিত্র সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ উঠল বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে সাংবাদিককে আটক করে তার মোবাইল নিয়ে নেন স্বয়ং উপাচার্য। এই মর্মে শান্তিনিকেতন থানায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চিত্রসাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ রায়। হেনস্থা জেরে আহত হন তিনি। তাঁকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়। 

প্রতি বুধবার বিশ্বভারতীর উপাসনা গৃহের সাপ্তাহিক উপাসনা হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও বিশেষ উপাসনারও প্রচলন রয়েছে। সেইমতো সোমবার বিশেষ উপাসনার আয়োজন করা হয়। করোনা আবহ থেকে মানবজাতির মুক্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল ওই বিশেষ উপাসনা । এই উপাসনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মন্দিরের আচার্য হিসেবে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব আশা মুখোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, আগেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে উপাসনা গৃহের ভেতরে কোনও রকম ছবি তোলা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তার সংবাদ প্রকাশ পায় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়।

জানা গিয়েছে, ওইদিন উপাসনা গৃহের বাইরে যখন উপাচার্য ও তাঁর সন্তান গাড়ি থেকে নামছিলেন সেই  ছবি তুলছিলেন চিত্র সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ রায়। সেই সময় উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী নির্দেশে ৭ থেকে ৮ জন নিরাপত্তারক্ষী ওই চিত্র সাংবাদিককে ধরে ফেলে। উপাচার্য নিজে এসে ওই চিত্র সাংবাদিকের ফোন নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। এই মর্মে শান্তিনিকেতন থানায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন ওই চিত্র সাংবাদিক। 

আরও অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে নিয়ে ধস্তাধস্তিতে আহত হন চিত্র সাংবাদিক। প্রথমে তাকে বোলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো বিশৃংখলার সৃষ্টি হয় বিশ্বভারতীর উপাসনা গৃহের সামনে।

ফোনে চিত্রসাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, "উপাসনা গৃহের বাইরে উপাচার্য ও তাঁর ছেলে গাড়ি থেকে নামছিলেন। তাঁর ছেলে গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন।  রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেই ছবি তুলছিলাম। উপাসনা গৃহের কোন ছবি তুলিনি।  সেই সময় উপাচার্যের নির্দেশে নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে জোর করে চেপে ধরে। এরপরে উপাচার্য নিজে এসে আমার হাত চেপে ধরে ফোন কেড়ে নেয়। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।"

পালটা বিশ্বভারতীর তরফেও শান্তিনিকেতন থানায় ওই চিত্রসাংবাদিকের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও, বিশ্বভারতী তরফে এই মর্মে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায় নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only