মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০

হিন্দুদের গ্রেফতারে কেন সতর্ক হতে বলা হয়েছিল?প্রশ্ন হাইকোর্টের



পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় তদন্তকারী টিমকে এক পুলিশকর্তার নির্দেশ ছিল, হিন্দু অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে যেন খবু সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। অর্থাৎ, তাঁর বার্তা ছিল দাঙ্গার ঘটনায় দোষী বলে মনে হলেও নির্বিচারে যেন হিন্দুদের গ্রেফতার করা না হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি ফাঁস হতেই শুরু হয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে, মুসলিমদের ক্ষেত্রে নির্বিচারে গ্রেফতার করা যেতে পারে কিন্তু হিন্দুদের ক্ষেত্রে গ্রেফতারের ব্যাপারে খুব সাবধান থাকতে হবে। আর বিষয়টি নিয়েই দিল্লি হাইকোর্ট এই বিষয়ে ওই পুলিশকর্তার কাছে জানতে চেয়েছে, তাঁর ঠিক কি এমন প্রয়োজন পড়েছিল যার কারণে তিনি তদন্তকারী টিমকে হিন্দু অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন? 
একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্র&য়ারি মাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার প্রবীণ রঞ্জন দিল্লি পুলিশ টিমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হিন্দু অভিযুক্তদের গ্রেফতারির বিষয়ে সতর্ক হওয়ার জন্য। এই বিষয়ে শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট রঞ্জনের কাছে জানতে চেয়েছে, তাঁর কি এমন প্রয়োজন পড়েছিল যে কারণে তিনি পুলিশ টিমকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন? স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজি দৈনিকটির প্রতিবেদন থেকে এই সংশয়ই জোরালো হয় যে, দিল্লি দাঙ্গার তদন্তে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছিল। 
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সুরেশ কুমার কৌত দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার প্রবীন রঞ্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন, ৫টি এই ধরনের চিঠি আদালতে জমা করার জন্য যা তিনি বা তাঁর পূর্বসূরিরা জারি করেছিলেন। অভিযোগ ওই চিঠিগুলি মারফৎ রঞ্জন দিল্লি দাঙ্গার তদন্তকারী দলগুলির প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, হিন্দু অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য। কারণ, উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলি থেকে অভিযুক্ত হিন্দু যিবুকদের গ্রেফতার করা হলে হিন্দু সম্প্রদায় অসন্তুষ্ট হতে পারে। 
উল্লেখ্য, স্পেশাল পুলিশ কমিশনারের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন সাহিল পারভেজ ও মুহাম্মদ সাইদ সালমানি নামে দুই ব্যক্তি যাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাঙ্গায় হত্যা করা হয়েছিল। সেখানে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন– এই ধরনের নির্দেশ দিল্লি পুলিশে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেয়। উল্লেখ্য পারভেজের বাবাকে দাঙ্গায় হত্যা করা হয়েছিল। আর সালমানির মাকে তাঁদের বাড়িতেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। শুক্রবার মামলার শুনানিতে ভিডিয়ো কনফারেন্স মারফৎ হাজির ছিলেন পুলিশকর্তা প্রবীন রঞ্জন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি খুব শুরুতেই এটা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছি যে, এটি একটি গোয়েন্দা মারফৎ পাওয়া ইনপুট। যা আমরা কোনও সংস্থার মাধ্যমে পেয়েছি। এই গোয়েন্দা ইনপুটগুলিই সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল। স্পেশাল সিপি গোয়েন্দা সংস্থাও ...। সংবাদপত্রে যেটা বলা হয়েছে,একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের স্বার্থে এটি জারি করা হয়েছিল,আমাদের উদ্দেশ্য সেটা ছিল না। উল্লেখ্য– ৭ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only