বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

প্রশাসনিক বৈঠকে অনুপস্থিত বিশ্ব ভারতী

দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বোলপুর মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলো বিশ্ব ভারতী। সেখানে কোন প্রতিনিধি পাঠায়নি কর্তৃপক্ষ। সেখানে জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা, জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তা, সাংসদ অসিত মাল, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সমাজ কর্মী এবং আশ্রমিকদের একাংশ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ব ভারতী এব্যাপারে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও, এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা ৭ পয়েন্ট নির্ভর কতগুলি বক্তব্যের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ কেন এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারলো না বা সামগ্রিক ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজেদের দৃষ্টি ভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। 


প্রথমতঃ এই বৈঠক বিশ্ব ভারতী ক্যাম্পাসে কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল অনেকটা নিরাপত্তাজনিত কারণে, সেখানে শান্তি নিকেতন থানা থেকে মাত্র ২০ মিটার দূরে যে তাণ্ডব ঘটতে পারে এবং এই ঘটনার যারা প্রত্যক্ষদর্শী তারা কি করে মহকুমা শাসকের ভবনে যেতে পারবে। কারণ তারা বিধায়ক ও দুই জন কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে এই তাণ্ডব সম্পর্কে বলতে পারতেন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে। যেটা এতটা দূরত্বে হয়তো সম্ভব পর নয়। তাছাড়াও খুব স্বল্প সময়ের নোটিশে অর্থাৎ ১৭ অগাস্ট বিকেল ৫-৪০ নাগাদ বিশ্ব ভারতীকে বৈঠকে ডাকা হয় যেটা সৌজন্য বিরোধী। 


এরপর পাঁচিল বিতর্কের মূল বিষয়ে চলে আসে বিশ্ব ভারতী।  বিশ্ব ভারতীর বহু চর্চিত পাঁচিল বা বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করে পরিবেশ আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানানোর জন্য, বলে দাবি করা হয়। জানানো হয় যে, এটা সাধারণ মানুষের জ্ঞাতব্য নাও হতে পারে যে, বছরের পর বছর বিশ্ব ভারতীকে টাকা গুনতে হচ্ছে শুধু মাত্র ব্যবসায়ী যারা পৌষমেলায় আসেন এবং শুধু মাত্র নিছক মজা করার জন্য শান্তি নিকেতনে এসে পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করেন।  


প্রসঙ্গক্রমে বোলপুর ডাকবাংলো মাঠ যেভাবে ঘেরা তার উল্লেখ করা হয়। বলা হয় বিশ্ব ভারতী লাগোয়া যাদের বাড়ি আছে, তাঁদের বাড়ির সীমানার জন্য নিজস্ব পাঁচিল আছে। তাই তাঁদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। মেলার মাঠটি আগে থেকেই দুদিকেই ঘেরা বিল্ডিং বা পাঁচিল দিয়েই।  বিশ্ব ভারতী চাই বাকি ফাঁকা অংশে বেড়া দিতে। যার উচ্চতা ৪ ফুট বেড়া এবং ৩ ফুট গ্রীল। যা হবে পরিবেশের সাথে সাযুজ্য রেখে। এই বেড়ার মধ্যে দুটি গেট হবে চওড়ায় ২২ ফুট এবং বাকি ৫ টি হবে চওড়ায় ১২ ফুট। তার ফলে, প্রাতঃভ্রমণ বা খেলাধুলা করার জন্য কোন অসুবিধা হবে না। 


কিন্তু এই ঘেরার কারণ কি?


রাত্রি ৮ টার পর সরকারিভাবে এই মাঠ বন্ধ ঘোষণা করতে হয়। কেন?  কারণ, ওই মেলার মাঠে চলে অবৈধ কাজ। পড়ে থাকে মদের বোতল, কণ্ডোম, গাঁজা প্রভৃতি নেশা দ্রব্যের নমুনা। 


১৮ অগাস্ট সমস্ত ভবনের অধ্যক্ষ ও প্রধানদের নিয়ে বিশ্ব ভারতীতে বৈঠক হয়। সেখানে সহমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয় যে মহকুমা শাসকের অফিস নয়, বিশ্ব ভারতী ক্যাম্পাসে বৈঠক হোক, প্রশাসনের উপস্থিতিতে। 


নিরাপত্তা ছাড়াও,  অতীতেও পৌষ মেলা ও বসন্ত উৎসব নিয়ে বহু বার প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। জেলা প্রশাসন যেমন একটি তালিকা করেছে, ঠিক বিশ্ব ভারতীও শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং আশ্রমিকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করুক, যাঁরা এই আলোচনায় অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক। তার জন্য ভেন্যু বা আনুষঙ্গিক সব কিছু ঠিক করার জন্য একটু সময় দরকার ছিল। 


অন্যদিকে, এদিন শান্তি দেব ঘোষের বাড়ির সামনে অর্থাৎ সঙ্গীত ভবনের পিছনে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আশ্রমিকদের একাংশ প্রতিবাদ জানান। তাঁরা " বাঁধ ভেঙে দাও" ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড নিয়ে রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে প্রতিবাদ জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only